chattolarkhabor
চট্টলার খবর - খবরের সাথে সারাক্ষণ

আমিন জুট মিলে লাখ টাকায় ঘর কিনে প্রতারণার শিকার

নিজস্ব প্রতিবেদক: দুই ছেলে আর এক কন্যা সন্তানের মা সিমা আক্তার। এক বছরের বেশি সময় ধরে যোগাযোগ নেই স্বামীর সঙ্গে। কোথায় আছেন, বেঁচে আছেন কিনা তাও তিনি জানেন না। গৃহকর্মীর কাজ করে দুই ছেলেকে মাদ্রাসায় পড়াচ্ছেন। মেয়েটাও ছোট। স্বামী ছাড়া সন্তানদের নিয়ে ভাড়া বাসায় থেকে খরচ চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছিল। তিলে তিলে জমানো টাকায় দিয়ে গত দু বছর আগে আমিন জুট মিল শ্রমিক কলোনীর দুলাল নামে এক শ্রমিকের কাছ থেকে দেড় লাখ টাকায় তার চার রুমের ঘরটি কিনে নেন সিমা। দেড় লাখ টাকায় মাথা তিন সন্তান নিয়ে মাথা গুজাবার ঠায় পেয়েছিলন ঠিকই। কে জানতো জীবনের জমানো সব আয় দিয়ে ঘরটা কিনে প্রতারিত হতে হবে। তার সন্তান নিয়ে সেই ঘরে বেশিদিন থাকতে পারবেনা সিমা। নগরের আতুরার ডিপো এলাকার আমিন জুটি মিলে বেশ কিছু শ্রমিকের নামে জায়গা বরাদ্দ ছিল। সরকারিভাবে জুট মিল বন্ধের পর জায়গা বুঝিয়ে দেওয়ার সাপেক্ষ শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধ করে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে অবৈধভাবে বসবাস করা ভূমি দস্যূদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদে নামে আামন জুট মিল কর্তৃপক্ষ

দুলাল নামে ওই শ্রমিক সরকারি জমি বুঝিয়ে দিয়েছেন এবং সিমা আক্তারের কাছে দেড় লাখ টাকায় ঘর বিক্রি করেছিলেন। এতদিন বিষয়টি জানাজানি হয়নি। গেল দু মাস ধরে সিমা আক্তারকে ওই ঘরটি ছেড়ে যেতে বলে জুট মিলের কর্মকর্তারা।

 

সিমা আক্তার নিজ অবস্থানে অটল থাকায় গতকাল সোমবার (১ নভেম্বর) ঘরটি উচ্ছেদে যায় আমিন জুট মিলের কর্মকর্তারা। উঠে আসে দুলাল নামে ওই শ্রমিকের প্রতারণার বিষয়টি।

উচ্ছেদের সময় পাটকল শ্রমিকদের অনুরোধে ভুক্তভোগী সিমাকে ঘর ছেড়ে দিতে ৪৮ ঘণ্টার সময় বেধে দেওয়া হয়।

জানতে চাইলে সিমা আক্তার চট্টলার খবরকে বলেন, আমার মতো অনেকেই দখল স্বত্বের ভিত্তিতে ঘর কিনে এখানে বসবাস করছে। কিন্তু তাদের কিছু না করে আমাকে দু মাস ধরে ঘর ছেড়ে দিতে বলছে। দু বছর থাকছি তাদের কোনো খবর ছিল না। এখন আমাকে জোর করে উচ্ছেদ করতে আসছে। আমার কেউ নেই, ছেলে মেয়ে নিয়ে রাস্তায় বসতে হবে।
শ্রমিক কৃষক ছাত্রজনতা ঐক্য চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সদস্য সচিব কামাল উদ্দিন চট্টলার খবরকে বলেন, এই কলোনীতে বিভিন্ন পেশার লক্ষাধিক মানুষ বসবাস করে। কোনো প্রকার নোটিশ না দিয়ে সিমা আক্তারকে উচ্ছেদ করা হচ্ছে। যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করে উচ্ছেদ পরিচালনার দাবি জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আমিন জুট মিলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) কামরুল হাসান চট্টলার খবরকে বলেন, সেখানে বেশ কিছু শ্রমিকের নামে বসতবাড়ির জায়গা বরাদ্দ ছিল। শ্রমিকদের চাকরির মেয়াদ শেষে কর্তৃপক্ষকে জায়গা বুঝিয়ে দিতে হয়। যেসব শ্রমিক জায়গা বুঝিয়ে দিয়েছেন তাদের বকেয়া পরিশোধ করে দেওয়া হচ্ছে। ওই জায়গার শ্রমিক দুলাল নিজে এসে জায়গাটি কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দিয়েছে। আবার সুমি আক্তারের কাছে ঘরে দখল স্বত্ব বিক্রি করেছে। বিষয়টি আমাদের জানা ছিল না। সুমি আক্তার প্রতারণার শিকার হয়েছেন। তিনি অবৈধভাবে সেখানে বসবাস করে আসছিল।

আরকে/নচ

এই বিভাগের আরও খবর