chattolarkhabor
চট্টলার খবর - খবরের সাথে সারাক্ষণ

চড়া সবজি-মাছ, থলে হালকায় ভারী ক্রেতার মন

শীতের আগাম সবজি বাজারে আসতে শুরু করলেও চট্টগ্রামে কমেনি নিত্যপণ্যের দাম। নগরের বিভিন্ন বাজারে অধিকাংশ সবজি ৮০ টাকার ওপরে বিক্রি হচ্ছে। শিমের কেজি উঠেছে ২০০ থেকে ২৪০ টাকা পর্যন্ত। বেগুন ও টমেটো ১২০ টাকা, ফুলকপি ২০০ টাকা এবং বরবটি ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছ, মাংস, ডিম ও ভোজ্যতেলের বাজারেও ক্রেতাদের জন্য স্বস্তির খবর নেই। চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে ভোজ্যতেলের দাম কিছুটা কমলেও খুচরা বাজারে তার প্রভাব পড়েনি। নগরে প্রতি লিটার ভোজ্যতেল ২১০ টাকার বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। অথচ সরকার নির্ধারিত দাম ২০৪ টাকা।

শুক্রবার ও শনিবার চট্টগ্রামের বিভিন্ন বাজারের সাম্প্রতিক দর এবং চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারের তথ্য পর্যালোচনা করে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

◾ সবজির বাজারে চড়া দাম

নগরের বাজারগুলোতে শীতের আগাম সবজির সরবরাহ বাড়লেও দাম কমেনি। শিম বিক্রি হচ্ছে কেজি ২০০ থেকে ২৪০ টাকা। ফুলকপি ২০০ টাকা, বেগুন ও টমেটো ১২০ টাকা করে। ঢ্যাঁড়শ, শসা, তিতা করলা, ঝিঙে, ধুন্দুল, মুলা ও বাঁধাকপি ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি। বরবটি ১০০ থেকে ১২০ টাকা।

তবে কাঁচা মরিচের দরে কিছুটা স্বস্তি এসেছে। কয়েক দিন আগে ১৮০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হলেও এখন কেজি ১৪০ টাকার আশপাশে পাওয়া যাচ্ছে।

◾চালের দামও ঊর্ধ্বমুখী

চাক্তাই-খাতুনগঞ্জে চালের বাজারেও বাড়তি দামের চাপ দেখা যাচ্ছে। মানভেদে মিনিকেট আতপ চালের বস্তা ৩ হাজার ৭০০ থেকে ৩ হাজার ৮০০ টাকা, দিনাজপুরী পাইজাম ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার ৯০০ টাকা এবং কাটারিভোগ ৩ হাজার ৯০০ টাকার বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে।

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় চালসহ বিভিন্ন পণ্যের পাইকারি দরে প্রভাব পড়ছে। চট্টগ্রামের চাক্তাই-খাতুনগঞ্জে ট্রাকভাড়া ৬ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে বলে ব্যবসায়ীদের উদ্ধৃত করে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

◾ ডালের বাজারে বেচাকেনা কম

চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে ডালের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও চাহিদা কমেছে। ফলে বেচাকেনায় ভাটা রয়েছে। ২৪ সেপ্টেম্বরের বাজারদরের হিসাবে ভারতীয় চিকন মসুর ডাল কেজি ১৫২ টাকা, মোটা মসুর ৮১ টাকা, মুগডাল ১১৫ টাকা, চনার ডাল ৯৭ টাকা এবং মটর ডাল ৫৩ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। ছোলার ডালের দর ছিল ৮৭ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ৯৪ টাকা।

ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, ডিজেলের দাম বাড়ায় দূরপাল্লার পরিবহন খরচ আরও বাড়লে সামনে ডালের খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

◾তেল কমেছে পাইকারিতে, খুচরায় নয়

চাক্তাই-খাতুনগঞ্জে ভোজ্যতেলের পাইকারি দাম কিছুটা কমেছে। প্রতি মণে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত কমলেও খুচরা পর্যায়ে সেই সুবিধা পাচ্ছেন না ক্রেতারা। নগরের দোকানে লিটারপ্রতি তেল ২১০ টাকার বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। অনেক দোকানে পর্যাপ্ত বোতলজাত সয়াবিন তেলও পাওয়া যাচ্ছে না বলে বিক্রেতাদের অভিযোগ।

◾ মাছের বাজারে চড়া দর

মাছের সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও দাম খুব একটা কমেনি। সাম্প্রতিক চট্টগ্রাম বাজারদরের হিসাবে রুই-কাতলা ৩৮০ থেকে ৪৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। সামুদ্রিক মাছের মধ্যে লইট্টা, কোরাল ও রূপচাঁদার সরবরাহ রয়েছে। চিংড়ির সরবরাহও বেড়েছে।

এর আগে চট্টগ্রামের বাজারে তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা, পাঙাশ ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা, রুই-কাতলা ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা এবং চিংড়ি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রির তথ্য পাওয়া যায়।

◾ মাংস ও ডিমের বাজার

চট্টগ্রামের সাম্প্রতিক বাজারদরে গরুর মাংস হাড়সহ ৮৫০ টাকা থেকে হাড় ছাড়া ১ হাজার টাকা কেজি পর্যন্ত এবং খাসির মাংস প্রায় ১ হাজার ২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লার মুরগি ১৭০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩১০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৫৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রির তথ্য রয়েছে। ডিমের ডজন ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকা।

অন্যদিকে রাজধানীর বাজারে শুক্রবার ব্রয়লার ১৮০ টাকা, সোনালি ৩২০ টাকা এবং ডিমের ডজন ১৫৫ টাকা ছিল। অর্থাৎ পণ্য ও বাজারভেদে দরে পার্থক্য রয়েছে।

এক নজরে চট্টগ্রামের বাজার

সাম্প্রতিক খুচরা দর

  • শিম ২০০–২৪০ টাকা/কেজি
  • বেগুন প্রায় ১২০ টাকা/কেজি
  • টমেটো প্রায় ১২০ টাকা/কেজি
  • ফুলকপি প্রায় ২০০ টাকা/কেজি
  • বরবটি ১০০–১২০ টাকা/কেজি
  • ঢ্যাঁড়শ ৮০–১০০ টাকা/কেজি
  • শসা ৮০–১০০ টাকা/কেজি
  • কাঁচা মরিচ প্রায় ১৪০ টাকা/কেজি
  • গরুর মাংস ৮৫০–১,০০০ টাকা/কেজি
  • খাসির মাংস প্রায় ১,২৫০ টাকা/কেজি
  • ব্রয়লার মুরগি প্রায় ১৭০ টাকা/কেজি
  • সোনালি মুরগি প্রায় ৩১০ টাকা/কেজি
  • দেশি মুরগি প্রায় ৫৮০ টাকা/কেজি
  • ডিম ১৪৫–১৫০ টাকা/ডজন
  • রুই-কাতলা ৩৮০–৪৩০ টাকা/কেজি
  • তেলাপিয়া ২৫০–২৬০ টাকা/কেজি
  • পাঙাশ ২৩০–২৫০ টাকা/কেজি
  • চিংড়ি ১,০০০–১,৩০০ টাকা/কেজি
  • সয়াবিন তেলন২১০ টাকার বেশি/লিটার

পাইকারি ও খুচরার ব্যবধান নিয়ে প্রশ্ন

চট্টগ্রামের বড় ভোগ্যপণ্যের পাইকারি বাজার চাক্তাই-খাতুনগঞ্জে কিছু পণ্যের দাম কমলেও খুচরা বাজারে তার প্রতিফলন না থাকায় প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে ভোজ্যতেলের ক্ষেত্রে পাইকারিতে দাম কমার পরও খুচরায় সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের অনলাইন বাজারদরেও চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, কাঁচা মরিচ, মুরগি, ডিম ও মাংসের বিভিন্ন দর প্রকাশ করা হচ্ছে। ফলে চট্টগ্রামের খুচরা বাজারে সরকারি বা নির্ধারিত দরের সঙ্গে বাস্তব বিক্রয়মূল্যের পার্থক্য নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করা জরুরি।

ক্রেতাদের স্বস্তি কবে?

শীতের আগাম সবজি বাজারে আসায় সরবরাহ আরও বাড়লে কয়েকটি সবজির দাম কমতে পারে বলে আশা করা হলেও এখন পর্যন্ত সামগ্রিক বাজারে তার প্রভাব পড়েনি। বরং জ্বালানি তেলের বাড়তি দাম পরিবহন ব্যয় বাড়িয়ে চাল, ডালসহ দূরপাল্লার পণ্যের ওপর নতুন চাপ তৈরি করছে।

ফলে চট্টগ্রামের সাধারণ ক্রেতাদের জন্য এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—পাইকারি বাজারে কোনো কোনো পণ্যের দাম কমলেও সেই সুবিধা খুচরা বাজারে পৌঁছাবে কবে? বাজারে নিয়মিত তদারকি, সরবরাহব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ এবং পাইকারি-খুচরা দামের ব্যবধান যাচাই না করলে নিত্যপণ্যের এই চাপ সহজে কমবে না বলে মনে করছেন ক্রেতারা।

ফরিদা/চখ

এই বিভাগের আরও খবর