chattolarkhabor
চট্টলার খবর - খবরের সাথে সারাক্ষণ

চট্টগ্রামে গ্যাস সিলিন্ডার ঘিরে লাগামহীন নৈরাজ্য

চট্টগ্রাম নগরে আবারও তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সিলিন্ডার নিয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। অনেক দোকানে চাহিদামতো গ্যাস মিলছে না। কোথাও সিলিন্ডার পাওয়া গেলেও সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি টাকা গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। এ পরিস্থিতিতে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে একটি চক্র অতিরিক্ত মুনাফা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন এলাকার এলপিজি বিক্রেতা ও ভোক্তাদের সঙ্গে কথা বলে সংকটের এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

নগরের হামজারবাগ, বিবিরহাট, মুরাদপুর, ষোলোশহর, দুই নম্বর গেট, পলিটেকনিক মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় সিলিন্ডারের সরবরাহ ও দামের ক্ষেত্রে অসঙ্গতির অভিযোগ রয়েছে।

সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে এলপিজির কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত দাম নেওয়া হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী। সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি নেওয়া হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।

নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি

চট্টগ্রামের খুচরা বাজারে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার সরকার নির্ধারিত দামে পাওয়া যাচ্ছে না—এমন অভিযোগ নতুন নয়। চলতি বছরের শুরুতেও নগরের বিভিন্ন এলাকায় সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ৫০০-৬০০ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রির তথ্য পাওয়া যায়। কোথাও আবার সিলিন্ডার থাকলেও ক্রেতাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘুরতে হয়েছে।
এরপর ফেব্রুয়ারিতেও চট্টগ্রামে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে কয়েক শ টাকা বেশি দামে এলপিজি বিক্রির অভিযোগ ওঠে। তখন ভোক্তা অধিকারকর্মীরা ডিলার ও সরবরাহব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরে সিন্ডিকেটের অভিযোগ করেছিলেন।

‘সরবরাহ কম’—ব্যবসায়ীদের দাবি

এলপিজি ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, কোম্পানি পর্যায় থেকে পর্যাপ্ত সিলিন্ডার না পাওয়ায় বাজারে সংকট তৈরি হচ্ছে। চট্টগ্রামের কয়েকজন ব্যবসায়ী এর আগে জানিয়েছিলেন, তাঁরা বেশি দামে সিলিন্ডার কিনে সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রি করতে পারছেন না। ফলে খুচরা বাজারেও দাম বেড়ে যাচ্ছে।
তবে ভোক্তাদের অভিযোগ, সরবরাহ কম থাকার অজুহাত দেখিয়ে কিছু ব্যবসায়ী সিলিন্ডার মজুত করে রাখছেন। পরে সংকটের সুযোগ নিয়ে বাড়তি দামে বিক্রি করছেন।

চট্টগ্রাম কেন গুরুত্বপূর্ণ

চট্টগ্রাম দেশের অন্যতম প্রধান আমদানি ও বাণিজ্যকেন্দ্র। এলপিজির বড় একটি অংশ আমদানিনির্ভর হওয়ায় চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে নগরের বাজার পরিস্থিতির সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।

ফলে বন্দরে আমদানি, খালাস, পরিবহন, ডিপো, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রির প্রতিটি স্তরে নজরদারি জরুরি। কোনো একটি পর্যায়ে সরবরাহ আটকে গেলে তার প্রভাব দ্রুত নগরের খুচরা বাজারে পড়ে।

আবাসিক গ্যাসের বিকল্প এখন এলপিজি

চট্টগ্রাম নগরে আবাসিক পর্যায়ে নতুন গ্যাস সংযোগ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ। ফলে নগরের বিপুলসংখ্যক পরিবার রান্নার জন্য এলপিজি সিলিন্ডারের ওপর নির্ভরশীল। সিলিন্ডারের দাম বাড়লে সরাসরি বাড়তি খরচের বোঝা পড়ে এসব পরিবারের ওপর।

একজন ভোক্তার ভাষায়, ‘বাসাবাড়িতে পাইপলাইনের গ্যাস নেই, তাই সিলিন্ডারই ভরসা। সেটিও যদি নির্ধারিত দামে না পাওয়া যায়, তাহলে সংসারের খরচ সামলানো কঠিন।’

সিন্ডিকেটের অভিযোগ তদন্তের দাবি

ভোক্তা অধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, এলপিজি বাজারে শুধু সরবরাহের ঘাটতি দিয়ে সব পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করা যায় না। সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার পরও কোথাও সংকট দেখা দিলে সেখানে মজুত, পরিবেশক ও খুচরা পর্যায়ে কারসাজি হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

চট্টগ্রামে নিয়মিত বাজার তদারকি, ডিলারদের মজুতের হিসাব যাচাই, সরবরাহের তথ্য প্রকাশ এবং নির্ধারিত দামে বিক্রি হচ্ছে কি না তা পরীক্ষা করার দাবি উঠেছে।

নজরদারি বাড়ানোর দাবি

সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু দোকানে অভিযান চালিয়ে এলপিজির বাজার নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। চট্টগ্রাম বন্দরে এলপিজি খালাস থেকে শুরু করে ডিপো, পরিবেশক ও খুচরা দোকান পর্যন্ত পুরো সরবরাহব্যবস্থাকে নজরদারির আওতায় আনতে হবে।
একই সঙ্গে প্রতিটি দোকানে মূল্যতালিকা টানানো, ক্রেতাকে রসিদ দেওয়া এবং সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি নেওয়া হলে দ্রুত অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা কার্যকর করা প্রয়োজন।

চট্টগ্রাম নগরবাসীর প্রশ্ন, আমদানি ও সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার পরও কেন সিলিন্ডার পাওয়া যাবে না এবং কেন অতিরিক্ত দাম দিতে হবে?

এলপিজি এখন চট্টগ্রামের লাখো পরিবারের রান্নার প্রধান ভরসা। তাই এই বাজারে কৃত্রিম সংকট কিংবা সিন্ডিকেটের অভিযোগ থাকলে তা দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভোক্তা

ফরিদা|চখ

এই বিভাগের আরও খবর