chattolarkhabor
চট্টলার খবর - খবরের সাথে সারাক্ষণ

ছোট ভাইকে খুনের ১০ মাস পর বড় ভাইয়ের আত্মসমপর্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক : এ বছরের ২৭ জানুয়ারি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনের সময় ছোটভাইকে নিজ হাতে খুন করার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার প্রায় ১০ মাস পর আত্মসমর্পণ করেছেন বড় ভাই সালাউদ্দিন কামরুল ইসলাম।

গতকাল সোমবার (১৫ নভেম্বর) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তিনি আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে আদালত নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠান।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পাহাড়তলী থানার ওসি (তদন্ত) নাজমুল হাসান। তিনি চট্টলার খবরকে বলেন, ছোট ভাইকে খুনের ঘটনার প্রধান আসামি গতকাল আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। আদালত শুনানি শেষে জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে প্রেরণ করেন।

জানা গেছে, গত ২৭ জানুয়ারি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) নির্বাচনের সুযোগে ছোটভাই নিজাম উদ্দিন মুন্নাকে (৩০) নিজ হাতে খুন করে ‘পূর্বশত্রুতা হাসিল’ করেন বড়ভাই সালাউদ্দিন কামরুল ইসলাম। নির্বাচনে সহিংসতা হিসেবে চালিয়ে দিতে এ হত্যাকাণ্ড ঘটান তিনি।

মৃত নিজাম উদ্দিন মুন্না চসিক ১২নং সরাইপাড়া ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থী সাবের আহমদের সমর্থক ছিলেন।

ওইদিন সকাল ৭টার দিকে ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার পথে বড় ভাই কামরুল দলবল নিয়ে নগরীর পাহাড়তলী থানাধীন বার কোয়ার্টার ফজু মিয়া বাইলেন এলাকার ইউসুপ আলীর বাড়ির সামনে পথরোধ করে নিজামের। এরপর উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে নাড়িভুঁড়ি বের করে ও গলা কেটে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয় তাকে। নিজাম উদ্দিন মুন্নার পিতার নাম গিয়াস উদ্দিন।

সে সময় পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছিল, চসিক নির্বাচনে সহিংসতা হিসেবে চালিয়ে দিতে পূর্বপরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটায় মুন্নার বড়ভাই সালাউদ্দিন কামরুল।

জানা গেছে, পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বড়ভাই কামরুলের সঙ্গে বিরোধ ছিল মুন্নার। খুনের ছয় মাস আগে পৈতৃক জায়গা-জমির দলিল কৌশলে নিয়ে জব্দ করে রাখেন সালাউদ্দিন কামরুল। এ নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে বিভিন্ন সময় কথা কাটাকাটি হলেও কোনো সমাধান হয়নি। চসিক নির্বাচনের পর দলিল উদ্ধারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মুন্না। আর এই ভয়েই নির্বাচনের দিনই ছোটভাইকে শেষ করে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন বড়ভাই কামরুল।

মৃত নিজাম উদ্দিন মুন্নার শ্বশুর মো. ইকবাল চট্টলার খবরকে বলেন, পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে আমার মেয়ের জামাইকে হত্যা করে বড় ভাই কামরুল। আমার মেয়ের ঘরে দুটি সন্তান রয়েছে। একটি তিন বছরের মেয়ে আরেকটি দুই বছরের ছেলে। আমার মেয়ে বাকপ্রতিবন্ধী। স্বামী খুনের পর থেকে মেয়েকে আমার ঘরে নিয়ে আসি। এরপর থেকে ভরণপোষনের ব্যবস্থা করি। আমার মেয়ে এখনো স্বামী হারানোর শোক ভুলতে পারে না। প্রতি রাতে কান্না করে। আমি চাই আমার মেয়ের স্বামীর খুনির সর্বোচ্চ শাস্তি হোক। তাতে করে আমার বিধবা মেয়ে ও দুই নাতি শান্তি পাবে।

এসএএস/এমআই

এই বিভাগের আরও খবর