chattolarkhabor
চট্টলার খবর - খবরের সাথে সারাক্ষণ

সাক্ষাৎকারে ওয়াকিল হোসেন

মানুষের অনুরোধে নির্বাচনে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি

চট্টগ্রাম নগরীর ১৩ নম্বর পাহাড়তলী ওয়ার্ড দীর্ঘদিন ধরেই একটি জনবহুল ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। পাহাড়তলী রেলওয়ে এলাকা, বিহারী কলোনি, নিম্নআয়ের মানুষের বসতি, শ্রমজীবী জনগোষ্ঠী এবং দ্রুত বর্ধনশীল আবাসিক এলাকাগুলো নিয়ে গঠিত এই ওয়ার্ডে জলাবদ্ধতা, বিশুদ্ধ পানির সংকট, বেকারত্ব, মাদক, কিশোর গ্যাং, পরিচ্ছন্নতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মতো নানা সমস্যা দীর্ঘদিনের। এসব দীর্ঘস্থায়ী সংকট নিরসনে এলাকবাসীর মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছেন সমাজসেবক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ‘ওয়াকিল হোসেন’।

ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করা এবং দীর্ঘদিন ধরে নানা সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জন করা এই তরুণ নেতা আসন্ন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ১৩ নম্বর পাহাড়তলী ওয়ার্ডে সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন। সম্প্রতি স্থানীয় গণমাধ্যম ‘ দৈনিক চট্টলার খবর’ এর মুখোমুখি হয়ে এলাকার উন্নয়ন ভাবনা, দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকারটি নিচে তুলে ধরা হলো

চট্টলার খবর: কেমন আছেন?

ওয়াকিল হোসেন: আলহামদুলিল্লাহ, ভালো আছি। আপনি কেমন আছেন?

চট্টলার খবর: কেন আপনি কাউন্সিলর হতে চান?

ওয়াকিল হোসেন: দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক কর্মকাণ্ড করতে গিয়ে এলাকার মানুষের সঙ্গে আমার একটি আত্মিক সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আমি মানুষের ভালোবাসা ও আস্থা অর্জন করেছি। ব্যক্তিগতভাবে আমার কখনো কাউন্সিলর হওয়ার লোভ ছিল না। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষ বারবার আমার অফিসে ও বাসায় এসে অনুরোধ করেছেন যেন আমি নির্বাচন করি। এলাকাবাসীর বিশ্বাস, আমি নির্বাচিত হলে ওয়ার্ডের আরও উন্নয়ন হবে। মানুষের সেই ভালোবাসা, প্রত্যাশা এবং তাদের জন্য আরও বড় পরিসরে সেবা করার তাগিদ থেকেই মূলত আমি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

চট্টলার খবর: এর আগে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে কী ধরনের কাজ করেছেন বা করতেন?

ওয়াকিল হোসেন: সমাজের মানুষের পাশে দাঁড়ানোই আমার মূল পরিচয়। রাজনীতির পাশাপাশি সমাজসেবাই আমার প্রধান ব্রত। নিয়মিতভাবে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ, বিনামূল্যে মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা, মশকনিধন কার্যক্রম, ডাস্টবিন স্থাপন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করে আসছি। মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই আমি এসব কাজ করে যাচ্ছি এবং ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত রাখব।

চট্টলার খবর: দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রায় অতীতের সরকারের আমলে আপনাকে কেমন নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে?

ওয়াকিল হোসেন: গত ১৭ বছরের রাজনৈতিক জীবনে আমাকে বহুবার মিথ্যা মামলা, জেল-জুলুম ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে প্রায় ৬৫টি রাজনৈতিক মামলা দেওয়া হয়েছে। দল করার কারণে অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে, কিন্তু মানুষের অধিকার ও কল্যাণের প্রশ্নে আমি কখনো পিছিয়ে যাইনি। কঠিন সময়েও আমি দল ছাড়িনি সাধারণ মানুষের জন্যই রাজনীতি করেছি এবং আজীবন করে যাব।

চট্টলার খবর: আপনি যদি নির্বাচিত হন, তবে ওয়ার্ডের কোন সমস্যাগুলোকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেবেন?

ওয়াকিল হোসেন: ১৩ নম্বর পাহাড়তলী ওয়ার্ডে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষিত বেকার যুবক রয়েছে। বিশেষ করে বিহারী কলোনি ও নিম্নআয়ের মানুষের সন্তানদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত। আমি যুবসমাজকে কারিগরি ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই, যাতে তারা সহজেই চাকরি বা আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। বেকারত্ব দূরীকরণ ও যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিই হবে আমার অন্যতম অগ্রাধিকার।

চট্টলার খবর: আপনার মতে এই ওয়ার্ডের সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলো কী কী?

ওয়াকিল হোসেন: অন্যান্য ওয়ার্ডের মতো আমাদের এখানেও মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের প্রকোপ রয়েছে। নির্বাচিত হলে যুবসমাজকে মাদকের করাল গ্রাস থেকে ফিরিয়ে এনে একটি সুস্থ, সুন্দর, সন্ত্রাসমুক্ত এবং দলাদলিমুক্ত পাহাড়তলী গড়ে তোলাই আমার প্রধান লক্ষ্য। এছাড়া আমাদের ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি ও স্বাস্থ্যসেবার অভাব রয়েছে। নিরাপদ খাবার পানি নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিম্নআয়ের মানুষের চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য করতে সরকারি সহযোগিতায় একটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে আমার।

চট্টলার খবর: অতীতে যারা ক্ষমতায় ছিলেন, তারা এই সমস্যাগুলোর সমাধান করেননি কেন বলে আপনার মনে হয়?

ওয়াকিল হোসেন: অতীতে যারা দায়িত্বে ছিলেন, তারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধ অর্থ আয়ের উৎসবে মেতে উঠেছিল। তারা জনগণের নিরাপত্তার কথা ভাবার পরিবর্তে নিজেদের স্বার্থ দেখত এবং নিজেদের স্বার্থেই কিশোর গ্যাং সংস্কৃতি চালু করেছিল। অথচ শিশু কিশোরদের হাতে কোনো অস্ত্র নয়, কলম ও বই মানায়। তারা নিরাপদ খাবার পানি বা জনকল্যাণের কথা কখনো ভাবেনি। তবে আমি সুযোগ পেলে প্রমাণ করতে চাই যে, জনগণের কল্যাণে কাজ করার মধ্যে যে আত্মিক তৃপ্তি রয়েছে, তা অন্য কিছুতে নেই। অতীতের প্রতিনিধিরা যা করতে পারেনি, আমরা তা করে দেখাব। ভালো কাজের ফল সবসময়ই ভালো হয়, আর আমি সেই ইতিবাচক পরিবর্তনটাই আনতে চাই। বর্তমান মেয়রের থিম অনুযায়ী আমার ওয়ার্ডকে একটি ‘গ্রিন সিটি, ক্লিন সিটি অ্যান্ড হেলদি সিটি’ হিসেবে গড়ে তোলা আমার প্রধান অঙ্গীকার।

চট্টলার খবর: পরিচ্ছন্নতার দিক থেকে আপনি আপনার ওয়ার্ডকে কত নম্বর দিবেন এবং এই খাতে আপনার পরিকল্পনা কী?

ওয়াকিল হোসেন: বর্তমানে ওয়ার্ডে পরিচ্ছন্নতার যে পরিস্থিতি রয়েছে, তাকে আমি পর্যাপ্ত বলব না। তাই নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে একটি ‘গ্রিন অ্যান্ড ক্লিন ওয়ার্ড’ গড়ে তুলতে আমি বদ্ধপরিকর। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের পরিচ্ছন্ন ও সবুজ নগর গড়ার অঙ্গীকারের সঙ্গে সমন্বয় রেখেই আমাদের ওয়ার্ডে সবুজায়ন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

চট্টলার খবর: আপনি যদি নির্বাচিত হন, তবে আজ থেকে পাঁচ বছর পর পাহাড়তলী ওয়ার্ডকে কেমন দেখতে চান?

ওয়াকিল হোসেন: অতীতে পাহাড়তলী ওয়ার্ডটিকে বিভিন্ন সময় নেতিবাচক কর্মকাণ্ড ও সন্ত্রাসী নানা ঘটনার কারণে আলোচনায় আসতে হয়েছে। এই নেতিবাচক ভাবমূর্তি সম্পূর্ণ পরিবর্তন করাই আমার অন্যতম বড় লক্ষ্য। আমি চাই পাহাড়তলী ওয়ার্ডটি ভবিষ্যতে একটি শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ, বসবাসযোগ্য এবং আধুনিক মডেল ওয়ার্ড হিসেবে পরিচিতি লাভ করুক।

চট্টলার খবর: আমাদের সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ।

ওয়াকিল হোসেন: আপনাদেরকেও অনেক ধন্যবাদ।

ফরিদা|চখ

এই বিভাগের আরও খবর