দেশে ৬১ শতাংশ মানুষ সুপেয় পানি বঞ্চিত
দেশের প্রায় ৬১ শতাংশ মানুষ নিরাপদ পানি পানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত। উপকূলীয় অঞ্চল, হাওর, পার্বত্য এলাকা ও নিম্নাঞ্চলের পাশাপাশি রাজধানীর বিভিন্ন এলাকাতেও নিরাপদ পানির সুযোগে বৈষম্য রয়েছে। এমন বাস্তবতায় সুপেয় পানিকে মৌলিক অধিকার হিসেবে নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের কার্যকর দায়বদ্ধতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
১২ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম লেকচার হলে ‘সুপেয় পানি—মৌলিক অধিকার নাকি বাণিজ্য’ শীর্ষক লেকচারে বক্তারা এসব কথা বলেন। রিডিং ক্লাব ট্রাস্ট ও আইনেরকথা.কম যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে ওয়াটারএইড বাংলাদেশের হেড অব পলিসি অ্যাডভোকেসি অ্যাডভোকেট ফাইয়াজউদ্দিন আহমদ বলেন, সুপেয় পানি জীবনধারণের মৌলিক উপাদান হলেও দেশের সব মানুষের জন্য এর সুযোগ সমান নয়। বিশেষ করে উপকূলীয়, হাওর, পার্বত্য ও নিম্নাঞ্চলের বসতিগুলোতে নিরাপদ পানির সংকট রয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকাতেও পানির সুযোগে বৈষম্য দেখা যায়।
তিনি বলেন, দেশের মাত্র ৩৯ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষ নিরাপদ পানি পানের সুযোগ পান। ফলে ৬০ দশমিক ৭ শতাংশ মানুষ নিরাপদ পানি থেকে বঞ্চিত। অনেক ক্ষেত্রে পানিতে ই. কোলাইয়ের মতো ক্ষতিকর জীবাণুর উপস্থিতিও পাওয়া যায়।
দেশের পানি ব্যবস্থাপনার কাঠামো নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ফাইয়াজউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, দেশে চারটি ওয়াসার বিপরীতে পৌরসভা রয়েছে পাঁচশতাধিক। এই কাঠামো মানুষের নিরাপদ পানির চাহিদা পূরণে কতটা সক্ষম, তা নতুন করে বিবেচনা করা প্রয়োজন। জীবনধারণের মৌলিক উপাদান পানির ওপর ভ্যাট আরোপ কতটা যৌক্তিক, সেটিও প্রশ্নসাপেক্ষ।
বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক তানভীর ইসলাম বলেন, ওয়াসার মাধ্যমে পানির দাম নিয়ন্ত্রণ করা হলেও সরকারি সেবার আওতার বাইরে থাকা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পানি সংগ্রহের উৎস অনেক ক্ষেত্রে অনিরাপদ। পানি সরবরাহ ও শুদ্ধিকরণে সরকারকে দায়িত্ব নিতে হবে।
নিরাপদ পানি নিশ্চিত করতে জনগণের সচেতনতা ও অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেন যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ডেন গেট ইউনিভার্সিটির সিনিয়র ফেলো ও অ্যাডজাঙ্ক্ট প্রফেসর ড. জাকিয়া আফরিন।
তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানের ফ্লিন্ট শহরের পানি সংকটের উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, সেখানে পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার ব্যর্থতার বিরুদ্ধে জনগণ সংগঠিত হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।
পানির বাণিজ্যিক ব্যবহার নিয়েও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান জাকিয়া আফরিন। বিভিন্ন করপোরেশন কী পরিমাণ পানি ব্যবহার করছে, সে বিষয়ে নজরদারি প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ডেটা সেন্টারগুলোর পানির ব্যবহার ভবিষ্যতে বাংলাদেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে বলে জানান তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও সংবিধান ও আইনের ইতিহাসবিষয়ক গবেষক আরিফ খান বলেন, সুপেয় পানি জনগণের সম্পদ। পানির ওপর জনগণের অধিকার নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায় রয়েছে। এ দায় বাস্তবায়নে সরকার ও জনগণকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে প্রশ্নোত্তর ও উন্মুক্ত আলোচনা পর্ব পরিচালনা করেন রিডিং ক্লাব ট্রাস্টের ট্রাস্টি রাশেদ রাহম। এতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, রিডিং অ্যাসোসিয়েট এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
ফরিদা|চখ