chattolarkhabor
চট্টলার খবর - খবরের সাথে সারাক্ষণ

মন্তব্য প্রতিবেদন

চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন : ডা. শাহাদাতের চ্যালেঞ্জ

অন্তবর্তী সরকারের সময় বিগত ৩ নভেম্বর’ ২০২৪ তারিখে ২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অনিয়ম ও ভোট জালিয়াতির বিরুদ্ধে আদালতে দায়েরকৃত মামলার রায়ে মেয়র ঘোষণার পর দেশের রাজনীতিতে ব্যপকভাবে আলোচনায় আসেন ডা. শাহাদাত হোসেন।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার পর সাবেক সভাপতি হিসাবে মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণের পর তার অনুসারীদের মধ্যে ব্যাপক প্রাণচাঞ্চল্য দেখা দেয়। নগরের ৪১ টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর না থাকায় বিরামহীন কর্মতৎপরতায় অনেকটা সাড়া ফেলেন। এক রকম চ্যালেঞ্জ বিহীন কার্যক্রম পরিচালনা করতে থাকেন। মন্ত্রণালয় কোন সিদ্ধান্ত অথবা অনুমোদন আসার ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতা দেখা দিলে গণমাধ্যমের সামনে উপদেষ্টার বিরুদ্ধে অভিযোগ করতেও দেখা গেছে।

নগরীর গুরুত্বপূর্ন খাল নালা নর্দমা খনন ও পরিস্কার করা, সিটি কর্পোরেশনের দেনা কমিয়ে আনা এবং বিভিন্ন সংস্থার নিকট হতে সিটি কর্পোর্রেশনের পাওনা আদায়ে অনেকটা সফল হন। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সংস্কার, বর্জ ব্যবস্থাপনা সহ নানাবিধ পরিকল্পনা গ্রহণ করলেও অন্তবর্তী সরকারের সময়কালীন তেমন অসহযোগিতা পাওয়ার অভিযোগ করেন নাই। যদিও একাধিকবার সিদ্ধান্ত প্রদানে উপদেষ্টার বিরুদ্ধে সময় ক্ষেপনের অভিযোগ এনেছিলেন।

জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সময়ে বিএনপি’র হাই কমান্ড ও স্থানীয় মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং মহানগর বিএনপি’র সাথে ক্রমান্বয়ে দুরত্ব সৃষ্টি হতে থাকে। পূর্বের মেয়র রেজাউল করিম প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় মেয়রের দায়িত্ব পালন করলেও দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতা হওয়া সত্বেও ডা. শাহাদাতকে এ মর্যাদা না দেয়ায় ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্ট অনুযায়ী সংসদ সদস্যগণ পদমর্যাদায় মেয়রের উপরে অবস্থান থাকায় সরকারি ও দলীয় অনুষ্ঠান সমূহে মেয়র হিসাবে ডা. শাহাদাত প্রায়ই অনুপস্থিত থাকেন। দলের দুঃসময়ে দায়িত্ব পালন করা এ নেতা সুসময়ে অনেকটা অপাংক্তেয় হয়ে যান।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের ফিরে আসার দিন বিমান বন্দরে ভিআইপি লাউঞ্জে অনেক সিনিয়র নেতা দলের চেয়ারম্যানকে রিসিভ করার সুযোগ না পেলেও ডা. শাহাদাত ভিআইপি লাউঞ্জে প্রবেশ করে তারেক রহমানর পাশে বসে কথা বলার মধ্যে বিএনপি’র সর্বোচ্চ পর্যায়ের সাথে তার সম্পর্ক স্পষ্ট হয়। কিন্তু, জাতীয় নির্বাচনের পর সকল সমীকরণ পাল্টে যেতে থাকে। চট্টগ্রামের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রন অনেকটা চলে যায় ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রুতিমন্ত্রী কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মীর হেলালের কাছে। দলের সিনিয়র অনেক এমপি ও মন্ত্রীত্ব না পাওয়ায় এই নিয়ে চাপা ক্ষোভ রয়েছে।

সম্প্রতি মশা নিধন ঔষধ কারখানা স্থাপনের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাওয়ার অনুমতি নথিতে খালের পাশে দুই ঘন্টা অবস্থান করলে মশা মারার অভিজ্ঞতা হয়ে যাবে মর্মে মন্তব্য লিখে অনুমোদন না দেওয়ায় এবং উক্ত মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ায় ডা. শাহাদাতের অনুসারীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিদেশে সফরে যাওয়ার বিষয়টি ঔষধ নির্মাণ সংক্রান্ত বিষয় হলেও প্রধান মন্ত্রীর মন্তব্যে- মশক নিধনের প্রশিক্ষনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ডা. শাহাদাতের অনুসারীদের দাবি একটি মহল মাননীয় প্রধান মন্ত্রীকে ভূল বুঝিয়ে সুপরিকল্পিতভাবে রাষ্ট্রীয় গোপনীয় নথির মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করেছে যাতে আগামী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে এর প্রভাব পড়ে। গত কিছুদিন পূর্বে সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে চট্টগ্রামে মনোরেল স্থাপনের লক্ষ্যে একটি ভূয়া প্রতিষ্ঠানের সাথে করা চুক্তি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মধ্যে পড়েন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

পরবর্তীতে উক্ত চুক্তিটি বাতিল করেন। এ ধরনের ভূয়া প্রতিষ্ঠানের সাথে যাচাই বাছাই ছাড়া চুক্তি করাকে ভালো ভাবে দেখছেননা সচেতন মহল।

আগামী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে নানাবিধ চ্যালেঞ্জের সম্মূখীন হচ্ছেন ডা. শাহাদাত। একক প্রার্থীতার বিষয়টি অনেকটা নিশ্চিত হলেও নগর কমিটির সদস্য সচিব নাজিম উদ্দিন মেয়র পদে ইলেকশান করার আগ্রহ দেখানোতে আলোচনায় নতুন মাত্রা সৃষ্টি হয়।

ডা. শাহাদাত নগর কমিটিতে না থাকায় ৪১ ওয়ার্ড ও ১৫ টি সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর বাছাইয়ে নিজের পছন্দের প্রার্থী বাছাইয়ে ভূমিকা রাখার সুযোগ তেমন একট থাকছেনা। মেয়র পদে বিজয়ী হলেও বর্তমান সময়ের মতো নিষ্কন্টক ভাবে সিটি কর্পোরেশন পরিচালনার সুযোগ না ও হতে পারে।

প্রধান বিরোধী দল জামাত মেয়র পদে তাদের দলীয় প্রার্থী শামশুজ্জামান হেলালীর নাম ঘোষনা করলেও ভোটের মাঠে ডা. শাহাদাতের সাথে শক্ত প্রতিদ্বন্দী হিসাবে লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা নাই। তবে, সাবেক মেয়র মঞ্জুর আলম জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে ম্ঞ্জুর আলম ডা. শাহাদাতের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ হবেন। আওয়ামীলীগ ও বিএনপি’র একাংশের ভোট মঞ্জুর আলমের দখলে থাকবে এটা নিশ্চিত। তা ছাড়া, সুন্নী ঘরানার বিশাল ভোট ব্যাংক ডা. শাহাদাতের অনুকূলে থাকলেও মঞ্জুর আলম প্রার্থী হলে উল্লেখযোগ্য অংশ তার দিকে থাকবে বলে ধারনা করছেন রাজনৈতিক সচেতন মহল।

চট্টগ্রাম নগরে দলের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য এবং নেত্রীবৃন্দের একচাটিয়া সমর্থন না পেলে সিটি নির্বাচনের বৈতরনী পার হওয়া খুব কঠিন হবে ডা. শাহাদাতের জন্য। তবে, এ ক্ষেত্রে বিএনপি’র হাই কমান্ডের ভূমিকার উপর নির্ভর করছে সবকিছু।

 

এই বিভাগের আরও খবর