chattolarkhabor
চট্টলার খবর - খবরের সাথে সারাক্ষণ

বাঁশখালীতে বিষপ্রয়োগে মাছ নিধনের অভিযোগ, ৫ লাখ টাকা ক্ষতির আশঙ্কা

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার শীলকূপ ইউনিয়নে একটি পুকুরে বিষপ্রয়োগ করে মাছ নিধনের অভিযোগ উঠেছে। এতে তেলাপিয়া, রুই-কাতলা, মৃগেলসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মারা গেছে।

বৃহস্পতিবার সকালে পুকুরে অসংখ্য মৃত মাছ ভাসতে দেখে বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসে।

শীলকূপ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মাইজপাড়ার আমিন মোহাম্মদ সিকদার বাড়ির বড় পুকুরটি ইজারা নিয়ে কয়েক বছর ধরে মাছ চাষ করে আসছেন এনামুল হক সিকদার। চলতি বছর ৮০ হাজার টাকায় পুকুরটি ইজারা নিয়ে প্রায় ১ লাখ টাকা ব্যয়ে তিন মাস আগে ১৫০ শতক আয়তনের পুকুরে বিভিন্ন প্রজাতির পোনা মাছ ছাড়েন তিনি।

ইজারাদারের দাবি, পোনা ছাড়ার পর মাছের খাদ্য, শ্রমিকের মজুরি, ওষুধসহ অন্যান্য খাতে আরও প্রায় দেড় লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। তিন মাসে মাছগুলো বিক্রির উপযোগী আকারে পৌঁছেছে। বর্তমানে মাছগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা হতে পারে বলে জানান তিনি।

এনামুল হক সিকদার বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সকালে পুকুরে গিয়ে দেখি পানির রং অস্বাভাবিকভাবে পরিবর্তন হয়ে গেছে। পানিতে অসংখ্য মাছ মরে ভাসছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি, রাতের আঁধারে কেউ বিষ প্রয়োগ করেছে। এতে পুকুরের প্রায় সব মাছ মারা গেছে। দীর্ঘদিনের শ্রম ও প্রায় আড়াই লাখ টাকা বিনিয়োগের পর মাছগুলো যখন বিক্রির উপযোগী হচ্ছে, তখন এমন ঘটনায় আমি নিঃস্ব হয়ে পড়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের পরিবারের সঙ্গে স্থানীয় কয়েকজনের জায়গা-জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ রয়েছে। পূর্ববিরোধের জেরে কেউ শত্রুতা করে এ ঘটনা ঘটিয়েছে কি না, সে বিষয়ে আমার সন্দেহ রয়েছে। তবে তদন্ত ছাড়া কাউকে দায়ী করতে চাই না। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’

স্থানীয় কয়েকজন বলেন, ‘সকালে পুকুরের পাশে গিয়ে দেখি পানিতে অনেক মাছ মরে ভাসছে। পানির রংও স্বাভাবিক মনে হয়নি। এত মাছ একসঙ্গে মারা যাওয়ার ঘটনা আগে দেখিনি। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা দরকার। ঘটনাটি যদি বিষপ্রয়োগের কারণে হয়ে থাকে, তাহলে এটি অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। তদন্ত করে যারা জড়িত তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা উচিত।’

স্থানীয়দের মতে, বিপুলসংখ্যক মাছ একসঙ্গে মারা যাওয়ায় ঘটনাটি তদন্তের দাবি রাখে। পুকুরের পানির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হলে মাছের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব বলে তারা মনে করছেন।

এদিকে, ঘটনার বিষয়ে বাঁশখালী থানাসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ইজারাদার এনামুল হক সিকদার।

তাসু/চখ

এই বিভাগের আরও খবর