chattolarkhabor
চট্টলার খবর - খবরের সাথে সারাক্ষণ

চকরিয়ায় ৫০০ বন্যার্ত পরিবারের পাশে আইএসডিই বাংলাদেশ

কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভার সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫০০ পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা বিতরণ করেছে আইএসডিই বাংলাদেশ। 

শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেল ২টায় চকরিয়া কোরক বিদ্যাপীঠ প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নির্বাচিত সুবিধাভোগীদের হাতে খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।

সৌদি আরবের কিং সালমান হিউম্যানিটারিয়ান এইড অ্যান্ড রিলিফ সেন্টার (KSrelief)-এর অর্থায়নে পরিচালিত এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে আইএসডিই বাংলাদেশ। আয়োজকরা জানান, সাম্প্রতিক বন্যা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে সংকটে পড়া নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার। বিশেষ অতিথি ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুপায়ন দেব।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন চকরিয়া পৌরসভা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহিম, শহীদুল ইসলাম, নাছির উদ্দীন, সমাজসেবক লায়ন জিয়াউল করিম, মনসুর আলম, ব্যবসায়ী শামসুদ্দিন টিটুসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

আইএসডিই বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন কর্মসূচি সমন্বয়কারী জাহাঙ্গীর আলম, উপজেলা ব্যবস্থাপক জালাল উদ্দীন, প্রজেক্ট অফিসার সুপম বড়ুয়া এবং প্রজেক্ট অফিসার (মিল) তাজ উদ্দীন।

অনুষ্ঠানে ইউএনও শাহীন দেলোয়ার বলেন, “প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো সবার দায়িত্ব। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর মানবিক সহায়তা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দুর্ভোগ লাঘবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।”

সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুপায়ন দেব বলেন, “সুবিধাভোগীদের তালিকা অনুযায়ী স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খলভাবে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। এ ধরনের উদ্যোগ সংকটকালীন সময়ে মানুষের মধ্যে আস্থা ও স্বস্তি তৈরি করে।”

আইএসডিই বাংলাদেশের কর্মসূচি সমন্বয়কারী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “মানবিক সংকটে থাকা মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের অঙ্গীকার। স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় আমরা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কাছে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দিতে পেরেছি। ভবিষ্যতেও প্রয়োজনভিত্তিক মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”

তিনি জানান, প্রতিটি পরিবারকে ১০ কেজি চাল, ৭ কেজি ডাল, ৩ লিটার সয়াবিন তেল, ১ কেজি চিনি এবং ১ কেজি লবণ সমন্বয়ে একটি খাদ্য প্যাকেজ প্রদান করা হয়েছে।

আয়োজকদের মতে, বন্যা-পরবর্তী সংকট ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সময়ে এই সহায়তা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য উল্লেখযোগ্য স্বস্তি বয়ে আনবে।

খাদ্য সহায়তা পেয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন সুবিধাভোগীরা। তারা জানান, বন্যার কারণে অনেক পরিবারের আয়-রোজগার ব্যাহত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে এই খাদ্য সহায়তা তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে এবং অন্তত কিছুদিনের জন্য খাদ্যসংকটের চাপ কমাবে।

আইএসডিই বাংলাদেশ জানায়, এর আগে হোস্ট কমিউনিটির বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চল এবং রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে প্রায় ৫৫ হাজার সুবিধাভোগীর মধ্যে খাদ্য সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে। সংস্থাটি ভবিষ্যতেও দুর্যোগ ও মানবিক সংকটে থাকা মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।

 

মআ/চখ

এই বিভাগের আরও খবর