chattolarkhabor
চট্টলার খবর - খবরের সাথে সারাক্ষণ

যে কারণে সারাক্ষণ ক্ষুধা লাগে

খাবার খাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর ক্ষুধা লাগা স্বাভাবিক। তবে পর্যাপ্ত খাবার খাওয়ার পরও যদি বারবার ক্ষুধা লাগে, তাহলে খাদ্যাভ্যাস, ঘুম, মানসিক চাপ ও সার্বিক স্বাস্থ্যের দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন। জীবনযাপনের বিভিন্ন কারণের পাশাপাশি কিছু শারীরিক অসুস্থতাও ক্ষুধা বাড়িয়ে দিতে পারে।

১. অপর্যাপ্ত ঘুম

‘ওবেসিটিস জার্নাল’-এ প্রকাশিত একটি গবেষণা অনুসারে, অপর্যাপ্ত ঘুম ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে প্রভাব ফেলতে পারে। এতে দিনের বেলায় বেশি ক্ষুধা লাগার পাশাপাশি উচ্চ ক্যালরিযুক্ত খাবারের প্রতি আকর্ষণও বাড়তে পারে।

নিয়মিত কম ঘুমালে শরীরের প্রয়োজন না থাকলেও বারবার কিছু খেতে ইচ্ছা করতে পারে। তাই নিয়মিত ঘুমের রুটিন মেনে চলা জরুরি।

২. অতিরিক্ত পরিশোধিত শর্করা

চিনিযুক্ত পানীয়, মিষ্টি, বিস্কুট, পেস্ট্রি ও অন্যান্য পরিশোধিত শর্করা-সমৃদ্ধ খাবার দ্রুত শক্তি দিলেও দীর্ঘ সময় তৃপ্ত রাখতে পারে না। ফলে সারা দিন বারবার ক্ষুধা লাগতে পারে।

গোটা শস্য, শাকসবজি, ডাল, ফল ও প্রোটিন-সমৃদ্ধ খাবার বেছে নিলে খাবার বেশি তৃপ্তিদায়ক হতে পারে। তবে শর্করা পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই; খাবারের ধরন, পরিমাণ ও ভারসাম্য গুরুত্বপূর্ণ।

৩. তৃষ্ণাকে ক্ষুধা মনে হওয়া

কখনো ক্ষুধা বলে মনে হওয়া অনুভূতিটি আসলে শরীরে তরলের প্রয়োজনের কারণে হতে পারে। গরম আবহাওয়া বা ব্যায়ামের পর এমনটা বেশি দেখা যায়।

খাবারের মাঝখানে হঠাৎ কিছু খেতে ইচ্ছা হলে প্রথমে পানি পান করে দেখতে পারেন। এরপরও ক্ষুধা থাকলে পুষ্টিকর নাশতা বা খাবার খান।

৪. খাবারে পর্যাপ্ত প্রোটিন বা ফাইবার না থাকা

পরিশোধিত শর্করার খাবার দ্রুত ক্ষুধা ফিরিয়ে আনতে পারে। অন্যদিকে প্রোটিন ও ফাইবার দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে।

ডিম, ডাল, মাছ, মুরগির মাংস, দই ও বাদামে প্রোটিন রয়েছে। শাকসবজি, ফল, গোটা শস্য, ডাল ও বীজ থেকে ফাইবার পাওয়া যায়। তাই খাবারে শর্করার পাশাপাশি প্রোটিন ও শাকসবজি রাখার চেষ্টা করুন।

৫. মানসিক চাপ বা আবেগতাড়িত খাওয়া

মানসিক চাপও ক্ষুধা বাড়াতে পারে। চাপের সময় শরীর কর্টিসলের মতো হরমোন নিঃসরণ করে, যা কারও কারও ক্ষেত্রে বেশি খাওয়ার প্রবণতা তৈরি করে।

এতে শারীরিকভাবে ক্ষুধা না পেলেও খাওয়ার অভ্যাস তৈরি হতে পারে। তাই খেয়াল করুন, মানসিক চাপ, একঘেয়েমি বা আবেগজনিত অস্থিরতার সময় খাওয়ার তাগিদ বাড়ে কি না।

৬. শারীরিক কার্যকলাপের তুলনায় কম খাওয়া

ব্যায়াম বা দৈনন্দিন শারীরিক কার্যকলাপ বাড়লে শরীরের অতিরিক্ত শক্তির প্রয়োজন হতে পারে। একইভাবে খাবারের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিলেও ক্ষুধা বেড়ে যেতে পারে।

ক্রীড়াবিদ ও শারীরিকভাবে শ্রমসাধ্য কাজ করেন এমন ব্যক্তিদের খাবারে পর্যাপ্ত ক্যালরি, প্রোটিন, ফাইবার ও স্বাস্থ্যকর চর্বি থাকা প্রয়োজন।

৭. কোনো শারীরিক অসুস্থতা

ক্রমাগত বা অস্বাভাবিকভাবে তীব্র ক্ষুধা কখনো শারীরিক অসুস্থতার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। ডায়াবেটিস এর একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। অতিরিক্ত তৃষ্ণা, ঘন ঘন প্রস্রাব, ক্লান্তি, ঝাপসা দৃষ্টি অথবা ক্ষুধার সঙ্গে ব্যাখ্যাতীত ওজন কমে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

অতিসক্রিয় থাইরয়েড বা হাইপারথাইরয়েডিজমও ক্ষুধা বাড়াতে পারে। এ ছাড়া কিছু ওষুধ, রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যাওয়া এবং কিছু মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যাও অতিরিক্ত ক্ষুধার কারণ হতে পারে।

কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন?

মাঝেমধ্যে ক্ষুধা লাগা স্বাভাবিক। তবে ক্ষুধা হঠাৎ বা ক্রমাগত বেড়ে গেলে, বিশেষ করে এর সঙ্গে অন্য কোনো ব্যাখ্যাতীত উপসর্গ থাকলে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

ফরিদা|চখ

এই বিভাগের আরও খবর