chattolarkhabor
চট্টলার খবর - খবরের সাথে সারাক্ষণ

আত্মগোপনে থাকতে যোগ দেয় তাবলীগ-জামায়াতে!

নিজস্ব প্রতিবেদক:আত্মগোপনের কৌশল হিসেবে বেশভূষা পরিবর্তন করে লম্বা দাড়ি রেখে পরেন পায়জামা-পাঞ্জাবী। তাবলীগ জামাতের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নিজের নাম পরিবর্তন করে নারায়ণগঞ্জে পরিচয় দিতেন আব্দুর রহমান নামে। ভারতে পালানোরে চেষ্টা করে বিফল হোন। তবে আর শেষ রক্ষা হয়নি।

ছয় বছর পর অবশেষে হত্যা মামলার পলাতক আসামি মো.মুসা হোসাইনকে নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরেক আসামিকে চট্টগ্রামের বাদামতলী এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

বৃহস্পতিবার (২৪ মার্চ) বেলা ১১ টায় পিবিআইয়ের চট্টগ্রাম মেট্রো ইউনিটের পক্ষ থেকে এক সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।

গ্রেফতার আসামিরা হলেন, চাঁদপুর জেলার সদর থানার পৌরসভার অধ্যাপক পাড়ার আলহাজ্ব মো. হোসেনের ছেলে মো. মুসা হোসাইন (৪৭) ও একই জেলার ফরিদগঞ্জ থানার সুইবিদপুর এলাকার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মো.দেলওয়ার ছেলে মো.হাবিবুর রহমান সাজু (৪৬)।

পিবিআই জানায়, চাঁদপুর সদর থানার বাসিন্দা আসামি মুসা হোসাইন পেশায় একজন গাড়ি চালক। একই জেলার বাসিন্দা হওয়ায় মামলার অপর আসামি হাবিবুর রহমান সাজু নামে এক ঠিকাদারী ব্যবসায়ীর সঙ্গে তার বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। মুসা চাঁদপুর থেকে কোনো যাত্রী নিয়ে চট্টগ্রামে এলে সাজু ও ভুক্তভোগী মনসুর আহম্মদ নামে এক ব্যক্তিকে ফোন করতেন। মনসুর চাকরি করতেন বিএসআরএমএ। ফোন করার পর তারা চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ এলাকায় দেখা করতেন।

২০১৬ সালের ২৫ ডিসেম্বর বিকেল পাঁচটায় মুসা আগ্রাবাদের টিএন্ডটি কলোনীতে হাবিবুর রহমানের বাসায় যাওয়ার জন্য মনসরুকে ফোন করে। হাবিবের ফোন পেয়ে মনসুর তার বাসায় যায়। সেখানে ওয়ারড্রপের ওপর মনসুর একটি হট পটের ব্যাগ দেখতে পায়। ব্যাগটি পছন্দ হওয়ায় মনসুর ব্যাগটি খুলে দেখতে চায়। ওই সময় হাবিব ব্যাগটি খোলার পর সেখানে পিস্তল দেখতে পায়।

সেই পিস্তল মুসার হাত থেকে মনসুর পিস্তলটি হাতে নিয়ে নাড়াচাড়া করার সময় তার হাতের আঙ্গুল পিস্তলের ট্রিগারে লেগে তার বাম চোখে গুলিবিদ্ধ হয়। মুসা ও সাজু মনসুরকে চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে যায়।

সেখানে চিকিৎসককে মুসা ও সাজু জানিয়েছিল মনসুর চোখে পাথরের আঘাত পেয়েছে। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মনসুরের মারা যায়।এর পর থেকে মুসা ও সাজু পলাতক ছিলেন। ঘটনার ছয় মাস পরে মনসুরের স্ত্রী নগরীর হালিশহর থানায় একটি মামলা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার নাইমা সুলতানা বলেন, হত্যার পর আসামি মুসা ও হাবিব ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় পালিয়ে থাকেন। আত্মগোপনে থাকার সময় মুসা অবৈধভাবে ভারতের আগরতলায় অনুপ্রবেশ করে অবস্থান নেয়। কিন্তু তার নামে ভারতীয় পাসপোর্ট তৈরি করতে না পেরে পুনরায় বাংলাদেশে ফেরত আসে। নিজেকে আড়াল করতে লম্বা দাড়ি রেখে, পায়জামা পাঞ্জাবী পরে তাবলীগ জামাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। শেষমেষ কৌশল হিসেবে নারায়ণগঞ্জ জেলায় নিজের নাম পরিবর্তন করে আত্মগোপনে থাকেন। ব্যাপক গোয়েন্দা নজরদারির এক পর্যায়ে আসামি মুসার অবস্থান নিশ্চিতের পর নারায়ণগঞ্জ থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

আরকে/চখ

Leave A Reply

Your email address will not be published.