chattolarkhabor
চট্টলার খবর - খবরের সাথে সারাক্ষণ

রাষ্ট্রপতি সংলাপের কড়া সমালোচনায় রিজভী

ksrm

চট্টলা ডেস্ক: নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে চলমান রাষ্ট্রপতির সংলাপের কড়া সমালোচনা করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী

শনিবার (২৫ ডিসেম্বর) নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ সমালোচনা করেন। জাগপা’র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইনসান আলম আক্কাসসহ শতাধিক নেতাকর্মীর জাতীয়তাবাদী কৃষকদলে যোগদান উপলক্ষে অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।

রিজভী বলেন, ‘আপনারা দেখছেন কী ধরনের তামাশা এবং ইয়ারকি করছেন সরকার এবং সরকারের রাষ্ট্রপতি। অনেকেই বলেন- রাষ্ট্রপতি তো জাতির অভিভাবক। হ্যাঁ, সেই ধরনের রাষ্ট্রপতি যদি হন, যে রাষ্ট্রপতি সেই পার্লামেন্টে নির্বাচিত, যে পার্লামেন্ট গঠন হয়েছে সকলের ভোটে। যে পার্লামেন্ট গঠন হয়েছে অবাধ, নিরপেক্ষ এবং ইনক্লুসিভ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে।’

‘যে পার্লামেন্টে রাতের ভোটে গঠন হয়েছে, সেই পার্লামেন্টে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি তো জাতির অভিভাবক হতে পারেন না। যে নির্বাচনে ভোট কেন্দ্রে মানুষ যায় না, চতুষ্পদ প্রাণিরা যায়, সেই নির্বাচনের পার্লামেন্ট যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করেছে, সেই রাষ্ট্রপতি কি জাতির অভিভাক হতে পারেন?’- প্রশ্ন রুহুল কবির রিজভীর।

তিনি বলেন, ‘আজকে তিনি নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য সংলাপ ডাকছেন, সংলাপ করছেন- এটা তো জাতির সঙ্গে ইয়ারকী করা, ঠাট্টা করা। আপনার কী অধিকার আছে সংলাপ করার? আপনি কী করবেন? আপনি তো জাতির অভিভাবক নন, আওয়ামী লীগের অভিভাবক। এর আগে আপনি অনুমোদন দিয়েছিলেন হুদা মার্কা নির্বাচন কমিশন। যে নির্বাচন কমিশনের কৃতিত্ব হচ্ছে দিনের ভোট রাতে হওয়া, যে নির্বাচন কমিশনের কৃতিত্ব হচ্ছে ইভিএম। যে মেশিনে ধানের শীষে বোতাম টিপলে নৌকায় চলে যায়, এই ধরনের কৃর্তি হুদা কমিশন দেখিয়েছে। এই নির্বাচন কমিশনের কৃতিত্ব তো আপনার কাছেও যায়।’

রিজভী বলেন, ‘আপনি আবার একটা সংলাপের নাম করে দেশ এবং বিদেশকে দেখাতে চাচ্ছেন, আমরা তো সংলাপ-টংলাপ করে, একটা সার্চ কমিটি করে নির্বাচন কমিশন করব। এগুলো হচ্ছে একটা প্রসাধনী। আওয়ামী মার্কা কমিশন করার জন্য, হুদা মার্কা কমিশন করার জন্য, রকিব মার্কা কমিশন করার জন্য বিভিন্ন রকম রঙ-টঙ লাগিয়ে একটা প্রসাধন চর্চিত সংলাপ। এই সংলাপ আদতে একটা সুষ্ঠ, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনের সংলাপ নয়।’

‘যদি তাই হতো তাহলে রাষ্ট্রপতি প্রথমে অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের গ্যারান্টি একটা নিরপেক্ষ সরকার গঠনের উদ্যোগ নিতেন। যে সরকার ভোটারদে কেন্দ্রে আসতে দেয় না, প্রতিপক্ষকে কেন্দ্রে আসতে দেয় না, সেই সরকার নিরপেক্ষ নির্বাচন করবে, নির্দলীয় নির্বাচন করবে, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন করবে, এটা কি বিশ্বাস করা যায়? এটা তো পাগলেও বিশ্বাস করবে না। কেবল মাত্র প্রহসন করার জন্যই সংলাপের আয়োজন করা হয়েছে’- বলেন রিজভী।

তিনি বলেন, ‘তিনি (আব্দুল হামিদ) রাষ্ট্রপতি থাকা অবস্থাই তো বেশিরবাগ ইউপি নির্বাচনে প্রতিপক্ষ অংশ নিতে পারেন নি। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নৌকার প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। এই রাষ্ট্রপতি আবার নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন করবেন। সেই নির্বাচন কমিশন কতটুকু স্বচ্চ নির্বাচন করবে, অবাধ নির্বাচন করবে, সেটা তো সবার কাছে স্পষ্ট।’

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কৃষক দলের সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুলসহ সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী।

জেএইচ/চখ

এই বিভাগের আরও খবর
Loading...