শাপলা চত্বরে হত্যাযজ্ঞ :
হাসিনাসহ ৩০ আসামিকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ
শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডের মামলায় পলাতক শেখ হাসিনা, সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদ ও সাবেক আইজিপি বেনজীরসহ ৩০ আসামিকে ১৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
একই সঙ্গে এ বিষয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
বৃহস্পতিবার প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
সকালে গ্রেপ্তার হাসানুল হক ইনু, শাহরিয়ার কবির, দীপু মনিসহ ১০ আসামিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তবে অসুস্থ থাকায় আনা হয়নি সাংবাদিক ফারজানা রুপাকে।
এর আগে গত ২৭ জুলাই শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল। শাপলা চত্বরের ঘটনায় এ পর্যন্ত ৬১ জন নিহতের তালিকা পাওয়া গেছে, যাদের মধ্যে ৫৮ জনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে।
মামলায় গ্রেপ্তারদের মধ্যে রয়েছেন— সাবেক মন্ত্রী দীপু মনি, শামসুল হক টুকু, জিয়াউল আহসান, এ কে এম শহীদুল হক, শাহরিয়ার কবির, আবদুল জলিল মণ্ডল, সাংবাদিক ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবু।
পলাতকরা হলেন— পলাতক শেখ হাসিনা, ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মাহবুবউল আলম হানিফ, ড. হাসান মাহমুদ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস, জাহাঙ্গীর কবির নানক, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, ওমর ফারুক চৌধুরী, সালাউদ্দিন মাহমুদ, ডা. ইমরান এইচ সরকার, হাসান মাহমুদ খন্দকার, ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, বেনজীর আহমেদ, মো. মোখলেছুর রহমান, জেনারেল আজিজ আহমেদ, লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মজিবুর রহমান, শেখ মুহাম্মাদ মারুফ হাসান, মাহবুব হোসেন, মনিরুল ইসলাম, মো. আনোয়ার হোসেন, আশরাফুজ্জামান, এসএম মেহেদী হাসান, সাবেক হারুন-অর-রশীদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সৈয়দ নুরুল ইসলাম, মো. আসাদুজ্জামান, এসএম শিবলী নোমান এবং বিএম ফরমান আলী।
এর আগে গত ১৬ আগস্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় ১১ আসামিকে হাজির করার কথা ছিল। তবে, দুজনের নামে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট ইস্যু না হওয়া এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারিকৃত ব্যক্তিদের নন এক্সিকিউটিভ রিপোর্ট বা এনইআর না আসায় সময় চায় প্রসিকিউশন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আজকের দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।
গত ২৭ জুলাই ৪১ আসামির বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল-২। একই সঙ্গে পলাতকদের নামে পরোয়ানা ও গ্রেপ্তারদের হাজিরের নির্দেশ দেওয়া হয়। এ মামলায় দুটি অভিযোগের মধ্যে প্রথমটিতে ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে ঢাকায় ৩২ জনকে হত্যার ঘটনা আনা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে ২০১৩ সালের ৫ মে আসামিদের যোগসাজশে রাতের আঁধারে বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট বন্ধ হেফাজতে ইসলামকে নির্মূল করতে হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়।
দ্বিতীয় অভিযোগে আনা হয়েছে, ৬ মে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ২০ জনসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞের ঘটনা।
ফরিদা|চখ