chattolarkhabor
চট্টলার খবর - খবরের সাথে সারাক্ষণ

বাবার দেওয়া একটি গরু থেকে সফল খামারি দুই ভাই

বাবার দেওয়া মাত্র একটি গরু দিয়েই যাত্রা শুরু। সেই ছোট্ট উদ্যোগ আজ পরিণত হয়েছে একটি সফল ডেইরি ও গবাদিপশুর খামারে। অদম্য পরিশ্রম, ধৈর্য ও দৃঢ় মনোবলের মাধ্যমে সফলতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন আপন দুই ভাই জাকারিয়ালিয়াকত আলী করিম

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার বড় উঠান ইউনিয়ন ৪ নং ওয়ার্ডের কবির চৌধুরীর বাড়ি প্রকাশ বড় বাড়ির বাসিন্দা এই আপন দুই ভাই পরিচালনা করছেন রিজিয়া ডেইরি ফার্ম-১ ও রিজিয়া ডেইরি ফার্ম-২ নামে দুটি খামার। ২০০৬ সালে তাদের বাবা একটি গরু উপহার দেন। সেই গরুকেই পুঁজি করে ভবিষ্যতের স্বপ্ন বুনতে শুরু করেন তারা।

জানা যায়, ২০০৮ সালে তারা ব্র্যাক ব্যাংক থেকে ৪ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে ১২টি গরু ক্রয় করেন। তখন তাদের খামারে মোট গরুর সংখ্যা দাঁড়ায় ২০টি। ধীরে ধীরে খামারের পরিধি বাড়তে থাকে। ২০১৪-১৫ সালের দিকে গরুর সংখ্যা প্রায় ৭০টিতে উন্নীত হয়।

তবে পথচলা সবসময় মসৃণ ছিল না। ২০১৮ সালে খামারে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসে। বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে ২০টি গরু মারা যায়। পরবর্তীতে আরও ১৩টি গরু হারিয়ে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন তারা। কিন্তু হতাশ না হয়ে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যান।

২০২০ সালে কৃষি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে পুনরায় খামার সম্প্রসারণ শুরু করেন দুই ভাই। তাদের কঠোর পরিশ্রমের ফলও আসে দ্রুত। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৪টি ষাঁড় গরু বিক্রি করে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা আয় করেন। ২০২৪-২৫ সালে ৪৫টি গরু বিক্রি করেন। ২০২৫-২৬ সালে ৫৫টি গরু বিক্রি করে প্রায় ৯৬ লাখ টাকা আয় করেন তারা।

বর্তমানে রিজিয়া ডেইরি ফার্মে রয়েছে ৩০টি দুধেল ও পালনযোগ্য গরু, ৬টি ষাঁড়, ৮টি বাছুর এবং ১১টি মহিষ, ৬ টি ছাগল ও একটি ভেড়া রয়েছে । খামারে স্থায়ীভাবে ৩ জন কর্মচারী কাজ করেন, যাদের প্রত্যেককে মাসিক প্রায় ২০ হাজার টাকা করে বেতন দেওয়া হয়।

খামারের খাদ্য ব্যবস্থাপনাও বেশ উন্নত। গবাদিপশুকে খৈল, সয়াবিন, গমের ভূষি, আটা কুঁড়া, হারবাল ফিড, মোটর ভূষি, টক্সিন বাইন্ডার, লবণ, খাবার সোডা, কাঁচা ঘাস ও শুকনো খড় খাওয়ানো হয়। অধিকাংশ খাদ্য উপকরণ নিজেরাই সংগ্রহ ও প্রস্তুত করেন।

খামারের কর্মচারীরা জানান, আধুনিক পদ্ধতিতে পরিচর্যা ও নিয়মিত চিকিৎসা সেবার কারণে খামারের গবাদিপশু সুস্থ থাকে। তারা দীর্ঘদিন ধরে এই খামারে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন।

খামারি জাকারিয়া ও লিয়াকত আলী করিম বলেন, “শুরুতে অনেক কষ্ট ছিল। রোগে গরু মারা যাওয়ায় বড় ক্ষতির মুখে পড়েছিলাম। কিন্তু হাল ছাড়িনি। পরিশ্রম ও সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছি। এখন খামারটি আমাদের পরিবারের পাশাপাশি কয়েকজন মানুষের কর্মসংস্থানেরও উৎস হয়ে উঠেছে।” আমাদের নতুন আরো একটি ফার্মের কাজ চলতেছে। পরবর্তীতে আমাদের ভাই হারুন, নজরুল ও জলিল ও যুক্ত হোন।

স্থানীয়রা মনে করেন, বাবার দেওয়া একটি গরু থেকে শুরু করে আজকের এই সফলতা নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে থাকবে।

ফরিদা|চখ

এই বিভাগের আরও খবর