chattolarkhabor
চট্টলার খবর - খবরের সাথে সারাক্ষণ

চট্টগ্রামে হাম-ডেঙ্গুর জোড়া চাপে স্বাস্থ্যঝুঁকি

বর্ষা শেষ হওয়ার আগেই চট্টগ্রামের জনস্বাস্থ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে ডেঙ্গু। এর সঙ্গে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসা হামের সংক্রমণ যোগ হয়ে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। একদিকে হাসপাতালগুলোতে হামের উপসর্গ নিয়ে শিশু রোগীর চাপ, অন্যদিকে দ্রুত বাড়তে থাকা ডেঙ্গু রোগী দুই ধরনের সংক্রমণ সামাল দিতে গিয়ে চাপ বাড়ছে চিকিৎসাব্যবস্থার ওপর।

সর্বশেষ চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামে হামের উপসর্গ নিয়ে এ পর্যন্ত বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬ হাজার ৭৯০ জন। এর মধ্যে ৬ হাজার ৫৩২ জন চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছে। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে ২৫৮ জন। এ পর্যন্ত পরীক্ষায় হাম শনাক্ত হয়েছে ৭১৬ জনের। হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ১২ জন এবং নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে তিন জনের।

অন্যদিকে ডেঙ্গুতেও পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে। ২৮ আগস্ট পর্যন্ত চট্টগ্রাম জেলায় চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৭৯ জনে। এর মধ্যে আগস্ট মাসেই আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৪৫ জন। অর্থাৎ বছরের প্রথম সাত মাসের তুলনায় মাত্র ২৮ দিনেই আগস্টে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বেশি হয়েছে। এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে চারজনের।

চট্টগ্রামে চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৮৩৪ জন। কিন্তু আগস্টের ২৮ দিনেই আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৪৫ জন। এর আগে জুলাইয়ে আক্রান্ত হয়েছিলেন ৫৩৬ জন, জুনে ১২২ জন, মে মাসে ৩৭ জন, এপ্রিলে ২৯ জন, মার্চে ২০ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২২ জন এবং জানুয়ারিতে ৬৮ জন। অর্থাৎ জুন থেকে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়লেও আগস্টে এসে তা রীতিমতো বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। শুধু ২৮ আগস্টেই নতুন করে ৩২ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষের সংখ্যাই বেশি। চলতি বছরের মোট আক্রান্তদের মধ্যে ১ হাজার ১৪ জন পুরুষ, ৫০৪ জন নারী এবং ৩৬১ জন শিশু।

ডেঙ্গুর এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার পেছনে নগরীতে এডিস মশার প্রজননস্থল বৃদ্ধি অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এর আগে স্বাস্থ্য বিভাগের জরিপে নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৮টি ওয়ার্ডের ৩৭০টি বাড়ি পরিদর্শন করে ৯৯টি বাড়িতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়। অর্থাৎ পরিদর্শন করা বাড়ির প্রায় ২৬ দশমিক ৭৬ শতাংশেই লার্ভার উপস্থিতি ছিল। এসব বাড়িতে ১১৪টি পজিটিভ কনটেইনারও শনাক্ত করা হয়েছিল।

হাম এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নয়
ডেঙ্গুর পাশাপাশি চট্টগ্রামে হামের পরিস্থিতিও উদ্বেগের কারণ হয়ে আছে। চলতি বছরের মার্চের শেষ দিক থেকে শিশুদের মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি শুরু হয়। এরপর কয়েক মাস ধরে রোগীর চাপ সামলাতে হয়েছে নগরীর হাসপাতালগুলোকে। আগস্টের মাঝামাঝি সময়েও একদিনে ১৮ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছিল। তখন মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৭১৬ জনে। এরমধ্যে নগরীর ৪৭২ জন এবং বিভিন্ন উপজেলার ২৪৪ জন।

সর্বশেষ হিসাবেও হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৬ হাজার ৭৯০। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়েছে ৬ হাজার ৫৩২ জন। তবে ২৫৮ শিশু এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। হামের উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা ১২ এবং নিশ্চিত হামে মৃত্যুর সংখ্যা তিন।

একই সময়ে দুটি ভিন্ন ধরনের সংক্রমণ সক্রিয় থাকায় হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ বেড়েছে। হাম প্রধানত শিশুদের বেশি আক্রান্ত করছে, আর ডেঙ্গুতে শিশুদের পাশাপাশি তরুণ ও প্রাপ্তবয়স্করাও আক্রান্ত হচ্ছেন।

চট্টগ্রামে আগের ডেঙ্গু পরিস্থিতির দিকে তাকালেও উদ্বেগের কারণ রয়েছে। ২০২৩ সালে জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ১৪ হাজার ৮৭ জন এবং মারা যান ১০৭ জন। ২০২৪ সালে আক্রান্তের সংখ্যা কমে ৪ হাজার ৩২৩ হলেও মৃত্যু হয় ৪৫ জনের। ২০২৫ সালে আক্রান্ত হন ৪ হাজার ৮৬৪ জন এবং মৃত্যু হয় ২৫ জনের।

ফলে আগস্টে মাত্র এক মাসে এক হাজারের বেশি ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হওয়ার ঘটনা সামনে আসায় সেপ্টেম্বর নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, বর্ষার পানি জমে থাকা এবং এডিসের প্রজননস্থল যথাসময়ে ধ্বংস করা না গেলে সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে।

ফরিদা|চখ

এই বিভাগের আরও খবর