chattolarkhabor
চট্টলার খবর - খবরের সাথে সারাক্ষণ

ডেঙ্গু যখন চিন্তার কারন

ডেস্ক নিউজ: ডেঙ্গু একধরনের ভাইরাসজনিত রোগ।ডেঙ্গুর ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করে এডিস মশার কামড়ে। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার পর শরীরের রক্তনালিগুলোয় প্রদাহের সৃষ্টি হয়। ফলে রক্তনালি থেকে রক্তের জলীয় অংশ (প্লাজমা) বের হয়ে আসে। এতে রক্তচাপ কমে যায়। একপর্যায়ে মস্তিষ্কসহ শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোয় রক্ত সঞ্চালন ও অক্সিজেনের তীব্র ঘাটতি তৈরি হয়। একই সঙ্গে রক্তের প্লাটিলেট ভাঙতে শুরু করে। প্লাটিলেটের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেলে রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়ে। ডেঙ্গু ভাইরাস শরীরে প্রবেশের পর উপসর্গ দেখা দিতে ৫ থেকে ১০ দিন সময় লাগতে পারে।

দেশে ২০১৯ সালে ডেঙ্গু সংক্রমণ ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। পরবর্তীতে ২০২০ সালে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা কমে আসতে থাকে। আবার চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা সর্বমোট ২৬ হাজার ৭৪১ জন। একই সময়ে তাদের মধ্য থেকে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ফিরেছেন ২৬ হাজার ১১৪ জন রোগী। এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে ৯৮ জনের মৃত্যুর হয়েছে।

বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে সর্বমোট ৪৭৯ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকার ৪৬টি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ৩৫৯ জন এবং অন্যান্য বিভাগে মোট ১২০ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি নিরাপদ এবং কার্যকর ডেঙ্গু ভ্যাকসিন তৈরির চেষ্টা এখনও চলছে। তাই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা মেনে চলা এবং প্রতিরোধমূলক প্রোটোকল মেনে চলা সর্বোত্তম উপায়। এটি মনে রাখা উচিত যে ডেঙ্গু একটি সংক্রমণ হিসেবে রয়ে গেছে, যা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্মূল করা যায়। যতক্ষণ পর্যন্ত ভালো স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করা হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত এটি সম্পূর্ণ রূপে এড়ানো যায়। দরজা, জানালার পর্দা, প্রতিষেধক, কীটনাশক সামগ্রী, কয়েলের ব্যবহার করতে হবে। ত্বকের সংস্পর্শে যাতে মশা কম আসতে পারে এমন পোশাক অবশ্যই পরতে হবে। প্রাদুর্ভাবের সময় স্প্রে হিসেবে কীটনাশক প্রয়োগ করা যেতে পারে। মশা ডিম পারতে পারে এমন জায়গায় নিয়মিত নজরদারি চালাতে হবে। খোলা পাত্রে পানি জমতে দিলে হবে না, এ জন্য নিয়মিত নজরদারি করতে হবে।

সিশা/নচ

এই বিভাগের আরও খবর