chattolarkhabor
চট্টলার খবর - খবরের সাথে সারাক্ষণ

১৬নং চকবাজার ওয়ার্ডের হালচাল পরিবর্তনের খোঁজে ভোটাররা

শিক্ষার প্রাণকেন্দ্রে বখাটে-মাদকের ক্ষত

চট্টগ্রামের ঐতিহ্য, উচ্চশিক্ষা আর ব্যবসার এক অনন্য মোহনা চসিক ১৬নং চকবাজার ওয়ার্ড। ২ দশমিক ৪ বর্গকিলোমিটারের এই ছোট্ট জনপদে পা রাখলেই চোখে পড়ে এক বৈপরীত্যের ছবি। একদিকে চট্টগ্রাম কলেজ, মহসিন কলেজ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের মতো প্রাচীন ও স্বনামধন্য বিদ্যাপীঠের শিক্ষার্থীদের কলকাকলি, চন্দনপুরা মসজিদের রঙিন গম্বুজ আর অলি খাঁ মসজিদের মুঘল স্থাপত্যের আভিজাত্য। অন্যদিকে, একটু বৃষ্টিতেই কোমর পানিতে ডুবে যাওয়া রাস্তা, ফুটপাত দখল করে বখাটেদের আড্ডা আর তীব্র যানজটের এক চেনা নরকযন্ত্রণা।

আসন্ন চসিক নির্বাচনকে সামনে রেখে এই ‘এডুকেশন হাব’-এ এখন বইছে আগাম নির্বাচনী হাওয়া। ভোটারদের মনে যেমন রয়েছে ক্ষোভ, তেমনই সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতিতে উত্তাল চায়ের টেবিল। প্রায় ১ লাখ ১৬ হাজার ৯৯৮ জন জনসংখ্যা এবং ৩২ হাজার ৪২ জন সচেতন ভোটারের এই ওয়ার্ডে এবার মূল লড়াইয়ের সুরটি গড়ে উঠছে সামাজিক নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকার আদায়ের দাবিতে।
সরেজমিন চিত্র: চকবাজারের এ ওয়ার্ডটি যেন আলোর নিচে অন্ধকারের গল্প। চকবাজার মোড় কিংবা গুলজার টাওয়ারের সামনে দাঁড়ালেই বোঝা যায় এই এলাকার ব্যস্ততা। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও রোগীদের পদচারণায় দিন-রাত মুখর থাকে এই অঞ্চল। কিন্তু এই জৌলুসের আড়ালে লুকিয়ে আছে বাসিন্দাদের নিত্যদিনের দীর্ঘশ্বাস।
স্থানীয় বাসিন্দাদের বড় অভিযোগ ঐতিহ্যবাহী চকবাজার এখন বখাটে ও মাদকের যন্ত্রণায় জর্জরিত। এলাকার বিভিন্ন স্থানে চোখে পড়ে বখাটে যুবকদের প্রকাশ্য আড্ডা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, চট্টগ্রাম কলেজ এলাকার আশপাশের এই সুন্দর ফুটপাত দিয়ে যাতায়াত করার সময় সিগারেটের ধোঁয়ায় চরম অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। কেউ এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করলে উল্টো বখাটেদের রোষানল ও আক্রমণের শিকার হতে হয়। কাছেই চকবাজার থানা, অথচ এই প্রকাশ্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও মাদকের সিন্ডিকেট কীভাবে বহাল আছে বুঝতেই পারি না।
এর সাথে যোগ হয়েছে অপরিকল্পিত কাঁচাবাজার, হকারদের ফুটপাত দখল এবং যত্রতত্র রিকশা-টেম্পো পার্কিং। যার ফলে গুলজার টাওয়ারের চারপাশের সড়কগুলোতে সবসময় তীব্র যানজট লেগে থাকে। শুধু তাই নয়, জয়নগর ও দেবপাহাড়ের মতো আবাসিক এলাকায় নিয়মিত ওয়াসার পানির সংকট এবং দিনের একটি বড় সময় পানি থাকেনা। আর বর্ষা এলে কাপাসগোলা,কাতালগঞ্জ, ফুলতলা, ধুনীয়ার পুল ও চমেক হাসপাতালের সামনের রাস্তা হাঁটু থেকে কোমর পানিতে তলিয়ে যাওয়া এখানে এক অলিখিত নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এমন পরিস্থিতির মধ্যে ওয়ার্ডে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। জামায়াতের একক প্রার্থী, বিএনপিতে হেভিওয়েটের প্রার্থীর ছড়াছড়িতে জমজমাট পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
রাজনৈতিক মাঠের খবর বলছে, এই ওয়ার্ডে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একক প্রার্থী নিয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। দলটির পক্ষ থেকে বিশিষ্ট সমাজসেবক মোহাম্মদ ইলিয়াছ একক প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন বলে জোরালো গুঞ্জন রয়েছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) রয়েছে একাধিক হেভিওয়েট প্রার্থীর ছড়াছড়ি। মনোনয়ন দৌড়ে শেষ পর্যন্ত কার হাতে প্রতীক উঠবে, তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

সম্ভাব্য প্রার্থীরা প্রত্যেকেই মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন এবং এলাকার মূল সমস্যাগুলো সমাধানে নিজস্ব পরিকল্পনা ও বক্তব্য তুলে ধরছেন।
জামায়াতে ইসলাম ‘র একক কাউন্সিলর পদপ্রার্থী ও সমাজসেবা সম্পাদক, চকবাজার থানা মোহাম্মদ ইলিয়াছ বলেন, “চট্টগ্রামের শিক্ষার অন্যতম প্রাণকেন্দ্র হলেও এখানকার বাসিন্দারা দীর্ঘকাল ধরে নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। জলাবদ্ধতা, তীব্র যানজট ও মাদকের বিস্তার এই এলাকার মূল সমস্যা। আমি একজন স্থানীয় সন্তান হিসেবে মানুষের এই দুর্ভোগ খুব কাছ থেকে দেখেছি। ইসলাম আমাদের শিখিয়েছে, জনগণের নেতাই হলেন তাদের প্রকৃত সেবক। তাই কোনো ব্যক্তিস্বার্থ বা পদের মোহ থেকে নয়, বরং আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে মানবসেবা এবং চকবাজারকে একটি আধুনিক, নিরাপদ ও মডেল ওয়ার্ড হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েই আমি প্রার্থী হয়েছি। জলাবদ্ধতা দূর করতে জোড়াতালির উন্নয়ন দিয়ে হবে না। প্রথম কাজ হবে চাক্তাই খালসহ ওয়ার্ডের সবকটি নালা-নর্দমার অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা জুলুম ও অন্যায়ভাবে সম্পদ গ্রাস করতে নিষেধ করেছেন। তাই খালের জায়গা দখল করে যারা জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করছে, তাদের কঠোরহস্তে দমন করা হবে এবং বর্ষার আগেই নালাগুলো পুরোপুরি খনন করা হবে।
মোহাম্মদ ইলিয়াছ আরো বলেন, যানজট নিরসনে ট্রাফিক বিভাগের সাথে সমন্বয় করে সুনির্দিষ্ট রুট চালু এবং ফুটপাত সম্পূর্ণ হকারমুক্ত করে পথচারী ও শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে, যাতে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ অনুযায়ী মানুষের চলাচলের রাস্তা নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ হয়। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুরো ওয়ার্ডকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে। কিশোর গ্যাং ও ইভটিজিং প্রতিরোধে এলাকাবাসীকে নিয়ে প্রতিরোধ কমিটি গড়া হবে। ইসলামে মাদককে সকল অপকর্মের মূল বা ‘উম্মুল খাবায়েস’ বলা হয়েছে। তরুণ সমাজকে এই ধ্বংস থেকে বাঁচাতে মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান থাকবে জিরো টলারেন্স। যুবসমাজকে সৎ ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে তরুণদের জন্য খেলার মাঠ ও পাঠাগার সংস্কার করা হবে। সম্মানিত ভোটারদের প্রতি আহ্বান—আপনারা এবার পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিন। ইসলামে আমানতদারিতাকে ঈমানের অংশ বলা হয়েছে। আপনারা আমাকে সুযোগ দিলে একটি সৎ, দুর্নীতিমুক্ত, ইনসাফভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক ওয়ার্ড প্রশাসন উপহার দেব, ইনশাআল্লাহ।”
প্রবীণ নেতা ও সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি এ কে এম সালাউদ্দিন কাউসার লাবু বলেন, “আমার রাজনীতিতে আসা সেই স্বৈরাচার শাসক এরশাদের সময়, ছাত্র রাজনীতির মাধ্যমে আমার হাতেখড়ি। বিগত সরকারের সময় খুব নির্যাতিত হয়েছি, ঘরে ঘুমাতে পারিনি। অতীতে ১২টি মামলা খেয়েছি, কত মার-মামলা তার শেষ নেই। এর মধ্যেও মানুষের পাশে থেকেছি। বৈশ্বিক করোনাকালে যখন কোনো মানুষ মৃত্যুর ভয়ে ঘর থেকে বের হচ্ছে না, তখন নিজের সর্বোচ্চ দিয়ে ওয়ার্ডের এবং ওয়ার্ডের বাইরের মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে খোঁজখবর রেখেছি। যার ঘরে খাবার নেই খাবার পৌঁছে দিয়েছি, অসুস্থকে হাসপাতালে নিয়েছি এবং দাফন-কাফন করেছি। সামাজিক কর্মকাণ্ড শুধু ক্ষমতায় থাকলেই করা যায় তা নয়, ক্ষমতার বাইরে থেকেও আমি তা করার চেষ্টা করেছি। তবে ক্ষমতায় থেকে যা অনায়াসে করা যায়, তা বাইরে থেকে করা যায় না।
তিনি আরো বলেন, এই ওয়ার্ডে কিশোর গ্যাং ও মাদকের ছড়াছড়ি নিয়ে আমি প্রতিবাদ করি, কিন্তু সবসময় পুলিশ আমাদের কথায় কাজ করে না। ক্ষমতায় বসলে এগুলোর সমাধান করা সম্ভব। তাই নির্বাচিত হলে আমার প্রধান কাজ হবে মাদক ও কিশোর গ্যাং নির্মূল করা। শিক্ষাজোনটি উন্নত হলেও নিরাপদ নয়, তাই দূর-দূরান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাই। দলের দুর্দিনে যখন কোনো নেতাকর্মী পাশে ছিল না, আমি তখন দলের পক্ষে নির্বাচনে দাঁড়াই। কাউন্সিলর মিন্টু মারা যাওয়ার পর উপ-নির্বাচনেও অংশগ্রহণ করি। নির্বাচিত হলে তীব্র ট্রাফিক জ্যাম নিরসনে কাজ করব, ভাঙা রাস্তা সংস্কার ও প্রশস্ত করব। এখানে দূর-দূরান্তের মানুষের জন্য কোনো পাবলিক টয়লেট নেই, আমি পাবলিক টয়লেট করতে চাই। বর্তমান কবরস্থানটি জনসংখ্যার তুলনায় ছোট। একটি গণকবরের ব্যবস্থা করব এবং শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের বসার জন্য ছায়াযুক্ত স্থানের ব্যবস্থা করব। আমি একটি ‘গ্রীণ সিটি, হেল্দী সিটি’ দেখে যেতে চাই। আর প্রতিদ্বন্দ্বীদের উদ্দেশ্যে বলব আমি বা যে-ই নির্বাচিত হোক না কেন, দলবল নির্বিশেষে তাদের সাথে নিয়ে ওয়ার্ডের উন্নয়নে কাজ করব। তাদের প্রতিপক্ষ নয়, বন্ধু মনে করি।”
১৬নং চকবাজার ওয়ার্ড বিএনপ ‘র সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম এ হালিম বাবলু বলেন, “দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে রাজনীতি করছি। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আমার বিরুদ্ধে ১৬টি মামলা হয়েছে এবং ৫ বার জেল খেটেছি। অনেক অত্যাচার-জুলুমের শিকার হয়েও দলকে ভালোবেসেছি এবং দলের জন্য জীবন দিতে পারি। আগামী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রধান কারণ—এই ওয়ার্ডটি শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বেশ গুরুত্বপূর্ণ এবং এখানে মানুষের জন্য কাজ করার অনেক সুযোগ আছে। বিগত সরকারের আমলে ওয়ার্ডটি অবহেলিত ছিল, তাই একে নতুন করে ঢেলে সাজাতে হবে যেন শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে কোনো সমস্যা না থাকে। দেশের বিভিন্ন স্থানের মানুষ এখানে এসে থাকেন। চিকিৎসা খাতে দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষ যেন ভোগান্তির শিকার না হন এবং সঠিক সেবা পান, সেদিকে বিশেষ নজর রাখব। শিক্ষা ক্ষেত্রে কিছু অসংগতি আছে, যেমন কিছু আলো-আঁধারি হোটেল-রেস্তোরাঁ আছে, সেগুলোকে কঠোরভাবে দমন করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, ফুটপাত দখল করে হকাররা ব্যবসা করায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছুটি হলে মানুষ বা যানবাহন চলাচল করতে পারে না। হকারদের একেবারে তুলে না দিয়ে একটি নীতিমালার মধ্যে এনে সময় নির্ধারণ করে দেব। এলাকাকে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত করব, রাস্তার লাইটিং ব্যবস্থা ঠিক করব এবং আইল্যান্ডগুলোকে সবুজায়ন দিয়ে ভরিয়ে তুলব। কাউন্সিলর অফিসে ভোগান্তিহীন ‘ওয়ানস্টপ সার্ভিস’-এর ব্যবস্থা করব যেন কাগজপত্র ঠিক থাকলে দ্রুত সমাধান পাওয়া যায়।
হালিম বাবলু বলেন, এই ওয়ার্ডে জামায়াতের একটি শক্ত অবস্থান আছে, তাই আমি চাই এখানে বিএনপি একক প্রার্থী দিক। বিএনপি থেকে আমি বা যিনিই নমিনেশন পাবেন, আমি তাঁর হয়েই ভোট করব। যদি একাধিক প্রার্থী দেওয়া হয়, তবে আমি সরে যাব। সরকার ও দলের এই ওয়ার্ডটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা উচিত।”
সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, চকবাজার থানা ছাত্রদল ও নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক নুরুল আলম শিপু বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আমলে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে বহুবার কারাবরণ করতে হয়েছে। দলের প্রতি আমার আনুগত্য, ত্যাগ ও অবদানের যথাযথ মূল্যায়ন হবে বলে আমি বিশ্বাস করি। রাজনৈতিক জীবনে আমি চকবাজার থানা ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি এবং পরবর্তীতে নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সম্পাদক হিসেবেও কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। রাজনীতির পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক সংগঠনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত আছি; বর্তমানে বহদ্দারহাট হক মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হিসেবে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছি। আমার রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয় ছাত্রদলের মাধ্যমে। ২০০০ সালে কাপাসগোলা ইউনিট ছাত্রদলের সভাপতি, ২০০৭ সালে ১৬নং চকবাজার ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি এবং ধারাবাহিক সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৬ সালে চকবাজার থানা ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করি। দীর্ঘ এই যাত্রায় সংগঠনের আদর্শ বাস্তবায়নে সর্বদা নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে কাজ করেছি এবং ভবিষ্যতেও জনগণ ও দলের সেবায় আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সুযোগ পাব বলে বিশ্বাস করি।”
চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ জাবেদ হোসেন জুবায়ের বলেন, দীর্ঘদিন ছাত্র রাজনীতির সাথে জড়িত থাকার সুবাদে সমাজের দরিদ্র, হতদরিদ্র ও প্রতিবন্ধীদের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি। চকবাজারের এই ওয়ার্ডেই আমার জন্ম ও বেড়ে ওঠা, তাই প্রতিটি অলিগলি ও সমস্যা আমার খুব জানা। বিগত সরকারের আমলে যারা ক্ষমতায় ছিল, তারা সাধারণ মানুষের উন্নয়ন না করে শুধু নিজেদের উন্নতির জন্য চাঁদাবাজি, ক্ষমতার দাপটে মারামারি, হানাহানি ও দখলবাজিতে ব্যস্ত ছিল। তারা কিশোর গ্যাংয়ের আধিপত্য এমনভাবে বিস্তার করেছে যা এখনো সুযোগ পেলেই মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে। আমি ছাত্র রাজনীতি থেকে এসেছি এবং জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় ছিলাম। বিগত সরকারের আমলে ৪টি মামলার আসামি ছিলাম, নিজে লুকিয়ে থাকার পাশাপাশি পরিবারকেও নানা হয়রানির মুখে পড়তে হয়েছে।
জাবেদ হোসেন জুবায়ের আরো বলেন, এবার একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে অংশ নিয়ে অতীতের সব সমস্যা নিমিষেই দূর করে এলাকাবাসীকে সুন্দর গঠনমূলক ওয়ার্ড উপহার দিতে চাই। রাজনীতিতে যত তরুণ মুখ আসবে, রাজনীতি ততই এগিয়ে যাবে। আমি তরুণদের নিয়ে সমাজ সংস্কার করতে চাই। শিক্ষা ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই ওয়ার্ডের শিক্ষার্থীদের জন্য সুপেয় পানির ব্যবস্থা করব ও ভয়ভীতিহীন নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করব। অতীতে প্রধান দুটি কলেজ—চট্টগ্রাম কলেজ ও মহসিন কলেজের শিক্ষার্থীদের কোন্দল লেগে থাকত, এ বিষয়ে বিশেষ নজর দেব। আমি চাই না রাজনীতিকে কেন্দ্র করে কোনো মায়ের বুক খালি হোক। কিশোর গ্যাং চিরতরে নির্মূল করব। এছাড়া জলাবদ্ধতা দূর করা এবং নালা-নর্দমা পরিষ্কার করা আমার প্রধান কাজের একটি। সরু রাস্তাগুলো বড় করতে চাই যেন অ্যাম্বুলেন্স যেতে পারে। রাস্তায় যত্রতত্র ছড়িয়ে থাকা ময়লা নিয়মের মধ্যে আনব এবং যানজটের স্থায়ী সমাধান করব। নারী শিক্ষার্থীরা যেন নিরাপদে যাতায়াত করতে পারে সেদিকে বিশেষ নজর দিয়ে একটি লাইব্রেরি ও অভিভাবকদের জন্য শীতল ছায়ার ব্যবস্থা করব।
১৬নং চকবাজার ওয়ার্ড বিএনপি আহ্বায়ক মো. মনজুর আলম মনজু বলেন, “১৭ বছরের রাজনৈতিক জীবন আমার। এই এলাকাতেই আমার বেড়ে ওঠা এবং এলাকার সমস্যাগুলো নাড়িনক্ষত্র আমার জানা। যদি দল নমিনেশন দেয়, তবে আমি একান্ত নিজের প্রয়োজন মনে করেই ওয়ার্ডের উন্নয়নের কাজ করব। আমি মুখে নয় বরং কাজে বিশ্বাসী। সমাজের মানুষের পাশে সবসময়ই ছিলাম, এখনো আছি এবং সামনেও থাকব। কাউন্সিলর নির্বাচনের একটি আগ্রহের জায়গা হলো এর মাধ্যমে সমাজের উন্নয়নে বড় পরিসরে কাজ করা যায়, যা কোনো দায়িত্বে না থাকলে বাধার কারণ হয়। যেমন এখন চাইলেও অনেক কাজ আমি করতে পারি না, কারণ ক্ষমতা বা রাষ্ট্র আমাকে সেই সুযোগ দেয়নি। এ কারণেই মূলত নির্বাচন করছি। আমি কাজ করতে চাই এবং ওয়ার্ডের মানুষকে দীর্ঘদিনের নাগরিক ভোগান্তি থেকে মুক্তি দিতে চাই। বিশেষ করে শিক্ষা ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে হবে।”
চকবাজার থানা ও ওয়ার্ড বিএনপি’র সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান চৌধুরী সাইমন বলেন, “সমাজের উন্নয়ন করতে হলে অবশ্যই একজন সৎ ও নেতৃত্বদানকারী গুণাবলীসম্পন্ন মানুষের প্রয়োজন। সাধারণ জনগণের জায়গা থেকে আমিও এমন একজন জনপ্রতিনিধি চাই বলেই নিজেকে সৎ, যোগ্য, পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক কর্মী ও নির্ভীক সমাজকর্মী হিসেবে তৈরি করেছি। আমি ১৬নং ওয়ার্ডের গণমানুষের সুখ-দুঃখের পরম সাথী। দেশের অনেক দুঃসময়ে এলাকার মানুষের পাশে ছিলাম, ভবিষ্যতেও থাকব। চকবাজারকে একটি আধুনিক, মাদক ও চাঁদাবাজমুক্ত ওয়ার্ড হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই আমি নির্বাচনে আগ্রহী। এলাকার উন্নয়নে নাগরিক সেবা ডোর টু ডোর পৌঁছে দেওয়া আমার মূল লক্ষ্য। ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, নিরাপদ পানির সংকট দূরীকরণ এবং পরিকল্পিত কাজের মাধ্যমে কিশোর গ্যাং নির্মূল করতে চাই। ৫ আগস্টের আগে ও পরে সনাতনীদের মন্দির ও বাড়িঘর পাহারা দিয়েছি, ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে কাজ করেছি এবং ভবিষ্যতেও করব। বিএনপির রাজনীতি করতে গিয়ে অতীতে পুলিশের নির্যাতনের শিকার হয়েছি, তাই নির্যাতিতদের কষ্ট বুঝি। দল নমিনেশন দিলে এবং নির্বাচিত হলে এমন হয়রানি আমার ওয়ার্ডের কোনো মানুষকে হতে দেব না। কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে কঠোর দায়িত্ব পালন করব এবং চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারি চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে থেকে অভিযান চালাব।”
চকবাজারের সচেতন সুশীল সমাজ ও সাধারণ ভোটারদের দাবি একটাই যিনিই আগামীতে কাউন্সিলর নির্বাচিত হোন না কেন, তাঁকে দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করতে হবে। ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মর্যাদা রক্ষা করা, কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য বন্ধ করা, জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান এবং ফুটপাতগুলোকে সাধারণ মানুষের চলাচলের উপযোগী ও নিরাপদ করাই হবে নতুন জনপ্রতিনিধির মূল দায়িত্ব। এখন দেখার বিষয়, আগামী চসিক নির্বাচনে চকবাজারের উচ্চশিক্ষিত ও সচেতন ভোটাররা শেষ পর্যন্ত কার ওপর আস্থা রাখেন।

এই বিভাগের আরও খবর