chattolarkhabor
চট্টলার খবর - খবরের সাথে সারাক্ষণ

কোভিড : ভারতে দৈনিক শনাক্ত ৭ মাসে সর্বোচ্চ

ksrm

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতে দিনে শনাক্ত কোভিড রোগী এক লাখ ৪০ হাজার ছাড়িয়েছে, যা গত সাত মাসের মধ্যে সর্বাধিক।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, গত বছরের মে মাসের পর এক দিনে এত বেশি সংখ্যক রোগী আর শনাক্ত হয়নি দেশটিতে। তখন ডেল্টার সংক্রমণে হু হু করে রোগী বাড়ছিল ভারতে, এখন ওমিক্রনের বিস্তারের মধ্যে আবারও সংক্রমণ বাড়ছে তেমন গতিতে।

ডেল্টায় বিপর্যয়কর অবস্থা সামলে ভারতে রোগীর সংখ্যা কমে আসছিল। তবে ডিসেম্বর থেকে আবারও রোগীর সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে শুরু করেছে। একদিনের ব্যবধানে আজ শনিবার শনাক্ত কোভিড রোগী ২১ শতাংশ বেড়েছে বলে ভারতের সংবাদ মাধ্যমে খবর এসেছে।

দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শনিবার সকাল থেকে আগের ২৪ ঘণ্টায় রোগী শনাক্ত হয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৯৮৬ জন। শুক্রবার এই সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১৭ হাজার ১০০। যা ছিল আগের দিন বৃহস্পতিবারের চেয়ে ২৮ শতাংশ বেশি।

ভারতে বর্তমানে সক্রিয় কোভিড আক্রান্তের সংখ্যা ৪ লাখ ৭২ হাজার ১৬৯। এখন পর্যন্ত মোট শনাক্ত হয়েছে ৩ কোটি ৫৩ লাখ ৬৮ হাজারের বেশি। দেশটিতে দৈনিক সংক্রমণের হার ৯.২৮ শতাংশ। সুস্থতার হার ৯৭.৫ শতাংশ।

একই সঙ্গে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে ২৮৫ জনের মৃত্যু নিয়ে দেশটিতে মৃত্যুর মোট সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৮৩ হাজার ৪৬৩ জন। শুক্রবার মারা গিয়েছিল ৩০২ জন।

করোনাভাইরাস নতুন রূপ ওমিক্রন উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে ভারতে। দেশে ওমিক্রনে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩ হাজার ছাড়িয়েছে। তাদের মধ্যে ২০৩ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন।

নভেম্বরের শেষে দক্ষিণ আফ্রিকায় শনাক্ত করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন পুরো বিশ্বেই আতঙ্ক তৈরি করেছে। ভারতের ২৮টি রাজ্যের মধ্যে ২৭টিতেই ছড়িয়ে পড়েছে এ ধরন।

ওমিক্রন আক্রান্তের দিক থেকেও শীর্ষে মহারাষ্ট্র। সে রাজ্যে মোট ৮৭৬ জন ওমিক্রনে আক্রান্ত হয়েছে। এর পরেই রয়েছে দিল্লি। দিল্লিতে মোট ওমিক্রন আক্রান্তের সংখ্যা ৫১৩।

ভারতের কাউন্সিল অব মেডিকেল রিসার্চ-আইসিএমআর বলেছে, করোনাভাইরাসের ডেল্টা ধরনকে টেক্কা দিয়ে ওমিক্রনই এখন প্রাধান্য বিস্তার করছে ভারতজুড়ে।

সব থেকে বেশি কোভিড আক্রান্ত পাঁচটি রাজ্যের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে মহারাষ্ট্র। মহারাষ্ট্রে গত ২৪ ঘণ্টায় মোট ৪০ হাজার ৯২৫ জন আক্রান্ত হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে পশ্চিমবঙ্গে একদিনে আক্রান্ত হয়েছে ১৮ হাজার ২৩১ জন।

পশ্চিমবঙ্গের পরে আক্রান্তের অবস্থানে রয়েছে দিল্লি। দিল্লিতে একদিনে ১৭ হাজার ৩৩৫, তামিলনাড়ুতে ৮ হাজার ৯৮১ এবং কর্নাটকে ৮ হাজার ৪৪৯ জন শনাক্ত হয়েছে।

মহারাষ্ট্র কোভিড টাস্কফোর্সের বরাত দিয়ে টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছিল, এবারের সংক্রমণে রোগীদের শরীরে ডেল্টার তুলনায় কম সময় জ্বর থাকছে। ডেল্টায় আক্রান্ত যাদের হাসপাতালে যেতে হয়েছিল, তাদের সিটি স্ক্যানে ফুসফুসের দ্রুত সংক্রমণ ছড়ানোর চিহ্ন দেখা যাচ্ছিল। এবারের রোগীদের ক্ষেত্রে সেই সংখ্যাও কম আসছে।

গবেষণার প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে অনেক গবেষক বলছেন, ওমিক্রন অনেক বেশি সংক্রামক হলেও গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তির ঝুঁকি ডেল্টার চেয়ে কম।

তবে এ ধরনের সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর বিরোধিতা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, ওমিক্রনের কারণেও বিশ্বজুড়ে মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। সুতরাং এ ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণকে ‘মৃদু’ বলা ঠিক হবে না।

ওমিক্রনের কারণে মহামারীর নতুন ঢেউ স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ভেঙে দিতে পারে, যে অবস্থা গত বছরে পেরিয়ে এসেছিল ভারত।

এনডিটিভি জানিয়েছে, সংক্রমণ মোকাবেলায় দিল্লিতে কোভিড বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। শুক্রবার রাত ১০টা থেকে সোমবার সকাল ৫টা পর্যন্ত সপ্তাহান্তে কারফিউ জারি করা হয়েছে। এই সময়গুলোতে শুধু জরুরি সার্ভিসসমূহ চালু থাকবে।

জেএইচ/চখ

এই বিভাগের আরও খবর
Loading...