চট্টগ্রাম নগরের প্রতি ৪টি বাসা-বাড়ির একটিতে ডেঙ্গুর লার্ভা
চট্টগ্রাম নগরীতে ডেঙ্গুর ঝুঁকি উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। সর্বশেষ জরিপে দেখা গেছে, প্রতি চারটি বাসা-বাড়ির মধ্যে অন্তত একটিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যাচ্ছে। একই সঙ্গে চলতি জুলাই মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহেই চট্টগ্রাম বিভাগে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা জুন মাসের তুলনায় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৮৫ জনে। স্বাস্থ্য বিভাগ আশঙ্কা করছে, বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।
নগরীর লয়েল রোডের সিনেমা প্যালেস সংলগ্ন বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরে ডেঙ্গু নজরদারি ব্যবস্থা জোরদার বিষয়ক সমন্বয় সভায় এসব তথ্য জানান চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. সেখ ফজলে রাব্বি। বেসরকারি সংস্থা মেডিসিন্স স্যান্স ফ্রন্টিয়ার্স (এমএসএফ)-এর সহযোগিতায় এ সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ এখন জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকিতে পরিণত হয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকায় প্রতি চারটি বাসা-বাড়ির মধ্যে একটিতে ডেঙ্গুর লার্ভা পাওয়া যাচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
তিনি জানান, গত জুন মাসে চট্টগ্রাম বিভাগে ডেঙ্গু রোগী ছিল ৪০৫ জন। চলতি জুলাই মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহেই সেই সংখ্যা বেড়ে ৪৮৫ জনে পৌঁছেছে। বর্ষা মৌসুমে রোগীর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
ডা. ফজলে রাব্বি বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় স্বাস্থ্য বিভাগ, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় (সিভাসু) এবং এমএসএফ যৌথভাবে কাজ করছে। ভেক্টরবাহিত রোগ প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে ইতোমধ্যে সমঝোতা হয়েছে। তিনি বলেন, চট্টগ্রামের মানুষকে নিরাপদ ও ডেঙ্গুমুক্ত রাখতে আমরা প্রস্তুত। তবে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সপ্তাহের প্রতি শনিবার স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। বাসাবাড়ি, অফিস, নির্মাণাধীন ভবন, ফুলের টব, পানির ট্যাংক, জার কিংবা যেকোনো স্থানে যাতে পানি জমে না থাকে, সেদিকে সবাইকে বিশেষ নজর দিতে হবে। কারণ জমে থাকা পরিষ্কার পানিতেই এডিস মশা বংশবিস্তার করে।
চট্টগ্রামের জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম জানান, গত জুন মাসে চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলায় ডেঙ্গু রোগী ছিল ১২২ জন। জুলাই মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত সেই সংখ্যা বেড়ে ১৬৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকায় ৬১ জন, বিভিন্ন উপজেলায় ৭৪ জন এবং অন্যান্য জেলা থেকে চিকিৎসা নিতে আসা ২৯ জন রোগী রয়েছেন।
তিনি বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি এমএসএফসহ বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার সমন্বিত কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ফরিদা|চখ