চা-দোকানের কথাকাটাকাটি, রাতে কুপিয়ে হত্যা বৃদ্ধকে
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মোহাম্মদ আবদুল মান্নান (৬২) নামে এক বৃদ্ধকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় একই গ্রামের মোজাম্মেল হক (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন।
মঙ্গলবার রাতে উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আস্তানা শরীফ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আবদুল মান্নান ও অভিযুক্ত মোজাম্মেল হক একই গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত মান্নানের জ্যেঠাতো ভাই মোহাম্মদ বাহাদুরের ছেলে সম্প্রতি মোজাম্মেলের খালাতো বোনকে বিয়ে করেন। ওই তরুণ-তরুণীর মধ্যে আগে থেকেই প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। বিয়ের পর বাহাদুরের ছেলে প্রায় এক সপ্তাহ আগে বিদেশে চলে যান।
এ বিয়ে নিয়ে গ্রামের বাজারের একটি চা দোকানে বসে বিভিন্ন কথাবার্তা বলতেন মোজাম্মেল। নিহত মান্নানও ওই দোকানে নিয়মিত যাতায়াত করতেন।
পুলিশ বলছে, মান্নানকে দেখলেই বিয়ের বিষয়টি নিয়ে মোজাম্মেল ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ ও উসকানিমূলক মন্তব্য করতেন।
ঘটনার দিন বিকেলে দুজন একই চা দোকানে বসে চা পান করছিলেন। এ সময় কথার একপর্যায়ে মোজাম্মেল বাহাদুরকে পেলে মারধর করবেন বলে হুমকি দেন। মান্নান এর প্রতিবাদ করলে দুজনের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে মোজাম্মেল মান্নানের শার্টের কলার ধরে মারতে উদ্যত হন। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে পরিস্থিতি শান্ত করে দুজনকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।
রাঙ্গুনিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ জহির উদ্দিনের ভাষ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যার দিকে মান্নান আবার ওই চা দোকানে যান। সেখানে তিনি মোজাম্মেলের বিরুদ্ধে ইউনিয়ন পরিষদে সালিশ বৈঠক করার কথা জানান। পরে রাত ৮টার দিকে বাজার থেকে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন তিনি।
ওসি জানান, বাড়িতে তখন মান্নানের স্ত্রী নামাজ পড়ছিলেন। হঠাৎ ঘরের বাইরে থেকে গোঙানির শব্দ শুনে তিনি বেরিয়ে আসেন। এ সময় বাড়ির বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় মান্নানকে কাতরাতে দেখেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় গুরুতর আহত মান্নানকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। রাত ১০টার দিকে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
খবর পেয়ে রাঙ্গুনিয়া থানার ওসির নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। নিহতের স্বজনরা পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন, রাতের অন্ধকারে মোজাম্মেল মান্নানকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র সম্পর্কে নিশ্চিত হতে তদন্ত চলছে। পাশাপাশি অভিযুক্ত মোজাম্মেল হককে গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বিকেলের প্রকাশ্য বাকবিতণ্ডার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাতে বৃদ্ধ মান্নানের রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকার ঘটনা ঘটায় বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের পেছনে তাৎক্ষণিক বিরোধের বাইরে অন্য কোনো কারণ ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
ফরিদা|চখ