chattolarkhabor
চট্টলার খবর - খবরের সাথে সারাক্ষণ

মিরসরাইয়ে পাসের হার ৬১.২৫ শতাংশ

মিরসরাই উপজেলার ৫০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মোট ৪,৯৫২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৩,০৩৩ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২২৭ জন। উপজেলা পর্যায়ে পাসের হার ৬১ দশমিক ২৫ শতাংশ। অকৃতক

চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় এবারের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে ৫০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে মোট ৪ হাজার ৯৫২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৩ হাজার ৩৩ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২২৭ জন। উপজেলায় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬১ দশমিক ২৫ শতাংশ।

সোমবার (১০ আগস্ট) এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর মিরসরাই উপজেলার বিদ্যালয়ভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণে এ তথ্য পাওয়া গেছে। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে এবারের সামগ্রিক পাসের হার ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ। সে তুলনায় মিরসরাইয়ের পাসের হার কিছুটা বেশি হলেও উপজেলার বেশ কয়েকটি বিদ্যালয়ে ফলাফল বেশ হতাশাজনক।

ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, জোরারগঞ্জ বৌদ্ধ উচ্চ বিদ্যালয় এবার মিরসরাইয়ে সবচেয়ে ভালো ফল করেছে। প্রতিষ্ঠানটির ১৯৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৯১ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫৬ জন। পাসের হার ৯৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ।

দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মারুফ মডেল ইন্টারন্যাশনাল স্কুল। প্রতিষ্ঠানটির ১২৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১১৬ জন পাস করেছে এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৬ জন। পাসের হার ৯৩ দশমিক ৫৫ শতাংশ।

বারইয়ারহাট পৌর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬৮ জনের মধ্যে ৫৯ জন পাস করেছে, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫ জন। পাসের হার ৮৬ দশমিক ৭৬ শতাংশ। এস. রহমান আইডিয়াল স্কুলে ২২ জনের মধ্যে ১৯ জন পাস করেছে এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন। পাসের হার ৮৬ দশমিক ৩৬ শতাংশ।

এ ছাড়া বদিউল আলম মডেল উচ্চ বিদ্যালয় ৮৪ দশমিক ৮৫, বিশ্বদরবার উচ্চ বিদ্যালয় ৮৩ দশমিক ৬১ এবং ওয়াহিদুন নেছা উচ্চ বিদ্যালয় ৮০ শতাংশ পাসের হার অর্জন করেছে।

অন্যদিকে ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৩টি বিদ্যালয়ে পাসের হার ৫০ শতাংশের নিচে। এর মধ্যে রেসিডেনশিয়াল মডেল স্কুলে ৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ১ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ১৪ দশমিক ২১ শতাংশ। ফাতেমা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ২৫ জনের মধ্যে ৭ জন পাস করে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ২৮ শতাংশ। ছৈয়দপুরক উচ্চ বিদ্যালয়ে পাসের হার ৩৪ দশমিক ৩৮ শতাংশ এবং বামনসুন্দর ফকির আহমদ উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩৬ দশমিক ৮০ শতাংশ।

মিরসরাই সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৭৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৯২ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৫৩ দশমিক ১৮ শতাংশ। এ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ জন।

মিরসরাই উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ফেরদৌস হোসেন বলেন, এবারের ফলাফলে কিছু প্রতিষ্ঠান ভালো করেছে, আবার কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে আশানুরূপ ফল হয়নি। যেসব প্রতিষ্ঠানে পাসের হার কমেছে, সেসব প্রতিষ্ঠানের ফলাফল পর্যালোচনা করে শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে আগামীতে ফলাফল আরও ভালো করার চেষ্টা থাকবে।

বাংলাদেশ শিক্ষক পরিষদ মিরসরাই উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক বাবু সুভাষ সরকার বলেন , মিরসরাই উপজেলার ফলাফল আশানুরূপ ভালো না হলেও চট্টগ্রাম বোর্ডের সামগ্রিক ফলাফলের তুলনায় মোটামুটি ভালো। বিগত সময়ে স্কুল গুলোর নিয়মিত কমিটি ছিলো না। কিছু সময়ের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রশাসক ছিলেন । এরপর এডহক কমিটি করা হয়। সব মিলিয়ে রাজনৈতিক অস্থিরতার ফলে ফলাফল খারাপ হওয়ার অন্যতম কারন। ভবিষ্যতে যদি স্থানীয় সংসদ সদস্য নুরুল আমিন মহোদয় স্কুল কমিটি গুলোকে নির্দেশনা দেন ভালো ফলাফলের ভিত্তিতে পরিক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হবে। কোন রকম তদবির হবেনা, স্কুল গুলো রাজনীতি মুক্ত থাকবে। তাহলে আগামীতে মিরসরাইয়ের স্কুল গুলো আরো ভালো ফলাফল করবে।

মারুফ মডেল ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের প্রধান শিক্ষক নাজিম উদ্দীন বলেন, ভালো ফলাফলের পেছনে শিক্ষকদের আন্তরিকতা, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনা এবং অভিভাবকদের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে । বিগত বছরগুলোতে রাজনৈতিক অস্থিরতা, স্কুল গুলোর নিয়মিত কমিটি না থাকা, সিলেবাস পরিবর্তন, শিক্ষার্থীদের নৈতিক অবক্ষয়, প্রাকৃতিক দুর্যোগ অন্যতম কারন। আগামীতে স্কুলের পরিচালনা কমিটি, অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমন্বয় করে নিয়মিত পাঠদান ও মূল্যায়নের মাধ্যমে ফলাফল আরও উন্নত করার চেষ্টা করা সম্ভব হবে ।

 

মআ/চখ

এই বিভাগের আরও খবর