chattolarkhabor
চট্টলার খবর - খবরের সাথে সারাক্ষণ

পেকুয়ায় আগুনে পুড়ে ছাই বসতবাড়ি, প্রাণ গেল ৪ গরুর, আহত ১ 

এক মুহূর্তের আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে একটি পরিবারের স্বপ্নের ঘর। চোখের সামনে গোয়ালঘরে আগুনে পুড়ে মারা গেছে চারটি গরু। আগুন নেভাতে গিয়ে আবু বকর (১৮) নামে এক যুবক দগ্ধ হয়েছেন। বসতঘরে থাকা নগদ প্রায় তিন লাখ টাকা, আসবাবপত্র, কাপড়চোপড়সহ প্রয়োজনীয় সবকিছুই পুড়ে গেছে। আগুনে সর্বস্ব হারিয়ে এখন দিশেহারা কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার বারবাকিয়া ইউনিয়নের কুতুবপাড়ার বাসিন্দা আবু জাফর ও তাঁর পরিবার।

রোববার (১৬ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে আবু জাফরের বাড়িতে এ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আগুন লাগার পর মুহূর্তের মধ্যেই তা বসতঘর থেকে গোয়ালঘরে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে পরিবারের সদস্যরা ঘর থেকে প্রয়োজনীয় মালামাল বের করারও সুযোগ পাননি। খবর পেয়ে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় শেষ পর্যন্ত বসতঘর ও গোয়ালঘরসহ অধিকাংশ সম্পদ রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।

অগ্নিকাণ্ডের সবচেয়ে মর্মান্তিক দিক হলো—গোয়ালঘরে থাকা চারটি গরু আগুনে পুড়ে মারা যায়। স্থানীয়দের ভাষ্য, আগুনের তীব্রতার কারণে গরুগুলোকে গোয়ালঘর থেকে বের করে আনার সুযোগ হয়নি। পরিবারের জন্য গরুগুলো ছিল গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ ও জীবিকার অন্যতম অবলম্বন।

এ ছাড়া বসতঘরে থাকা নগদ প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা, মূল্যবান আসবাবপত্র, কাপড়চোপড় ও গৃহস্থালির প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সামগ্রী পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুনে নগদ টাকা, বসতঘরের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, গোয়ালঘরে থাকা ৪ টি গরুসহ আনুমানিক ১০ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, আগুন লাগার পর ফায়ার সার্ভিসে একাধিকবার ফোন করা হলেও ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে বিলম্ব হয়। তাঁদের দাবি, ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই আগুনে বসতঘর ও ভেতরে থাকা অধিকাংশ সম্পদ পুড়ে যায়।

তবে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে বিলম্বের অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বারবাকিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে জানা গেছে। আগুনে চারটি গরু, নগদ টাকা, বসতঘর এবং ঘরে থাকা মূল্যবান বিভিন্ন জিনিসপত্র পুড়ে গেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। তাদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের চেষ্টা চলছে। পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা প্রয়োজন।’

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, মুহূর্তের আগুনে পরিবারটি শুধু বসতঘরই হারায়নি; হারিয়েছে দীর্ঘদিনের সঞ্চয় ও জীবিকার অন্যতম প্রধান অবলম্বন। ঘরবাড়ি ও গবাদিপশু হারিয়ে পরিবারটি এখন অনেকটাই অসহায় অবস্থায় পড়েছে।

তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য দ্রুত সরকারি সহায়তা ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনকে পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

স্থানীয়দের মতে, আবু জাফরের পরিবারের ক্ষতি কেবল বসতঘর ও সম্পদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; আগুনে তাঁদের দীর্ঘদিনের সঞ্চয়, জীবিকার অবলম্বন এবং নিরাপদ আশ্রয়—সবকিছুই একসঙ্গে কেড়ে নিয়েছে।

 

মআ/চখ

এই বিভাগের আরও খবর