chattolarkhabor
চট্টলার খবর - খবরের সাথে সারাক্ষণ

অভিনব কৌশলে ডাকাতি করতো মনু সিন্ডিকেট

চট্টলা ডেস্ক: ভোর রাতে যাত্রী সেজে উঠে পড়েন মাইক্রোবাসে। গাড়িতে উঠার পর কেউ তসবি পড়েন, কেউবা ভদ্র সেজে বসে থাকেন। মাইক্রোবাসে যাত্রীদের এমন আচরণ দেখে গন্তব্যের জন্য সড়কে থাকা অপর যাত্রীরা সরল মনে মাইক্রোবাসে উঠেন।

বাস ছেড়ে দেওয়ার পর তসবি পড়া যাত্রীরা আলোচনা করেন ধর্মীয় বিষয়ে। কিন্তু দূর যাওয়ার পর ধর্ম নিয়ে আলোচনার করার ব্যক্তিদের আসল রুপ বেরিয়ে আসে। একজন যাত্রী সামনে নামবে বলে বাস থেকে নেমে পড়েন। এরপর দুইজন ডাকাত টার্গেট করা যাত্রীর অবস্থান নেয়। যাত্রীকে ভয়ভীতি ও মারধর করে নগদ টাকাসহ মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেয়।

এখানেই শেষ নয়, যাত্রীর মোবাইল ফোন ব্যবহার করে আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে হাতিয়ে নেয় ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা। জরুরি অবস্থায় ছিনতাই করে পালাতে প্রাইভেটকারে দেশীয় অস্ত্র রাখা হয়। অস্ত্রর মাধ্যমে ছিনতাই করলে সেদিন খুনের ঘটনাও ঘটে।

ছিনতাই শেষে ভুক্তভোগীর চোখে বিশেষ ধরনের মলম লাগিয়ে চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লার মধ্যবর্তী স্থানে ফেলে দিয়ে চলে যায়। মলম থাকায় অচেতন হয়ে পড়ে যাত্রীরা, সে সুযোগে ছটকে পড়েন ডাকাত দলের সদস্যরা।

অভিনব কৌশলে ডাকাতি ও অপহরণ করে আসা একটি সিন্ডিকেটের মূল হোতাসহ ডাকাতে দলের মহিলা সহযাগীকে আটক করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র্যাব)। এসময় তাদের কাছ থেকে একটি দু নলা বন্দুক, দুইট এলজি চার রাউন্ড কার্তুজ ও প্রাইভেট কার জব্দ করে।

সোমবার (১৭ জানুয়ারি) দুপরে নগরীর পাহাড়তলী থানার উত্তর কাট্টলীর খেজুরতলী জাইল্যাপাড়া ব্রীজের কাছ থেকে তাদের আটক করে। আটকরা হলেন, মো. সরোয়ার হোসেন জনি ওরফে মনু (৩৪), মো. রিপন (৩২) ও তাসলিমা বেগম (৩৬)। চক্রটি চট্টগ্রাম ফেনী মহাসড়কে প্রাইভেটকারে ব্যবহার করে দীর্ঘদিন করে ডাকাতি করে আসছিল।
র্যাব-৭ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) মো. নূরুল আবছার ডাকাত দলের সদস্যদের আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আটকের পর অভিযুক্ত ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে ডাকাতি করার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। এ দলের মূল হোতা মনুর বিরুদ্ধে খুন ও ডাকাতিসহ ১০ টি মামলা রয়েছেন। এছাড়া ডাকাত দলের সদস্য তাসলিমার স্বামী মিজানুর রহমান প্রকাশ চান মিয়া খুনসহ ডাকাতি মামলার আসামি বলে জানান র্যাবের এই কর্মবর্তা।

আরকে/নচ/চখ

এই বিভাগের আরও খবর