চকরিয়ায় চাকরির প্রলোভনে ৩ শ্রমিক অপহরণ!
কক্সবাজারের চকরিয়ায় অধিক মজুরিতে কাজ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তিন শ্রমিককে টেকনাফে নিয়ে যাওয়ার পর অপহরণ ও মানবপাচারের অভিযোগ উঠেছে। নিখোঁজ শ্রমিকদের উদ্ধারে চকরিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন জহির আহমদ নামে এক ব্যক্তি। পরিবারের দাবি, মুক্তিপণ হিসেবে তিন লাখ টাকা দেওয়ার পরও তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়নি।
নিখোঁজ তিনজন হলেন—চকরিয়ার বমু-বিলছড়ি ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড লম্বাছড়া এলাকার মোহাম্মদ ইছহাকের ছেলে লিয়াকত আলী (৩৯), একই এলাকার ফকির মোহাম্মদের ছেলে আবু ছালেক (৪০) এবং বান্দরবানের গজালিয়া এলাকার ৭ নম্বর ওয়ার্ড বাতেমতিলা পাড়ার মোহাম্মদ ইব্রাহিমের ছেলে নূরু-নবী (২৬)।
এ ঘটনায় আহমদ উল্লাহ (৪০), মো. ইউনুছ (৪৫) ও আমির হোসেন (৪৮) নামে তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নিখোঁজ তিন শ্রমিক টেকনাফের একটি রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় অবস্থান করতেন। তবে কিছুদিন ধরে তারা ক্যাম্পের বাইরে এসে চকরিয়ার বিভিন্ন এলাকায় দিনমজুরের কাজ করছিলেন। এ সময় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা স্থানীয়দের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলে শ্রমিকদের টেকনাফে বেশি মজুরিতে কাজ দেওয়ার প্রস্তাব দেন।
প্রস্তাবে রাজি হওয়ার পর গত ১০ জুন সকাল ৯টার দিকে বমু-বিলছড়ি ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের লম্বাছড়া এলাকার একটি সড়ক থেকে একটি অজ্ঞাতনামা গাড়িতে করে তাদের তুলে নেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে তাদের টেকনাফের অজ্ঞাত একটি স্থানে নিয়ে আটকে রাখা হয় বলে দাবি করেছেন স্বজনরা। কয়েকদিন পর মোবাইল ফোনে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তারা আটকে থাকার বিষয়টি জানান।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ১৬ জুন বিকেলে অভিযুক্তদের একজন স্বজনদের ফোন করে তিন শ্রমিককে মুক্তির বিনিময়ে প্রথমে ছয় লাখ টাকা দাবি করেন। স্বজনরা এত টাকা দিতে পারবেন না জানালে পরে তিন লাখ টাকা দিলে তাদের ছেড়ে দেওয়ার কথা বলা হয়।
পরদিন ১৭ জুন সকালে বিকাশের মাধ্যমে দুটি নম্বরে মোট তিন লাখ টাকা পাঠানো হয় বলে অভিযোগকারীর দাবি। কিন্তু টাকা পাওয়ার পরও শ্রমিকদের মুক্তি দেওয়া হয়নি। এরপর থেকে অভিযুক্তদের সঙ্গে স্বজনদের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘদিন ধরে খোঁজ করেও নিখোঁজ তিন শ্রমিকের সন্ধান না পাওয়ায় পরিবারগুলোর মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
অভিযোগকারী জহির আহমদের দাবি, অধিক মজুরির প্রলোভন দেখিয়ে শ্রমিকদের ফুসলিয়ে নিয়ে যাওয়ার পেছনে একটি মানবপাচারকারী চক্র জড়িত থাকতে পারে। তিনি দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে নিখোঁজ শ্রমিকদের অবস্থান শনাক্ত করে উদ্ধারের পাশাপাশি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তবে থানায় দেওয়া অভিযোগে ওঠা অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। এ ঘটনায় এখনো নিখোঁজ শ্রমিকদের অবস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, “অপহরণের বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে তিন শ্রমিকের নিখোঁজের ঘটনায় স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। দ্রুত তাদের সন্ধান ও নিরাপদে উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
তাসু/চখ