মরক্কোর ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হলেন ফাতিমা মানসুরি
১৯৫৬ সালে স্বাধীনতা লাভ করা উত্তর আফ্রিকার দেশ মরক্কো ৭০ বছর পর প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী পেয়েছে। বাদশাহ ষষ্ঠ মোহাম্মদ দেশটির প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ফাতিমা এজ্জাহরা এল মানসুরিকে সরকার গঠনের অনুমোদন দিয়েছেন। গত সপ্তাহের সংসদীয় নির্বাচনে ফাতিমা মানসুরির দল জয় পাওয়ার পর তাকে নতুন সরকার গঠনের এই দায়িত্ব দেয়া হয়।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাজপ্রাসাদের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ৫০ বছর বয়সী এল মানসুরিকে নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি বর্তমানে নগর পরিকল্পনামন্ত্রী এবং এর আগে মারাকেশের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
সংসদ নির্বাচনে ভোটের ফল প্রকাশের চার দিন পর এ ঘোষণা দেওয়া হলো। ওই নির্বাচনে ফাতিমার মধ্যপন্থী দল অথেনটিসিটি অ্যান্ড মডার্নিটি পার্টি (পিএএম) সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়েছে। তবে মরক্কোর নির্বাচনি ব্যবস্থায় কোনো একক রাজনৈতিক দলের পক্ষে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করা কঠিন। এজন্য আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ফাতিমাকে একটি জোট সরকার গঠন করতে হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
টেলিভিশনে দেওয়া এক বক্তব্যে নিজের নিয়োগকে ‘সত্যিই ঐতিহাসিক’ বলে উল্লেখ করেন এল মানসুরি। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো নারী সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নিচ্ছেন। এটি শুধু আমার জন্য নয়, মরক্কোর সব নারীর জন্যই গর্বের বিষয়।’
১৯৭৬ সালে মারাকেশে জন্মগ্রহণ করেন ফাতিমা মানসুরি। ফ্রান্সের মন্টপেলিয়ের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর শিক্ষার ডিপ্লোমা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অ্যাংলো-স্যাক্সন ব্যবসায়িক আইনে ডিপ্লোমা সম্পন্ন করা আছে তাঁর।
২০০৯ সালে মারাকেশের মেয়র নির্বাচিত হয়ে শহরটির প্রথম নারী মেয়র হন ফাতিমা মানসুরি। প্রথম মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ২০২১ সালেও মেয়র হিসেবে ফেরেন তিনি।
বাদশাহর ঘনিষ্ঠ বন্ধু ফুয়াদ আলি এল হিম্মা ২০০৮ সালে পিএএম প্রতিষ্ঠা করেন। দলটি সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তবে জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (পিজেডি) এবং ফেডারেশন অব ডেমোক্র্যাটিক লেফটসহ কয়েকটি দল জানিয়েছে, তারা বিরোধী দলে থাকবে।
২০৩০ সালের ফিফা বিশ্বকাপের প্রধান আয়োজক দেশ মরক্কো, পর্তুগাল ও স্পেন। বিশ্বকাপকে সামনে রেখে কয়েক বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ কীভাবে বণ্টন করা হবে, তা নির্ধারণ করবে নতুন সরকার।
ফরিদা|চখ