chattolarkhabor
চট্টলার খবর - খবরের সাথে সারাক্ষণ

রাউজানে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি, অভিযানে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার সন্ত্রাসী

চট্টগ্রামের রাউজানে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ অপরাধীচক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় এক সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় পুলিশের সঙ্গে সন্ত্রাসীদের গুলিবিনিময়ের ঘটনায় ১২ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পরে গ্রেপ্তার ব্যক্তির হেফাজত ও তার দেখানো স্থান থেকে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

বুধবার রাত ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে রাউজান থানাধীন ৮ নম্বর কদলপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ কদলপুর জয়নগর বড়ুয়া পাড়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

পুলিশ জানায়, মো. জানে আলম ওরফে ডাকাত আলম এবং মোহাম্মদ আজিজ ওরফে আজিজ বসের নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে চাঁদা দাবি ও আদায় করে আসছিল। সর্বশেষ গত ২৫ সেপ্টেম্বর তারা জনৈক আবু বক্কর চৌধুরীর বাড়িতে গিয়ে চাঁদা দাবি করে।

বিষয়টি যাচাই করে সত্যতা পাওয়ার পর চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম, বিপিএম রাউজান থানা পুলিশকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।

এর ধারাবাহিকতায় বুধবার রাতে জানে আলম ওরফে ডাকাত আলমের বসতঘরের সামনে অভিযান চালায় পুলিশ। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ঘরের ভেতরে থাকা জানে আলম (৪২), মোহাম্মদ আজিজ (৫২), দিলদার হোসেন (৩৭), মো. রুবেল (২৭), মো. মামুন-অর-রশিদ ওরফে মামুন (৩৫) এবং মো. বাঁচা (৪৫)সহ সন্ত্রাসীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে।

পুলিশ জানায়, আকস্মিক সশস্ত্র হামলার মুখে সদস্যরা আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ সময় এসআই মো. জান্নাতুন নাঈম রাজন, এসআই মো. খোরশেদ আলম, এসআই মো. বায়েজিদ মৃধা, এসআই মো. জাহাঙ্গীর আলম, এএসআই মো. জুয়েল চন্দ্র বিশ্বাস, এএসআই মো. রবিউল হোসেনসহ মোট ১২ জন পুলিশ সদস্য আহত হন।

অভিযানের একপর্যায়ে দিলদার হোসেনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আটক করা হয়। অন্যরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে দিলদারের হেফাজত ও তার দেখানো স্থান থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার করা অস্ত্র ও গোলাবারুদগুলো হলো- ১টি ডিবিবিএল (দোনলা বন্দুক),  ১টি এসবিবিএল (একনলা কাটা বন্দুক),  ১১৯ রাউন্ড চায়না রাইফেলের গুলি, ৬ রাউন্ড সীসা কার্তুজ, ৪টি রামদা, ২টি কটি এবং ২টি গুলি রাখার প্রসেস।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে গ্রেপ্তার দিলদার হোসেন ও পলাতক সহযোগীদের সংঘবদ্ধ ও অস্ত্রধারী অপরাধী হিসেবে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।

এর আগে, গত ২৯ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে কদলপুর এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে তিনজনকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে একটি দেশীয় তৈরি এলজি, দুই রাউন্ড সীসা কার্তুজ, একটি রামদা ও একটি ছোরা উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনায় ডাকাতির প্রস্তুতি ও অস্ত্র আইনে দুটি পৃথক মামলা করা হয়।

রাউজানে ধারাবাহিক এসব অভিযানের মধ্য দিয়ে চাঁদাবাজি, ডাকাতির প্রস্তুতি ও অস্ত্রধারী অপরাধীদের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তাসু/চখ

এই বিভাগের আরও খবর