বঙ্গোপসাগরকে অভিন্ন সমৃদ্ধির অঞ্চল করতে চাই: প্রধানমন্ত্রী
বঙ্গোপসাগরকে এমন একটি অঞ্চলে পরিণত করা হবে, যেখানে অংশীদার দেশগুলো পারস্পরিক সুবিধা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একসঙ্গে এগিয়ে যাবে।
শনিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীতে ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’ সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের (সিজিএস) আয়োজনে প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ৩-৫ অক্টোবর এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। শতাধিক দেশের প্রতিনিধি, নীতিনির্ধারক, কূটনীতিক, ব্যবসায়ী, গবেষক ও বিভিন্ন খাতের বিশেষজ্ঞরা এতে অংশ নিচ্ছেন।
এবারের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ‘ফ্র্যাগমেন্টস, ফ্রন্টিয়ার্স অ্যান্ড ফিউচারস: নেভিগেটিং পাওয়ার, টেকনোলজি অ্যান্ড ট্রাস্ট ইন আ ওয়ার্ল্ড রি-রিটেন’।
বাংলাদেশ জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে ইতিবাচকভাবে কাজ করবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নতুন সরকারের অগ্রাধিকারে রয়েছে জাতীয় স্বার্থ, নীতির ধারাবাহিকতা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার। বাংলাদেশকে বিনিয়োগের আকর্ষণীয় গন্তব্য এবং শক্তিশালী উৎপাদন ও বিনিয়োগের কেন্দ্রে পরিণত করতে সরকার কাজ করছে।’
তরুণদের দক্ষতা ও কর্মসংস্থানে গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তরুণদের প্রস্তুত করা হচ্ছে। উদ্ভাবন, উদ্যোক্তা ও স্টার্টআপে সহায়তার পাশাপাশি ‘ব্রেইন ড্রেন’-কে ‘ব্রেইন সার্কুলেশনে’ পরিণত করতে চায় সরকার।
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে। আমাদের লক্ষ্য হলো তাদের দ্রুত, স্বেচ্ছা, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন। এ সংকটের সূত্রপাত মিয়ানমারে। এর সমাধানও মিয়ানমারেই হতে হবে।’
বঙ্গোপসাগরকে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সম্ভাবনার অন্যতম ভিত্তি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বঙ্গোপসাগর বাংলাদেশের ভাগ্য নির্ধারণে ভূমিকা রেখে চলেছে।বাংলাদেশের ভৌগোলিক ও কৌশলগত অবস্থানের কারণে সমুদ্রবন্দর, নৌপথ ও উপকূলীয় অর্থনীতির মাধ্যমে বিশ্বের সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। জাহাজ চলাচল, মৎস্যসম্পদ, পর্যটন, জ্বালানি এবং আঞ্চলিক সরবরাহ চেইনে অপার সম্ভাবনা রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আঞ্চলিকভাবে অভিন্ন ভৌগোলিক অবস্থানকে অভিন্ন সমৃদ্ধিতে রূপান্তর করতে হলে আরও গভীর দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সম্পৃক্ততা প্রয়োজন।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাণিজ্য, জ্বালানি, শিক্ষা, প্রযুক্তি, জলবায়ু ও সমুদ্র খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানো সম্ভব। নতুন বাজার উন্মুক্ত করার পাশাপাশি তরুণদের জন্য আরও সুযোগ সৃষ্টি করা যেতে পারে। সমতা, ন্যায্যতা ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে আমরা আরও শক্তিশালী সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারি।’
তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ সংলাপ, অংশীদারত্ব ও পারস্পরিক সম্মানে বিশ্বাস করে। শান্তি ও সম্প্রীতিকে অভিন্ন সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের ভিত্তি হিসেবে নিয়ে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করবে বাংলাদেশ।
ফরিদা|চখ