৭৫ কোটি টাকার টেন্ডার জালিয়াতি: জি কে শামীমের বিচার শুরু
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) নতুন কলা ও মানববিদ্যা অনুষদ ভবনের দ্বিতীয় পর্যায়ের নির্মাণকাজ পেতে জাল নথি ও অসত্য তথ্য ব্যবহারের অভিযোগে আলোচিত ঠিকাদার গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীমের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। এর মধ্য দিয়ে মামলাটির আনুষ্ঠানিক বিচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
রোববার (৩০ আগস্ট) চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. মিজানুর রহমান শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পাবলিক প্রসিকিউটর রেজাউল করিম রনি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আগামী ২০ সেপ্টেম্বর মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর দিন ধার্য করেছেন আদালত।
মামলার নথি অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ষষ্ঠ একাডেমিক ভবন তথা দ্বিতীয় কলা ও মানববিদ্যা অনুষদ ভবনের দ্বিতীয় পর্যায়ের নির্মাণকাজের প্রাক্কলিত মূল্য ছিল প্রায় ৭৫ কোটি টাকা। কাজটি পেতে জি কে শামীমের প্রতিষ্ঠান জি কে বি অ্যান্ড কোম্পানি (প্রা.) লিমিটেড ও দি বিল্ডার্স ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেড যৌথভাবে দরপত্রে অংশ নেয়। মূল্যায়ন শেষে ২০১৬ সালের ২৪ অক্টোবর তাদের যৌথ উদ্যোগকে ৭৫ কোটি ১ লাখ ২৯৫ টাকা মূল্যের কার্যাদেশ দেওয়া হয়। কাজ শেষ করার সময়সীমা ছিল ৭০০ দিন।
দুদকের অভিযোগ, দরপত্রে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা পূরণ না থাকলেও আগের একক মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান এম/এস জি কে বিল্ডার্সের অভিজ্ঞতা ও টার্নওভার নতুন কোম্পানির নামে দেখানো হয়। দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী ১০ বছরের সাধারণ নির্মাণ অভিজ্ঞতা, নির্দিষ্ট মূল্যের বহুতল ভবন নির্মাণের অভিজ্ঞতা, পাঁচ বছরের গড় টার্নওভার এবং নির্দিষ্ট পরিমাণ লিকুইড অ্যাসেট থাকার শর্ত ছিল।
তদন্তে আরও অভিযোগ করা হয়, কোম্পানির নিবন্ধন ও শেয়ারসংক্রান্ত তথ্যেও অসঙ্গতি ছিল। দরপত্রে দেখানো শেয়ারসংখ্যার সঙ্গে যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তরের (আরজেএসসি) নিবন্ধিত তথ্যের পার্থক্য পাওয়া যায় বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ২০২০ সালের ২২ নভেম্বর দুদক মামলা করে। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের মে মাসে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। মামলায় দণ্ডবিধির ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ৪০৯ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। বর্তমানে মামলার একমাত্র আসামি জি কে শামীম উচ্চ আদালতের জামিনে রয়েছেন।
অভিযোগ গঠনের সময় আদালত আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ পড়ে শোনান। জি কে শামীম নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বিচার প্রার্থনা করেন। এখন সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ করবেন আদালত। আগামী ২০ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ।
ফরিদা|চখ