chattolarkhabor
চট্টলার খবর - খবরের সাথে সারাক্ষণ

২০৩২ সালেই কাটবে চট্টগ্রামের পানি কষ্ট!

# এক্সিম ব্যাংকের অর্থায়নে ৩০ কোটি লিটার সক্ষমতার নতুন শোধনাগার

# বাড়ানোর সুযোগ থাকবে আরও ২০ কোটি লিটার

# বর্তমান ঘাটতি ১১ কোটি লিটার

চট্টগ্রাম নগরের দীর্ঘদিনের পানি সংকট কাটিয়ে ২০৩২ সালের মধ্যে পানির উদ্বৃত্ত অবস্থায় যাওয়ার পরিকল্পনা করছে চট্টগ্রাম ওয়াসা। এ লক্ষ্যে এক্সিম ব্যাংকের অর্থায়নে দৈনিক ৩০ কোটি লিটার পানি উৎপাদন ক্ষমতার নতুন একটি শোধনাগার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এই শোধনাগারের সক্ষমতা আরও ২০ কোটি লিটার বাড়ানোর সুযোগও রাখা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ২০৫০ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম নগরে পানির ঘাটতি থাকবে না বলে আশা করছে ওয়াসা।

চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মোহাম্মদ জানে আলম বলেন, তিনটা প্রকল্পের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য ডোনারদের সাথে আলোচনা চলছে। আমাদের টার্গেট 50 কোটি লিটার বাড়ানো। এটা হলে আগামী 2050 সাল পর্যন্ত আমাদের আর কোনো চিন্তা করতে হবে না। এখন তো ১১/১২ কোটি লিটার ঘাটতি আছে। তখন সেটা আর থাকবে না। ডোনারদের সাথে আলোচনা হচ্ছে, দেখা যাক কতটুকু করতে পারি।

চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম জানিয়েছেন, প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই (ফিজিবিলিটি স্টাডি) শুরু করার প্রস্তুতি চলছে। আগামী অক্টোবরে এক্সিম ব্যাংকের একটি প্রতিনিধি দল চট্টগ্রামে এসে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা ও কারিগরি বিষয় পর্যালোচনা করবে।

মাকসুদ আলম বলেন, ‘এক্সিম ব্যাংকের অর্থায়নে আমরা আরেকটি বড় প্রকল্পের ফিজিবিলিটি স্টাডি শুরু করব। আগামী অক্টোবরে এক্সিম ব্যাংকের টিম আসবে। তারা বিষয়টি পর্যালোচনা করবে। দৈনিক ৩০ কোটি লিটার উৎপাদন ক্ষমতার একটি শোধনাগার হবে। ভবিষ্যতে আরও ২০ কোটি লিটার পানি উৎপাদনের সুযোগ থাকবে। ২০৩২ সালের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছি। তখন শহরে পানির উদ্বৃত্ত থাকবে।’

তিনি বলেন, বর্তমানে চট্টগ্রাম নগরে প্রতিদিন প্রায় ১১ কোটি লিটার পানির ঘাটতি রয়েছে। প্রস্তাবিত প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ২০৫০ সাল পর্যন্ত নগরে পানির সংকট থাকবে না। এর পাশাপাশি ভান্ডালজুড়ি প্রকল্প থেকেও আরও ৯ কোটি লিটার পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় যুক্ত হবে।

চট্টগ্রাম ওয়াসা বর্তমানে কর্ণফুলী ও হালদা নদীসহ বিভিন্ন উৎস থেকে পানি সংগ্রহ করে একাধিক শোধনাগারের মাধ্যমে নগরে সরবরাহ করে। তবে নগরের জনসংখ্যা বৃদ্ধি, শিল্প ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং শুষ্ক মৌসুমে নদীর পানিতে লবণাক্ততা বৃদ্ধির কারণে পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ বাড়ছে। চাহিদার সঙ্গে উৎপাদনের ব্যবধানের পাশাপাশি পুরোনো পাইপলাইন ও সিস্টেম লসও সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে।

ওয়াসার বিভিন্ন তথ্য ও সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, নগরে দৈনিক পানির চাহিদা বর্তমানে প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ কোটি লিটার। স্বাভাবিক সময়ে উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৫০ কোটি লিটারের কাছাকাছি থাকলেও উৎপাদিত পানির পুরোটা গ্রাহক পর্যায়ে পৌঁছায় না। পাইপলাইনজনিত সিস্টেম লস এবং শুষ্ক মৌসুমে পানির উৎসে লবণাক্ততার কারণে কার্যকর সরবরাহ আরও কমে যায়। ফলে নগরের বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত পানির সংকট দেখা দেয়।

এই সংকট মোকাবিলায় নতুন শোধনাগার নির্মাণের পাশাপাশি পানি সরবরাহ ব্যবস্থার আধুনিকায়নেও কাজ করছে ওয়াসা। সংস্থাটির চলমান ও পরিকল্পিত উদ্যোগের মধ্যে পুরোনো পাইপলাইন প্রতিস্থাপন, জেলা মিটারিং এলাকা (ডিএমএ) তৈরি, স্মার্ট মিটার স্থাপন এবং পানি সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। পানি সরবরাহের দক্ষতা বাড়ানো এবং সিস্টেম লস কমানো এসব উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

এর আগে কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ তীরে ভান্ডালজুড়ি পানি শোধনাগার প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। প্রকল্পটির দৈনিক ৬ কোটি লিটার পানি সরবরাহের সক্ষমতা থাকলেও মূল সরবরাহ নেটওয়ার্ক ও গ্রাহক সংযোগের সীমাবদ্ধতার কারণে এর পূর্ণ সক্ষমতা কাজে লাগানো নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ওয়াসার কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন প্রকল্পের ক্ষেত্রে শুধু পানি শোধনাগার নির্মাণ নয়, পানি সংগ্রহ, পরিশোধন, সঞ্চালন ও নগরের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহের পুরো ব্যবস্থাকে সমন্বিতভাবে বিবেচনা করা হবে। এতে ভবিষ্যৎ চাহিদা মোকাবিলার পাশাপাশি শুষ্ক মৌসুমে লবণাক্ততা ও উৎপাদন কমে যাওয়ার ঝুঁকিও কমানো সম্ভব হবে।

চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম বলেন, ‘নতুন প্রকল্পের পাশাপাশি ভান্ডালজুড়ি থেকে আরও ৯ কোটি লিটার পানি যুক্ত হবে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করা গেলে চট্টগ্রামের দীর্ঘমেয়াদি পানি সংকটের সমাধান হবে। ২০৫০ সাল পর্যন্ত পানির ঘাটতি নিয়ে আর চিন্তা করতে হবে না।’

ফরিদা|চখ

এই বিভাগের আরও খবর