chattolarkhabor
চট্টলার খবর - খবরের সাথে সারাক্ষণ

লকডাউনেও চট্টগ্রামে করোনার শনাক্তে ঊর্ধ্বগতি

নিজস্ব প্রতিবেদক : লকডাউনের কঠোর কড়াকড়িতেও চট্টগ্রাম করোনা সংক্রমণের তীব্র ভয়াবহতায় কমছে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার পরও মানুষকে ঘরে রাখা যাচ্ছে না। দিন যেমন বাড়ছে, তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে যেনো বেড়েই চলেছে আক্রান্তের করুণ ভয়াবহতা। কোনো কিছুতেই যেনো করোনা আক্রান্তের ঊর্ধ্বগতি কমাতে প্রভাব ফেলতে পারছে না।

সর্বশেষ দুদিনে নগর ও বিভিন্ন উপজেলা মিলিয়ে ছয়শোর ঘরে ওঠানামা ছিল করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। দফায় দফায় লকডাউনের পর সংকক্রণের হারে দুশ্চিন্তায় আছেন স্বয়ং স্বাস্থ্য-বিভাগের কর্মকর্তারা।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, চট্টগ্রামে ব্যাপক হারে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টে (ধরণ) বিস্তার লাভ করায় সংক্রমণ বাড়ছে। এক্ষেত্রে চলমান লকডাউনের কড়াকড়ির কঠোরভাবে অনুসরণের দাবি জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

সিভিল সার্জনের দেওয়ার তথ্য মতে, গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ৬১১ জনের শরীরে করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে। এর মধ্যে বিভিন্ন উপজেলায় মারা যান চার জন করোনা রোগী। এর আগে ২৪ ঘণ্টার এই সংক্রমণের সংখ্যা ছিল ৬৬২ জন। মারা গিয়েছিল ৯ জন। এর মধ্যে সাতজন ছিল বিভিন্ন উপজেলায়।

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) দেশে সংক্রমণের ৭৮ শতাংশ ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টে বলে জানিয়েছিল। এরপর গত ১৪ জুন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক চট্টগ্রামে প্রথম ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টে রোগীর তথ্য দিয়েছিল। গবেষক দল দ্রুত সময়ে এটি ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার কথা জানিয়েছিল। একই সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দিতে সর্তকর্তামূলক ব্যবস্থার নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিল।

ওই গবেষক দলের প্রধান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের ল্যাবরেটরির প্রধান গবেষক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান চট্টলার খবরকে বলেন, নোয়াখালী, ফেনী, কুমিল্লা, ফটিকছড়িসহ বিভিন্ন স্থানের ২০০ রোগীর নমনা সংগ্রহ করেছি। এসব নমুনা পর্যালোচনা করার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এখনও আমরা ফলাফল পাইনি। তবে আমরা ধারণা করছি বর্তমানে চট্টগ্রামে ভয়াবহ আকারে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ছে। যার কারণে দিন দিন সংক্রমণ বেড়ে চলেছে।

তিনি আরো বলেন, ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ধরণের মধ্যে বর্তমানে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টে সবচেয়ে ভয়াবহ। অনেকে বলছেন ভারতীয় কোনও রোগীর সংস্পর্শে না এলেও রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। আমরা গবেষণায় পেয়েছি ভারতীয় প্রকরণের কমিউনিটি ছড়িয়ে পড়ার মাত্রা সর্বাধিক। সম্পূর্ণভাবে লকডাউন অনুসরণ করার কথা বলেছি। জনসমাগম এড়িয়ে না চললে সংক্রমণ কমবে না।

ভারতীয় প্রকরণের ভয়াবহতার বিষয়ে চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি চট্টলার খবরকে বলেন, চট্টগ্রামের বিভিন্ন ল্যাবের নুমনায় ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট অস্তিত্বের বিষয়টি পর্যালোচনা করেছি। গবেষক দলের মতামত নিয়ে আমরা করছি। কিন্তু স্বাস্থ্য-বিভাগের একার পক্ষে এটি প্রতিরোধ করা যাবে না। তবে কমিউনিটি হ্রাসে সবাইকে দায়িত্বশীল নাগরিকের ভূমিকায় আসতে হবে। জাতীয় কোভিড পরামর্শক কমিটির পরামর্শের পরও অনেকে অহেতুক ঘর থেকে বের হচ্ছেন।

এদিকে সংক্রমণ কমিয়ে আনতে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। বিধিনিষেধ মানতে সেনাবাহিনী, র‌্যাব, পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান চলছে। জেলা প্রশাসকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা অভিযান চালিয়ে জরিমানা করছেন। সচেতনতা বাড়াতে চলছে মাইকিং। সড়কে জেরার মুখে পড়লেও অলি-গলিতে জটলার বেধে আড্ডা দিচ্ছেন মানুষ। বের হওয়ার পেছনে দিচ্ছেন তুচ্ছ কারণ। তবে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান বিনা প্রয়োজনে কেউ বের হলে জরিমানার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এর পাশপাশি নির্দেশনা অমান্য করে দোকানপাট ও শপিং মল খুললে জরিমানা ও সীলগালা করার কথা জানিয়েছেন।

চখ/এএমএস

এই বিভাগের আরও খবর
Loading...