chattolarkhabor
চট্টলার খবর - খবরের সাথে সারাক্ষণ

মেয়াদ ও ব্যয় বাড়ছে টেলিযোগাযোগ কমিশন ভবন প্রকল্পে

ksrm

চট্টলা ডেস্ক: ব্যয় ও মেয়াদ বেড়েছে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন ভবন প্রকল্পে। এক্ষেত্রে মূল ব্যয়ের তুলনায় ব্যয় বাড়ছে ২৯ দশমিক ২২ শতাংশ। সেই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নের মেয়াদও বাড়ছে দুই বছর।

এজন্য বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন ভবন নির্মাণ (প্রথম সংশোধিত) শীর্ষক প্রকল্পটির প্রথম সংশোধনী প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে। এদিকে গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রকল্পের আওতায় ব্যয় হয়েছে ১২৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। বাস্তব অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৭০ শতাংশ। প্রকল্পটির মূল অনুমোদিত ব্যয় ছিল ২০২ কোটি ৬৫ লাখ ২৮ হাজার টাকা। এখন ৫৯ কোটি ২০ লাখ ৮২ হাজার বাড়িয়ে ধরা হয়েছে ২৬১ কোটি ৮৬ লাখ ১০ হাজার টাকা।

পরিকল্পনা মিশনের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা সারাবাংলাকে জানান, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ থেকে প্রস্তাব পাওয়ার পর চলতি বছরের ৬ জুলাই অনুষ্ঠিত হয় পিইসি (প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি) সভা। ওই সভায় দেওয়া সুপারিশগুলো প্রতিপালন করায় প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) আগামী বৈঠকে উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে। অনুমোদন পেলে ২০২২ সালের জুনের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন ও গণপূর্ত অধিদফতর।

এ বিষয়ে প্রকল্পটির দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য (সচিব) মামুন আল রশীদ সারাবাংলাকে বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসির) এবং তার আওতাধীন অফিসগুলোর প্রয়োজনীয় দাফতরিক স্থানের সংস্থান করা সম্ভব হবে।

প্রকল্প প্রস্তাবনায় বলা হয়, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন আইন-২০০১ অনুসারে ২০০২ সালের ৩১ জানুয়ারি গঠিত হয়। গঠনের পর থেকেই সংস্থাটি ভাড়া করা ভবনের কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। শুরুতে প্রতিষ্ঠানটির মাত্র ৪১ জন জনবল থাকলেও ২০০৮ সালে তা ৩৬৯ জনে উন্নীত করা হয়। বর্তমানে বিটিআরসি আইইবি ভবনের তিনটি ফ্লোরে ভাড়া নিয়ে এর কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

প্রস্তাবিত প্রকল্পের আরডিপিপিতে উল্লেখ রয়েছে, ২০০৮ সাল হতে এ পর্যন্ত ভাড়া বাবদ বিটিআরসিকে প্রায় ৩২ কোটি টাকা অর্থাৎ প্রতিবছর ৪ কোটি টাকারও অধিক ব্যয় করতে হয়েছে। আসন্ন চ্যালেঞ্জ যেমন এ্যাওয়ারডিং ফোর জি লাইন্স, সিকিউরিং দ্যা সিবার স্পেস, লনসিং বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট, ইনক্র্যারেজ দ্যা ব্রোর্ডব্যান্ড পেনিট্যারেশন ইত্যাদি কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য বিটিআরসির আধুনিক অফিস ভবন প্রয়োজন।

প্রকল্প সংশোধনের কারণ হিসাবে বলা হয়, গণপূর্ত রেট সিডিউল পরিবর্তন- প্রকল্পের গণপূর্ত রেট সিডিউল ২০১৪ অনুসারে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রনীত হয় যদিও প্রকল্পটি ২০১৮ সালের ১০ এপ্রিল একনেকে অনুমোদিত হয়। ২০১৮ সালের জুন হতে গণপূর্তের রেট শিডিউল ২০১৮ কার্যকর হওয়ায় অনুমোদিত অর্থের মধ্যে ব্যয় সীমাবদ্ধ রেখে মূল ভবনের দরপত্র গণপূর্ত রেট শিডিউল ২০১৪ মোতাবেক প্রাক্কলন করা হয় যা সিসিজিপি ৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ ঊর্ধ্ব দরে অনুমোদিত হয়। প্রকল্পের আওতাধীন অন্যান্য সকল কাজের প্রাক্কলন, দরপত্র প্রক্রিয়াকরণ কাজ গণপূর্ত রেট শিডিউল ২০১৮ অনুসারে সম্পন্ন করতে হবে যা মূল ডিপিপির অনুমোদিত অর্থের মধ্যে সম্পাদন করা সম্ভব নয়।

মূল স্থাপত্য নকশায় পরিবর্তন: মূল ডিপিপি অনুমোদনের সময় প্রণীত স্থাপত্য নকশায় পরিবর্তন এবং কাঠামোগত নকশার পরিবর্তন হওয়ায় বিভিন্ন আইটেমের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ভবনের নিচতলা, প্রথম ও দ্বিতীয় তলার প্রতিটির প্রস্থ এরিয়া ৩২ হাজার ৬০০ বর্গফুটের স্থলে ৩৪ হাজার ৮০০ বর্গফুট হয়েছে। তিনটি ফ্লোরের বর্ধিত অংশগুলো সম্পূর্ন ক্যান্টিলিভার (ঝুলন্ত) হওয়ায় কাঠামোগত ডিজাইন পরিবর্তন হয়।

জেএইচ/চখ

Loading...