মৌসুমী হিজড়া হত্যা : সিসিটিভিতে রহস্যময় ‘কথিত স্বামী’ ধরা
গত শনিবার সকালে খুলশী থানার আমবাগান রেলওয়ে কলোনি সংলগ্ন হিজড়া কলোনির নিজ বাসা থেকে মৌসুমী হিজড়ার মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি সেখানে একাই বসবাস করতেন এবং হিজড়া সম্প্রদায়ের একটি অংশের কাছে ‘গুরুমা’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। প্রতিবেশী ও সম্প্রদায়ের সদস্যরা সকালে তার কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে ঘরে গিয়ে বিছানায় উপুড় অবস্থায় মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। তার মুখ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল এবং গলায় দাগ ছিল। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
তদন্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হয়ে ওঠে আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ। ফুটেজ অনুযায়ী, ঘটনার দিন শুক্রবার দিবাগত রাত ১টা ১৪ মিনিটের দিকে সাদা টি-শার্ট পরা এক যুবক মৌসুমীর ঘরে প্রবেশ করেন। প্রায় তিন ঘণ্টা পর রাত ৩টা ৫২ মিনিটের দিকে তাকে ঘর থেকে বের হতে দেখা যায়। এর আগে পুলিশ জানিয়েছিল, যুবকটি দরজায় টোকা দিলে মৌসুমী নিজেই দরজা খুলে দেন। ফলে তদন্তকারীদের ধারণা ছিল, ওই যুবক সম্ভবত মৌসুমীর পূর্বপরিচিত ছিলেন। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের পর পুলিশ ওই যুবককে মোমিন হিসেবে শনাক্ত করে। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার আগের দিন মৌসুমী একটি গরু বিক্রি করেছিলেন। সেই গরু বিক্রির মোটা অঙ্কের টাকা তার ঘরে থাকার কথা ছিল। পরদিন তার আরও একটি গরু কেনার পরিকল্পনাও ছিল। কিন্তু হত্যাকাণ্ডের পর সেই টাকা আর পাওয়া যাচ্ছে না। একই সঙ্গে মৌসুমীর ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোনও নিখোঁজ রয়েছে। এ কারণে পুলিশ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে অর্থ লুটের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখছে।
মৌসুমীর লাশ উদ্ধারের পর থেকেই হিজড়া সম্প্রদায়ের সদস্যরা ঘটনাটিকে স্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে মেনে নিতে নারাজ ছিলেন। গলায় দাগ, মুখে রক্ত এবং মরদেহের অবস্থাসহ বিভিন্ন আলামত হত্যাকাণ্ডের সন্দেহ তৈরি করে। প্রাথমিক পর্যায়ে পুলিশও ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করে। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়।
তবে বিভিন্ন গণমাধ্যমে গলা কাটা বা শ্বাসরোধের মতো ভিন্ন ভিন্ন বর্ণনা এসেছে। তাই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
মৌসুমীর বাবা রুস্তম আলী বাদী হয়ে খুলশী থানায় হত্যা মামলা করেছেন। শুরুতে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছিল। এরপর তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে মোমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার মোমিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে এখনই সব তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে না। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।