‘চুক্তি অথবা সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ’, ইরানকে ফের ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি
ইরানকে আবারও কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তেহরানের সামনে এখন কেবল দুটি পথ খোলা রয়েছে—‘চুক্তি অথবা সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ’। ইরান একদিকে পর্দার আড়ালে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বৈঠকের আকুতি জানাচ্ছে, অন্যদিকে প্রকাশ্যে আলোচনার কথা অস্বীকার করছে বলে অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
সোমবার (৩ আগস্ট) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্প লেখেন,’ইরানের নেতৃত্ব অবিশ্বাস্য রকমের দ্বিমুখী আচরণ করছে। তারা আলোচনার অনুরোধ করছে, কিন্তু প্রকাশ্যে বলছে ওমান ছাড়া কারও সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে না।’
একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, হরমুজ প্রণালি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ওয়াশিংটনের অনুমতি ছাড়া সেখান দিয়ে কিছুই পার হতে পারবে না। ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আলোচনার মূল লক্ষ্য হবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির পূর্ণ অবসান ঘটানো, কারণ ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে দেওয়া হবে না।
এর আগে রোববার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প জানান, ইরানের ওপর সম্ভাব্য নতুন সামরিক হামলা আপাতত স্থগিত রেখে সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেল থেকে তেহরানের সঙ্গে নতুন দফায় আলোচনা শুরু হচ্ছে। হামলার প্রস্তুতির ভয়াবহতা দেখেই ইরান আলোচনায় বসতে বাধ্য হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই আলোচনার দাবি পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছে ইরান। সোমবার (৩ আগস্ট) এক বিবৃতিতে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই স্পষ্ট জানান, ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাদের কোনো আলোচনা চলছে না এবং মার্কিন কোনো প্রতিনিধিদল গ্রহণ কিংবা পাঠানোর পরিকল্পনাও তেহরানের নেই।
হরমুজ প্রণালির বিষয়ে বাঘাই বলেন,’কৌশলগত এই জলপথের ব্যবস্থাপনা নিয়ে ইরান কেবল ওমানের সঙ্গেই আলোচনা করছে।’ গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজ চলাচলের জন্য ইরানের নির্ধারিত রুট ব্যবহার করা এবং সার্ভিস ফি দেওয়া বাধ্যতামূলক বলেও জোর দিয়ে জানান তিনি।
ফরিদা|চখ