chattolarkhabor
চট্টলার খবর - খবরের সাথে সারাক্ষণ

সাংবাদিকের মোবাইল চুরির পর বিকাশে লোন ও টাকা লেনদেন

চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালী এলাকায় চলন্ত গাড়ি থেকে এক সাংবাদিকের মোবাইল ফোন চুরির পর তাঁর বিকাশ অ্যাকাউন্টের পিন রিসেট করে অনলাইন লোন নেওয়া ও টাকা লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্টেশন রোডের একটি বিকাশ এজেন্টের দোকানের সিসিটিভি ফুটেজে এক অজ্ঞাত যুবককে দেখা গেছে।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম দৈনিক সাঙ্গুর জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক। ঘটনার সঙ্গে সাত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টতা তদন্তের দাবি জানিয়ে গত ৬ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে সাতটার দিকে কোতোয়ালী মোড় থেকে কাজীর দেউড়ি-স্টেডিয়াম এলাকায় যাওয়ার সময় চলন্ত গাড়ি থেকে নজরুল ইসলামের মোবাইল ফোনটি চুরি হয়। বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানান এবং তাঁর বিকাশ অ্যাকাউন্টে অননুমোদিত লেনদেন ঠেকানোর অনুরোধ করেন।

তবে অভিযোগ অনুযায়ী, এরপরও ওই অ্যাকাউন্টে একাধিক লেনদেন হয়। সকাল ৭টা ৪২ মিনিটে বিকাশ-সিটি ব্যাংকের অনলাইন লোন সেবা থেকে ২ হাজার টাকা লোন নেওয়া হয়। পরে সকাল ৮টা ২২ মিনিটে স্টেশন রোডের ‘শিমলা ঝাল বিতান’ নামের বিকাশ এজেন্টের মাধ্যমে ১৩ হাজার টাকা লেনদেন বা ক্যাশ আউট করা হয়। সকাল ৮টা ৪৯ মিনিটে ০১৮৪৫৫৩০১৯১ নম্বরেও টাকা লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।

নজরুল ইসলামের দাবি, এসব লেনদেন তিনি করেননি এবং কাউকে তাঁর হয়ে লেনদেনের অনুমতিও দেননি।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ২ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টার দিকে ০১৭৬৬৬৮২৩৬৯ নম্বর থেকে একজন ফোন করে নিজেকে বিকাশের প্রধান কার্যালয়ের কর্মকর্তা পরিচয় দেন। তিনি টাকা উদ্ধার করে দেওয়ার কথা বলেন। পরে মুরাদপুরের বিকাশ সেবা কেন্দ্রে যোগাযোগ করে ওই নম্বরটি বিকাশের কোনো কর্মকর্তার নয় বলে জানতে পারেন বলে দাবি করেন নজরুল।

মোবাইল চুরির পর তাঁর ব্যবহৃত ০১৮১২৩৭৫৭৫৫ নম্বরের সেবা বন্ধ বা ডিঅ্যাক্টিভেশন করা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তিনি। নজরুল জানান, ১ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টার দিকে কোতোয়ালীর একটি রবি সেবা কেন্দ্র থেকে একই নম্বরের সিম পুনরায় নেন। নতুন সিমটি অন্য ফোনে চালু করার পর কল করতে পারলেও সেদিন কোনো কল আসছিল না। পরদিন মুরাদপুরের রবি সেবা কেন্দ্রে যোগাযোগ করলে তাঁর নম্বরের বিষয়ে ডিঅ্যাক্টিভেশন বা সেবা-সংক্রান্ত কোনো অনুরোধ করা হয়েছিল বলে তথ্য পান বলে অভিযোগে উল্লেখ করেছেন তিনি।

ঘটনার পরপরই তিনি কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানান এবং ওই দিনই থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডির নম্বর ৪৩।

অভিযোগে স্টেশন রোডের ‘শিমলা ঝাল বিতান’, ০১৮৪৫৫৩০১৯১ নম্বর ব্যবহারকারী অজ্ঞাত ব্যক্তি, ০১৭৬৬৬৮২৩৬৯ নম্বর ব্যবহারকারী অজ্ঞাত ব্যক্তি, বিকাশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, রবি ও বিকাশ অনলাইন লোন সেবার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। তবে অভিযোগে নাম আসা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে—এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগকারী তাঁদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে যাচাইয়ের আবেদন করেছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, স্টেশন রোডের বিকাশ এজেন্টের দোকানের সিসিটিভি ফুটেজে এক যুবককে দেখা গেছে। ফুটেজ সংগ্রহ করে তা যাচাই করা হচ্ছে। পাশাপাশি লেনদেনের সময় ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর, ডিভাইসসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

কোতোয়ালী থানার এসআই রাশেদুল ইসলাম বলেন, মোবাইল চুরির পর বিকাশের পিন রিসেট করে অর্থ লেনদেনের ঘটনায় জড়িত যুবককে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। যে দোকান থেকে টাকা লেনদেন হয়েছে, সেখান থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। আশপাশের লোকজনের সঙ্গেও কথা বলা হয়েছে।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহেদ নূর বলেন, সাংবাদিকের মোবাইল চুরির পর বিকাশের পিন রিসেট করে অর্থ লেনদেনের ঘটনায় জড়িত এক যুবকের কিছু ছবি ও ভিডিও পুলিশের হাতে এসেছে। বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
ফরিদা|চখ

এই বিভাগের আরও খবর