chattolarkhabor
চট্টলার খবর - খবরের সাথে সারাক্ষণ

মধ্যপ্রাচ্যে ৯ হাজার সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

সামরিক বাহিনীর প্রায় ৯ হাজার সেনা নিয়ে কয়েকটি যুদ্ধজাহাজের একটি বহর মধ্যপ্রাচ্যের দিকে পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এই বহরে ৭ হাজারের বেশি নাবিক এবং ২ হাজার মেরিন সেনা রয়েছে। বৃহস্পতিবার (০১ অক্টোবর) এক মার্কিন কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর সম্ভাবনার বিষয়ে সতর্ক করার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি জোরদার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে আল-জাজিরা, আরব নিউজ।

মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে রওনা হওয়া জাহাজগুলোর এই বহরে রয়েছে ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্টের নেতৃত্বাধীন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ। সম্প্রতি ইউএসএস চোসিন ক্রুজারসহ এটি মোতায়েন করা হয়েছে। বহরে আরও রয়েছে ইউএসএস মাকিন আইল্যান্ড অ্যাম্ফিবিয়াস রেডিনেস গ্রুপ, যার সঙ্গে ইউএসএস জন পি. মার্থা ও ইউএসএস অ্যাঙ্কোরেজ উভচর অবতরণকারী জাহাজ রয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন মার্কিন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এপিকে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে রওনা হওয়া জাহাজগুলোর বহরে ৭ হাজারের বেশি নাবিক ও ২ হাজার মেরিন সেনা রয়েছে। এর ফলে অক্টোবরের শেষ নাগাদ মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে একই সময়ে তিনটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরি থাকতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যে ইতোমধ্যে মোতায়েন থাকা মার্কিন সেনাদের সঙ্গে নতুন করে পাঠানো সদস্যরা যুক্ত হলে সেখানে মার্কিন নৌবাহিনীর উপস্থিতি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাবে। সবমিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নাবিক ও মেরিন সেনার সংখ্যা দাঁড়াবে ২০ হাজারের বেশি । পাশাপাশি শত শত মার্কিন সামরিক বিমানও সেখানে থাকবে।

এর আগে গত এপ্রিল মাসে মধ্যপ্রাচ্যে তিনটি ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ মোতায়েন করেছিল মার্কিন নৌবাহিনী। ২০০৩ সালের পর সেটিই ছিল প্রথমবারের মতো এমন মোতায়েন।

বর্তমানে ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ ও ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন বিমানবাহী রণতরি এবং ইউএসএস বক্সার অ্যাম্ফিবিয়াস রেডিনেস গ্রুপ মধ্যপ্রাচ্যে রয়েছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার প্রকাশিত টাইম ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ৩ নভেম্বরের নির্বাচনের পর ইরানে বোমা হামলা আরও বাড়ানো ‘সম্ভব’।

তবে এ বিষয়ে আরও জানতে চাইলে নিজের কৌশল সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানান ট্রাম্প।

তিনি বলেন, “আমি আপনাকে সেটা বলতে পারি না। কারণ দেখুন, আপনি তো জানতে চাইছেন কোথায় বোমা হামলা চালাবেন?”

সোমবার নেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও বলেন, ইরানের সর্বশেষ যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন। কারণ, “এক বছর আগে যেসব বিষয়ে আমি সম্মতি দিতাম না, আজও সেসব বিষয়ে সম্মতি দেব না।”

এর উদাহরণ হিসেবে ইরানের হরমুজ প্রণালি ‘খুলে দেওয়ার’ প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করেন ট্রাম্প। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হিসেবে পরিচিত এই প্রণালি খুলে দেওয়ার প্রস্তাব থাকলেও সামগ্রিকভাবে ইরানের প্রস্তাবটি ‘যথেষ্ট ভালো ছিল না’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ক্রমেই জনসমর্থন হারাতে থাকা এই যুদ্ধ নভেম্বরের নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প প্রথমে বলেন, ‘সম্ভব।’ তিনি আরও বলেন, “বিশ্বজুড়ে ১০০ শতাংশ মানুষ” ইরানের হাতে পারমাণবিক হামলার সক্ষমতা থাকার বিরোধিতা করে।

ফরিদা|চখ

এই বিভাগের আরও খবর