chattolarkhabor
চট্টলার খবর - খবরের সাথে সারাক্ষণ

খাদের কিনারে উন্নয়ন: জেগে উঠছে ওয়াসা

আগ্রাবাদে চট্টগ্রাম ওয়াসার পয়োনিষ্কাশন প্রকল্পে মাটিচাপা পড়ে দুই শ্রমিক নিহতের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর টনক নড়েছে সংস্থাটির। নগরজুড়ে চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের খননকাজে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি রোধে কঠোর নজরদারি ও নতুন নীতিমালা ঘোষণা করেছে চট্টগ্রাম ওয়াসা।

গত ২২ এপ্রিল দিবাগত রাত ৩টার দিকে নগরীর আগ্রাবাদ বি-ফোর এক্সেস রোড এলাকায় পাইপ বসানোর জন্য পরীক্ষামূলক গর্ত খনন করছিল চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এ সময় প্রায় আড়াই মিটার গভীর মাটি ধসে পড়ে মো. রাকিব (৩০) ও মো. আইনুল ইসলাম (২২) নামে দুই শ্রমিক প্রাণ হারান। আহত হন আরও দুইজন।

তদন্ত কমিটির প্রাথমিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওয়াসার অনুমতি না নিয়েই রাতের অন্ধকারে ঝুঁকিপূর্ণ ওই কাজ শুরু করেছিল। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা সরঞ্জাম ও শ্রমিকদের প্রশিক্ষণের অভাবকেও এই দুর্ঘটনার বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

দুর্ঘটনার তীব্র সমালোচনার মুখে চট্টগ্রাম ওয়াসা প্রকল্প এলাকায় বেশ কিছু পরিবর্তন এনেছে।

সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এখন থেকে নিম্নোক্ত নিয়মগুলো কঠোরভাবে মানতে হবে। ওয়াসা কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত সময়সূচি ও অনুমতি ছাড়া কোনো প্রকার খননকাজ শুরু করা যাবে না। প্রতিটি কাজের জন্য নির্দিষ্ট সিডিউল মানতে হবে এবং প্রতিটি ধাপে কাজের মান ও নিরাপত্তা তদারকি করবে ওয়াসা। শ্রমিকদের জন্য প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই) নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক। নিয়মের ব্যত্যয় ঘটালে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মোটা অঙ্কের জরিমানা ও কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম বলেন, “ঠিকাদার আমাদের না জানিয়ে অসতর্কভাবে কাজ শুরু করায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। এখন থেকে আমাদের নির্ধারিত সিডিউল ছাড়া কোনো কাজ করা যাবে না। প্রতিটি কাজের আগে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নকারী চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অনুমতি ছাড়াই গভীর রাতে খননকাজ শুরু করেছিল। এতে ঝুঁকি বেড়ে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটে।

দুর্ঘটনার দিন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন ও শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় জরুরি বিভাগের কাচ ভাঙচুরের অভিযোগে ছয়জনকে পুলিশ আটক করলেও পরবর্তীতে মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

নগর পরিকল্পনাবিদ ও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চট্টগ্রাম নগরীতে বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় বারবার নিরাপত্তা অবহেলার অভিযোগ উঠছে। তাই কাগজ-কলমে কঠোর নির্দেশনার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে নিরপেক্ষ মনিটরিং এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত না করলে এমন মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা কঠিন হবে।

তাসু/চখ

এই বিভাগের আরও খবর