চট্টগ্রাম বন্দর
‘স্পেয়ার পার্টস’ বলে কনটেইনারে ঢুকল কোটি টাকার বিলাসবহুল গাড়ি!
চট্টগ্রাম বন্দরে কাস্টমসের অভিযানে BMW, Lexus LX-600 ও SC-430-এর অংশ উদ্ধার; মূল্য ১২ কোটি টাকা পর্যন্ত, খতিয়ে দেখা হচ্ছে মানিলন্ডারিংয়ের সম্ভাবনাও।
চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ‘ইউজড স্পেয়ার পার্টস’ বা পুরোনো গাড়ির যন্ত্রাংশ আমদানির ঘোষণা দিয়ে আনা একটি কনটেইনার খুলতেই বেরিয়ে এলো কোটি কোটি টাকা মূল্যের বিলাসবহুল গাড়ির বিভিন্ন অংশ। কনটেইনারে পাওয়া গেছে BMW, Lexus LX-600 ও Lexus SC-430 মডেলের গাড়ির গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ, ইঞ্জিন ও বিপুল পরিমাণ টায়ার।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কনটেইনারটি খুলে এসব পণ্য জব্দ করেন কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের (সিআইআইডি) কর্মকর্তারা।
প্রাথমিক হিসাবে উদ্ধার করা গাড়ির অংশ ও যন্ত্রাংশের বাজারমূল্য প্রায় ৯ কোটি ৫০ লাখ থেকে ১২ কোটি টাকা হতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে বিস্তারিত যাচাই-বাছাই ও মূল্যায়নের পর প্রকৃত মূল্য নির্ধারণ করা হবে।
কাস্টমস গোয়েন্দা সূত্র জানায়, জাপান থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে আসা কনটেইনারটির পণ্য হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল ‘ইউজড স্পেয়ার পার্টস’। কিন্তু কনটেইনার খুলে দেখা যায়, এর ভেতরে সাধারণ পুরোনো যন্ত্রাংশের পাশাপাশি বিলাসবহুল গাড়ির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অংশ রয়েছে। এমনকি আলাদা আলাদা করে রাখা হয়েছে গাড়ির ইঞ্জিনসহ বিভিন্ন মূল্যবান কম্পোনেন্ট।
এক ঘোষণায়, কনটেইনারে অন্য পণ্য
শুল্ক কর্মকর্তাদের কাছে বিষয়টি সন্দেহজনক হয়ে ওঠে মূলত ঘোষিত পণ্য ও বাস্তবে পাওয়া পণ্যের মধ্যে বড় ধরনের অসামঞ্জস্যের কারণে। কনটেইনারে পাওয়া সামগ্রীর মধ্যে BMW, Lexus LX-600 এবং Lexus SC-430-এর অংশ শনাক্ত করা হয়েছে। এর সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের টায়ার ও অন্যান্য গাড়ির যন্ত্রাংশও রয়েছে।
তবে এসব অংশ দিয়ে সম্পূর্ণ গাড়ি তৈরি করা সম্ভব কি না, কোন মডেলের কতটি গাড়ির অংশ রয়েছে এবং প্রতিটি অংশের প্রকৃত বাজারমূল্য কত—তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নির্ধারণ করা হয়নি। এ কারণে পুরো চালানটি বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার আওতায় নেওয়া হয়েছে।
এক মাসেও বিল অব এন্ট্রি নেই
আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, চালানটি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর পর প্রায় এক মাস পার হয়ে গেলেও সংশ্লিষ্ট আমদানিকারকের পক্ষ থেকে এখনো বিল অব এন্ট্রি দাখিল করা হয়নি বলে কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে।
এ অবস্থায় চালানটি নিলাম প্রক্রিয়ার মাধ্যমে খালাসের চেষ্টা করা হচ্ছিল বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিষয়টি জানতে পেরে কাস্টমস গোয়েন্দা কর্মকর্তারা কনটেইনারটি পরীক্ষা করেন। এরপরই ঘোষণার সঙ্গে বাস্তবে থাকা পণ্যের বড় ধরনের অমিল সামনে আসে।
কাস্টমস কর্মকর্তারা এখন শুধু পণ্যের প্রকৃত মূল্য নির্ধারণেই সীমাবদ্ধ থাকছেন না। চালানটির আমদানি মূল্য, এলসি বা পেমেন্টের ধরন, বাণিজ্যিক দলিলপত্র, আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেনও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
কাস্টমস গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, উদ্ধার করা গাড়ির অংশ, ইঞ্জিন ও অন্যান্য যন্ত্রাংশের সম্মিলিত মূল্য ৯ কোটি ৫০ লাখ থেকে ১২ কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে। তবে এটি এখনো চূড়ান্ত মূল্য নয়।
প্রতিটি যন্ত্রাংশের ধরন, মডেল, উৎপাদন সাল, ব্যবহারযোগ্যতা, অবস্থা এবং আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারদর যাচাই করে চালানটির প্রকৃত মূল্য নির্ধারণ করা হবে।
এরপর ঘোষিত মূল্যের সঙ্গে প্রকৃত মূল্যের পার্থক্য এবং প্রযোজ্য শুল্ক-কর হিসাব করা হবে।
কাস্টমস গোয়েন্দা কর্তৃপক্ষ বলছে, পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত চালানটির বিষয়ে চূড়ান্ত মন্তব্য করা যাচ্ছে না। তবে ঘোষিত ‘ইউজড স্পেয়ার পার্টস’-এর আড়ালে বিপুল অর্থমূল্যের বিলাসবহুল গাড়ির অংশ পাওয়ার ঘটনায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
ফরিদা|চখ