chattolarkhabor
চট্টলার খবর - খবরের সাথে সারাক্ষণ

সেনা নিহতের জবাবে ইরানে নতুন দফায় মার্কিন হামলা

জর্ডানে ইরানের হামলায় দুই মার্কিন সামরিক সদস্য নিহত এবং আরও একজন নিখোঁজ হওয়ার ঘটনার জবাবে দেশটিতে নতুন করে হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স

সেন্টকমের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে শনিবার সন্ধ্যা ৬টা (যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময়) থেকে বিমান হামলা শুরু হয়।

সেন্টকম আরও জানায়, “হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক নৌ চলাচলের জন্য ইরানের হুমকি সৃষ্টি করার সক্ষমতা আরও দুর্বল করা এবং জর্ডানে মার্কিন সেনাদের ওপর হামলায় জড়িত ইসলামিক রেভল্যুশনারি

গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সদস্যদের দ্রুত শাস্তি দিতেই এই হামলা চালানো হয়েছে।’ তবে হামলার বিস্তারিত জানানো হয়নি।

ইরানের মেহর বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের সিরিক এলাকার কাছে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছে। তবে এতে কোনো হতাহত বা অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

এদিকে শনিবার জর্ডানে হামলার আগে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি সতর্ক করে বলেন, সংঘাত আরও বাড়ানোর চেষ্টা করায় ‘ওয়াশিংটনকে এর মূল্য দিতে হবে।’ ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও সর্বোচ্চ নেতার সরকারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিবৃতিতে এ সতর্কবার্তা দেন তিনি।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ প্রমাণ করেছে যে ট্রাম্পের দেওয়া প্রতিশ্রুতির ‘কোনো বিশ্বাসযোগ্যতা নেই এবং তা সম্পূর্ণ মূল্যহীন।’

ইরানে হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন ৪২০ জনেরও বেশি।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘তাদের আত্মত্যাগ আমাদের সংকল্পকে আরও দৃঢ় করেছে।’

শনিবার সৌদি আরব, যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলো এবং জর্ডানেও লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইরান। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সেতু, বিদ্যুৎ স্থাপনা ও অন্যান্য অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছিল।

এক মাস আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তীকালীন শান্তিচুক্তি দুইপক্ষের উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থানের কারণে তা প্রায় ভেঙে পড়েছে। গত সপ্তাহ থেকে দুইপক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা আরও জোরদার হওয়ায় পূর্ণমাত্রায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা বেড়েছে।

ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন সপ্তাহে দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় অন্তত ৫০ জন নিহত এবং ৫০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই অভিযোগ করেন, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্বের মোট তেল পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে সম্পন্ন হয়।

উভয় পক্ষই সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলকে লক্ষ্যবস্তু করছে। যুক্তরাষ্ট্র বলছে, তারা নৌ অবরোধ কার্যকর করছে। অন্যদিকে ইরান দাবি করছে, তাদের নৌ চলাচল বিধি লঙ্ঘনকারী জাহাজগুলোকেই লক্ষ্য করা হচ্ছে।

এদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও উপসাগরীয় দেশগুলো ইরানকে অবিলম্বে এবং নিঃশর্তভাবে সব ধরনের হামলা ও সমুদ্রপথে হস্তক্ষেপ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি কোনো শর্ত বা অতিরিক্ত ফি ছাড়া উন্মুক্ত রাখারও দাবি জানানো হয়েছে। সৌদি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাত দিয়ে প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

ফরিদা|চখ

এই বিভাগের আরও খবর