chattolarkhabor
চট্টলার খবর - খবরের সাথে সারাক্ষণ

চট্টগ্রাম বন্দরে ৩ কোটি টাকার কাপড়ভর্তি কনটেইনার গায়েব

এক সপ্তাহেও মিলছে না হদিস, তদন্ত কমিটি গঠন; কয়েক মাস আগেও গায়েব হয়েছিল কোটি টাকার পণ্যভর্তি কনটেইনার

দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দরের অভ্যন্তর থেকে এবার প্রায় তিন কোটি টাকা মূল্যের কাপড়ের রোলভর্তি একটি কনটেইনার গায়েব হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কাস্টমস ও বন্দরের সব ধরনের রাজস্ব ও চার্জ পরিশোধের পর ডেলিভারি নিতে গিয়ে কনটেইনারটি না পাওয়ায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে আমদানিকারক ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মধ্যে। এক সপ্তাহের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও কনটেইনারটির অবস্থান শনাক্ত করা যায়নি।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর বন্দরজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে বিষয়টি তদন্তে কমিটি গঠন করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, গত ১৫ আগস্ট চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি-২ বার্থে ‘এমভি এমসিসি ডানাং’ জাহাজ থেকে একটি ৪০ ফুটের এফসিএল কনটেইনার খালাস করা হয়। কনটেইনারটির নম্বর MRSU-8692827। এতে সাভারের কালিয়াকৈরের রপ্তানিমুখী পোশাক শিল্পপ্রতিষ্ঠান গোল্ড স্টার গার্মেন্টস লিমিটেডের ৬৬৮ বেল ফেব্রিক্স বা কাপড়ের রোল ছিল।
কাস্টমস সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, আমদানিকারকের পক্ষে সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান এস আর এস সিন্ডিকেট গত ২২ আগস্ট কাস্টমসের অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সার্ভারে বিল অব এন্ট্রি দাখিল করে। এরপর কাস্টমস ও বন্দরের প্রয়োজনীয় সব ধরনের রাজস্ব ও চার্জ পরিশোধ করা হয়।

নিয়ম অনুযায়ী গত ৩০ আগস্ট বন্দরের সিসিটি ইয়ার্ড থেকে কনটেইনারটি ডেলিভারি নেওয়ার জন্য গেলে বিপত্তি দেখা দেয়। সংশ্লিষ্টরা কনটেইনারটির কোনো অবস্থান শনাক্ত করতে পারেননি।

পরবর্তীতে কয়েকদিন ধরে খোঁজাখুঁজি করেও কনটেইনারটির সন্ধান না পাওয়ায় গত ২ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী মো. হাফিজুর রহমান।

তিনি জানিয়েছেন, কনটেইনারে থাকা কাপড়ের রোলগুলোর পুরো চালানই রপ্তানিমুখী। এর আনুমানিক মূল্য প্রায় তিন কোটি টাকা। নির্ধারিত সময়ে কাপড় না পাওয়ায় গোল্ড স্টার গার্মেন্টসও সমস্যায় পড়েছে। সময়মতো এসব কাপড় দিয়ে উৎপাদন শেষ করে বিদেশি ক্রেতার কাছে রপ্তানি পণ্য পাঠাতে না পারলে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি ব্যবসায়িক সুনামও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানটির দাবি, অভিযোগের পর বন্দর কর্তৃপক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কনটেইনারটির কোনো হদিস পাওয়া যায়নি।
আগেও গায়েব হয়েছিল কোটি টাকার কনটেইনার
বর্তমান ঘটনার সঙ্গে সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—চট্টগ্রাম বন্দরের ইয়ার্ড থেকে কনটেইনার গায়েব হওয়ার ঘটনা এবারই প্রথম নয়।

এর আগে চলতি বছরের মে মাসে বন্দরের ইয়ার্ড থেকে কয়েক কোটি টাকা মূল্যের গার্মেন্টস কাপড়ভর্তি একটি কনটেইনার গায়েব হওয়ার ঘটনায় বন্দরের দুই কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করেছিল বন্দর থানা পুলিশ। ওই ঘটনায় গ্রেপ্তার হন মিজানুর রহমান ও আবু সুফিয়ান। কনটেইনারটিতে কয়েক কোটি টাকার কাপড় ছিল বলে তখন জানানো হয়েছিল।
অর্থাৎ কয়েক মাসের ব্যবধানেই বন্দরের অভ্যন্তরে পণ্যভর্তি কনটেইনারের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থায় প্রশ্ন

চট্টগ্রাম বন্দর দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের প্রধান প্রবেশদ্বার। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বন্দরে রেকর্ড ৩৫ লাখ ৩১ হাজার ১১৩ টিইইউস কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে বলে বন্দর-সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
এত বিপুল পরিমাণ কনটেইনার পরিচালনার মধ্যে একটি নির্দিষ্ট কনটেইনার বন্দরের ইয়ার্ডে ঢোকার পর সেটির অবস্থান শনাক্ত করতে না পারার ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—কনটেইনারটির মুভমেন্ট, ইয়ার্ড পজিশন, গেট পাস, স্ক্যানিং, সিসিটিভি এবং সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল রেকর্ড যথাযথভাবে সংরক্ষিত ও তদারকি করা হয়েছিল কি না।
এর আগে বন্দরে কনটেইনার উধাও হওয়ার বিভিন্ন ঘটনায়ও নিরাপত্তা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ২০২৫ সালে দুই কনটেইনার গায়েব হয়ে প্রায় দেড় কোটি টাকার পণ্য নিখোঁজ হওয়ার খবরও প্রকাশিত হয়েছিল। এ ছাড়া ২০২৬ সালের শুরুতে নিলামে বিক্রি হওয়া পণ্যভর্তি কনটেইনার উধাও হওয়ার বিষয় নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।

বন্দর কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি

ঘটনার বিষয়ে জানতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।  তবে বন্দর কর্তৃপক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বলে জানিয়েছেন অভিযোগকারী সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী।

ফরিদা|চখ

এই বিভাগের আরও খবর