chattolarkhabor
চট্টলার খবর - খবরের সাথে সারাক্ষণ

এসআইয়ের ঝুলন্ত দেহ, পাশে রক্তাক্ত স্ত্রী, কাঁদছিল ১০ বছরের শিশু

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে বড়তাকিয়া বাজারের একটি আবাসিক হোটেলের কক্ষ থেকে আমিনুল ইসলাম (৩৫) নামে এক পুলিশ কর্মকর্তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় কক্ষের ভেতর থেকে তাঁর স্ত্রী তাহমিনা আক্তার (২৮) ও ১০ মাস বয়সী শিশু সন্তান ফাতেয়া আক্তারকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। আমিনুল ইসলাম (৩৫) এর বাড়ি বড়তাকিয়া বাজার সংলগ্ন একই ইউনিয়নে। কেন বাড়ি থেকে বের হয়ে পাশ্ববর্তী বাজারের হোটেলে তারা রাতে থাকার রুম ভাড়া করলেন এ প্রশ্ন উঠেছে সচেতন মহলে।

সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার বড়তাকিয়া বাজারের ‘রিলেক্স জোন’ আবাসিক হোটেলের ১০৪ নম্বর কক্ষ থেকে আমিনুলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত আমিনুল ইসলাম খৈয়াছড়া ইউনিয়নের আব্দুল হক মাস্টার বাড়ির আবুল হোসেনের ছেলে। তিনি রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পুলিশ লাইনে উপপরিদর্শক (এসআই) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁর স্ত্রী তাহমিনা আক্তার উপজেলার হাজীশ্বরাই এলাকার বাসিন্দা।

হোটেল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার (৯ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে আমিনুল ইসলাম তাঁর স্ত্রী ও শিশুসন্তানকে নিয়ে হোটেলের ১০৪ নম্বর কক্ষ ভাড়া নেন। হোটেল কর্তৃপক্ষের দাবি, বিকেল ও রাতে তাঁরা দুবার কক্ষের বাইরে বের হন। এরপর রাতে আর কোনো অস্বাভাবিক শব্দ বা চিৎকার শোনা যায়নি।

সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে হোটেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যানেজার তাঁদের কক্ষের দরজায় বারবার ডাকাডাকি করেন। কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে বিষয়টি অন্যদের জানান। পরে কক্ষের ভেতর থেকে স্ত্রী তাহমিনা রক্তাক্ত অবস্থায় দরজা খুলে দেন। এ সময় খাটের পাশে ফ্যানের সঙ্গে আমিনুল ইসলামকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়।

হোটেল ম্যানেজার সোহান বলেন, ‘রোববার দুপুরে তাঁরা কক্ষ ভাড়া নেন। বিকেল ও রাতে দুবার বাইরে বের হন। এরপর রাতে আমি নিজের কক্ষে চলে যাই। কোনো ধরনের সাড়াশব্দ শুনিনি। সকালে ডাকাডাকি করেও সাড়া না পেয়ে বিষয়টি সবাইকে জানাই।’

মিরসরাই সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) নাদিম হায়দার চৌধুরী বলেন, ‘সকালে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় স্ত্রীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছে। একই কক্ষে ঝুলন্ত অবস্থায় স্বামীর মরদেহ পাওয়া যায়। রোববার দুপুরে তাঁরা হোটেলের ১০৪ নম্বর কক্ষ ভাড়া নিয়েছিলেন। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রামে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।’

নিহতের পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে আমিনুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। তবে হোটেলের কক্ষে কী ঘটেছিল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সন্তানের জন্মনিবন্ধন করানোর কথা বলে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে বাড়ির পাশ্ববর্তী বাজারের হোটেলে কেন উঠলেন এ প্রশ্ন স্থানীয় এলাকাবাসী এবং পুলিশের। এমন মর্মান্তিক ঘটনায় স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনার প্রকৃত কারণ ও এর পেছনে কী ঘটেছিল, তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

তাসু/চখ

এই বিভাগের আরও খবর