চট্টগ্রামে গরুর হাটে মানুষ বেশি, বিক্রি কম
চট্টগ্রামে গরুর বাজারে উৎসবের আমেজ। ক্রেতারা ব্যাপক উৎসবের আমেজ নিয়ে পশু কিনছেন। নগরীর ৮টি পশুর হাটে একটু পরপর মাইকে ভেসে আসছে নানান মজার ঘোষণা। গরীবের গরু ৪৫ হাজার থেকে শুরু হয়ে ধনীর ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত দাম হাকা হচ্ছে। স্বস্তির নি:স্বাস সবার মধ্যে। কখনো কখনো বিপত্তি গরু কেনার আনন্দে তেমন ছাপ ফেলছে না। জমজমাট হাটে হাটে উৎসবের আবহ। বিকিকিনি করে ক্রেতা বিক্রেতার মুখে বিশ্বজয়ের হাসি।
কর্ণফুলী মজ্জ্যারটেক বাজার থেকে সোমবার মাঝারি আকারের একটি গরু কিনলেন প্যারামাউন্ট সিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাওশেদ আলম। ৯০ হাজার টাকা দিয়ে কেনা গরুর দাম মেটালেন আনন্দ নিয়ে। তাঁর কাছে গরুটি বিক্রি করা সাতকানিয়ার ওহিদুল আলম বললেন,‘দাম মোটামুটি পেয়েছেন। এবার গরুর সরবরাহ কম থাকায় গতবারের চেয়ে গরুর দাম একটু বেশি।’
বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানাগেছে, বড় বা ছোট নয়,মাঝারি আকারের গরুর দিকেই ক্রেতাদের ঝোঁক বেশি। এ ধরণের গরু হাট ভেদে ৪৫ হাজার থেকে ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এর চেয়ে সামান্য বড় গরু ৭০ থেকে ৮৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয়।
গতকাল সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মই্জ্জ্যারটেক বাজারে ঘুরে দেখা গেছে, উৎসবের আমেজ। ক্রেতারা সানন্দে পশু কিনছেন। হাটে প্রবেশ পথে পুলিশ-র্যাবের পাহারা। তবে রাস্তায় তীব্র যানজটের কারণে ক্রেতারা-বিক্রেতাদের কষ্টের অন্ত নেই। এছাড়া বাজারে পশু আনতে পথে পথে চাঁদাবাজি হচ্ছে বলে বিক্রেতাদের অভিযোগ।
চট্টগ্রাম গবাদী-পশু ব্যবসায়ী সমিতির অফিস সেক্রেটারি কাজী আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘গত বছর সাগরিকা বাজারে এক লাখের বেশি গরু বিক্রি হয়েছিল। এই বছরও তার চেয়ে বেশি গরু বিক্রির টার্গেট আছে।’
চকবাজার থানা ছাত্রদলের সভাপতি নুরুল আলম শিপুও বড় গরু কিনেছেন। তাঁর সঙ্গে আছে তার ভাই নুর মোস্তাফা টিনু, চাচাত ভাইরা। তারা জানালেন, গরু কেনার আনন্দ অন্য রকম। গরুটির বিক্রেতা কালু মিয়া জানালেন,এবার দাম একটু চড়া।
সাগরিকা হাটে গরুর পাশাপাশি ছাগল,দুম্বা,উটও বিক্রি হচ্ছে। হাটহাজারীর আব্দুল মালেক পাঁচটি ছাগল বিক্রি করতে এসেছেন। জানালেন,চার বছর ধরে লালন-পালন করা ছাগল পাঁচটি বিক্রি করতে চান ৫০ হাজার টাকা। অপেক্ষা করছেন কাঙ্খিত ক্রেতার।
সাগরিকা বাজারের পাশে আকবর মামার বাজারে সবচেয়ে দামি গরু উঠেছে। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে এসেছে এখানে গরু। আকবর মামা এ প্রসঙ্গে বলেন,‘দূরদুরান্ত থেকে এবার গরু এসেছে বেশি। বেচাকেনাও ভাল। বাজারের সার্বিক পরিবেশ ভাল থাকায় গরুর বিক্রেতাও খুশি।’
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম নগরে স্থায়ী দুটি হল সাগরিকা ও বিবিরহাট। অস্থায়ী হাটগুলো হলো সাগরিকা রোডস্থ বশর মামার গরুর বাজার। গতকাল দেখা গেছে, এ বাজারে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা, কুমারখালী , বালিয়া পাড়া, চাপাই নববাগঞ্জ, রাজশাহী নাটোর, কুড়িগ্রামসহ নাগেশ্বরীর বিখ্যাত গরু সমূহের সমাগম ঘটেছে। দূর থেকে এখানে ব্যবসায়ীরা মুনাফা লাভের আশার এসব গরু নিয়ে এসেছে। এছাড়া সাগরিকা রোড বশর স্টোরের পার্শে বিজয় বাবুর দোকানের পেছনে, পাঠান পাড়া গলির ভিতর বশর মামার গরুর বাজারেও জমে উঠেছে বিকিকিনি। কোরবানি উপলক্ষে কয়েকদিন আগে থেকে এ হাটগুলোতেও দেশের বিখ্যাত গরুগুলো ব্যবসায়ীরা নিয়ে আসছে। এদিকে কর্ণফুলী গরুর বাজার, স্টিল মিল বাজার, পতেঙ্গা সিটি করপোরেশন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ, সল্টগোলা রেলক্রসিং মাঠ, কমল মহাজন হাট ও পোস্তারপাড় বিদ্যালয় মাঠেও অস্থায়ি গরুর বাজার বসানো হয়েছে।
বিবিরহাট গরুর হাটের ইজারাদার মনিরুল হাছান রাজু নয়াদিগন্তকে বলেন, আগের কয়েকদিনের তুলনায় শনিবার ক্রেতাদের আনাগোনা বেড়েছে, বাড়ছে বিক্রিও। পাশাপাশি গত শুক্রবার থেকে বাজারে গরু আসতে শুরু করেছে বলেও জানান তিনি।
বন্দরনগরীর সবচেয়ে বড় বাজার সাগরিকা বাজারের ইজারাদার সাইফুল হুদা জাহাঙ্গীর বলেন, মহাসড়কে জ্যাম থাকায় শুক্রবার পর্যন্ত হাটে তেমন গরু আসেনি। তবে শুক্রবার সকাল থেকে হাটে অনেক গরু এসেছে। পাশাপাশি ক্রেতাদের ভিড়ও বেড়েছে।’
ব্যবসায়ীরা জানান, জালনোট শনাক্তকরণে পশুর হাটগুলোতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন ব্যাংকের ৫টি বুথ স্থাপনকরেছে। এ গুলো হল স্টিল মিল বাজার, কমল মহাজন হাট ও পতেঙ্গা সিটি করপোরেশন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ সহ অন্যান্য বাজারগুলো। এনসিসি ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক ও অগ্রণী ব্যাংকের বেশ কয়েকটি বুথ স্থাপন করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম গরু ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি বলেন, হাটগুলোতে ক্রেতা-বিক্রেতার উপস্থিতিতে এবার ব্যাপক বিক্রির কারণে হাটে হাটে উৎসবের আমেজ চলছে।
