chattolarkhabor
চট্টলার খবর - খবরের সাথে সারাক্ষণ

 ১২ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য অনুমোদন পেল কোভ্যাক্সিন

ksrm

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের গণটিকাদান কর্মসূচিতে ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য অনুমোদন পেয়েছে দেশটির ওষুধ ও টিকাপ্রস্তুতকারী কোম্পানি ভারত বায়োটেকের করোনা টিকা কোভ্যাক্সিন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শনিবার এক ঘোষণায় বলেছিলেন, আগামী ৩ জানুয়ারি থেকে ভারতের ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সীদের টিকাদান কর্মসূচি শুরু হবে। ওইদিনই দেশটির কেন্দ্রীয় ওষুধ নিয়ন্ত্রন সংস্থা ড্রাগস কন্ট্রোলার জেনারেল অব ইন্ডিয়া(ডিসিজিআই) এই অনুমোদন দিয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি অনলাইন।

এর আগে ভারতের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিষয়ক কেন্দ্রীয় মন্ত্রণালয়ের অধীনস্ত নিয়ন্ত্রক সংস্থা সেন্ট্রাল ড্রাগস স্ট্যান্ডার্ড কন্ট্রোল অর্গানাইজেশনে (সিডিএসসিও) ২ থেকে ১৮ বছর বয়সীদের ওপর পরিচালনা করা মেডিকেল ট্রায়ালের তথ্য জমা দিয়েছিল ভারত বায়োটেক। অপ্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে ব্যাবহার বিষয়ক ছাড়পত্রের আবেদনও করেছিল কোম্পানি কর্তৃপক্ষ।

মেডিকেল ট্রায়ালের তথ্য পর্যালোচনা করে ডিসিজিআইকে ভারত বায়োটেকের পক্ষে সুপারিশ করে সিডিএসসিওর বিশেষজ্ঞ দল সাবজেক্ট এক্সপার্ট কমিটি (এসইসি)। সেই সুপারিশ আমলে নিয়েই শনিবার কোভ্যাক্সিনকে অপ্রাপ্তবয়স্কদের টিকাদান কর্মসূচিতে ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

ভারত বায়োটেককে দেওয়া এক চিঠিতে এ বিষয়ে ডিসিজিআইয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘বিশেষজ্ঞ কমিটি যে সুপারিশ করেছে, তা আমলে নিয়েই ১৪ ও ১৮ বছর বয়সীদের টিকাদান কর্মসূচিতে এটি টিকাটি ব্যবহারের ছাড়পত্র দেওয়া হলো।’

ডিসিজিআই অনুমোদন দেওয়ার পর এক বিবৃতিতে ভারত বায়োটেকের পক্ষ থেকে বলা হয়,‘কোভ্যাক্সিন টিকা এমনভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে যে, প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে ডোজের পরিমাণ যেমন থাকে, অপ্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রেও তা তেমনই থাকে। অর্থাৎ বয়সভেদে ডোজের হেরফের করার প্রয়োজন পড়ে না।’

‘তাছাড়া এই টিকাটি যে যথেষ্ট নিরাপদ ও কার্যকর- তা ইতোমধ্যে প্রমাণিত।’

২০২০ সালের শেষের দিকে ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের রাজধানী হায়দ্রাবাদভিত্তিক ওষুধ কোম্পানি ভারত বায়োটেক তাদের উদ্ভাবিত করোনা টিকা কোভ্যাক্সিন বাজারে আনে। এখন পর্যন্ত এটি ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে উৎপাদিত প্রথম করোনা টিকা।

এই টিকাটি প্রস্তুত করা হয়েছে মৃত ও বিশেষভাবে প্রক্রিয়াজাত করোনাভাইরাস দিয়ে। করোনাভাইরাসের যে নমুনাটি এই টিকা তৈরির ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়েছে- ভারত বায়োটেককে তা সরবরাহ করেছে দেশটির জীবাণুবিষয়ক গবেষণা সংস্থা ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজি।

কোভ্যক্সিন দুই ডোজের করোনা টিকা। এটি সংরক্ষণ করতে হয় ২ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায়। গত ৩ জুলাই কোভ্যাক্সিনের তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়ালের তথ্য প্রকাশ করেছে ভারত বায়োটেক। সেখানে বলা হয়েছে, করোনা প্রতিরোধে প্রায় ৭৮ শতাংশ কার্যকর কোভ্যাক্সিন।

চলতি বছর ১৬ জানুয়ারি থেকে ভারতে গণটিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। এই কর্মসূচিতে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা করোনা টিকার ভারতীয় সংস্করণ কোভিশিল্ড, যেটি প্রস্তুত করেছে ভারতের টিকা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সেরাম ইনস্টিটিউট এবং ভারত বায়োটেকের টিকা কোভ্যাক্সিনকে অনুমোদন দিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

তারপর চলতি বছর তিন নভেম্বর ভারতের প্রথম এবং এখন পর্যন্ত একমাত্র টিকা হিসেবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জরুরি প্রয়োজনে ব্যাবহার বিষয়ক ছাড়পত্র পায় কোভ্যাক্সিন।

ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অপ্রাপ্তবয়স্কদের টিকাদান কর্মসূচিতে দু’টি টিকা ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একটি হলো জাইডাস ক্যাডিলার তিন ডোজের করোনা টিকা ও দ্বিতীয়টি কোভ্যাক্সিন।

জেএইচ/চখ

এই বিভাগের আরও খবর
Loading...