চট্টগ্রামে বন্দর ইজারা বন্ধে সাংবাদিক আবুল মোমেনসহ ১১ বিশিষ্ট ব্যক্তির প্রতিবাদ
নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) এবং চিটাগাং কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধের দাবি জানিয়েছে বন্দর রক্ষা কমিটি চট্টগ্রাম।
সোমবার (১৩ জুলাই) বন্দর রক্ষা কমিটি চট্টগ্রামের পক্ষ থেকে কবি ও সাংবাদিক আবুল মোমেন, প্রকৌশলী সুভাষ চন্দ্র বড়ুয়া, কমরেড মো. শাহ আলম, কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার, সদস্যসচিব ফজলুল কবির মিন্টু, অ্যাডভোকেট মনিরুল আলম, অ্যাডভোকেট ইকবাল হোসেন, শ্রম সংস্কার কমিশনের সাবেক সদস্য তপন দত্ত, শ্রমিকনেতা কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার, ইফতেখার কামাল খান, জাতীয়তাবাদী ডক শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিমসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ এই উদ্যোগের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন।
বিবৃতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নেওয়া এনসিটি ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও এগিয়ে নিতে চেয়েছিল। কিন্তু দেশব্যাপী গণপ্রতিবাদ ও প্রতিরোধের মুখে সরকার সেই সিদ্ধান্ত স্থগিত করতে বাধ্য হয়।
অথচ জনগণের ভোটে নির্বাচিত বর্তমান সরকার জনমতের প্রতি যথাযথ গুরুত্ব না দিয়ে তড়িঘড়ি করে শুধু এনসিটি নয়, সিসিটিও ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নিচ্ছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, এতদিন আলোচনা সীমাবদ্ধ ছিল কেবল এনসিটি ইজারা দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে। কিন্তু এখন এনসিটির পাশাপাশি সিসিটিও ইজারা দেওয়ার উদ্যোগের খবর জনমনে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। একটি নবনির্বাচিত সরকারের সামনে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ, অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকারমূলক কাজ থাকা সত্ত্বেও দেশের অন্যতম কৌশলগত সম্পদ দুটি টার্মিনাল ইজারা দেওয়ার বিষয়ে এত তাড়াহুড়ো কেন—সে প্রশ্ন এখন সর্বস্তরের মানুষের।
নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে এনসিটি ও সিসিটি ইজারা দেওয়ার সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করে সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট ঘোষণা দেওয়ার আহ্বান জানান। তাঁরা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতি, জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌম স্বার্থের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে সংশ্লিষ্ট একটি কৌশলগত অবকাঠামো। এমন গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সম্পদ দীর্ঘমেয়াদে ইজারা দেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত কেবল কয়েকজন মন্ত্রী বা আমলার অনুমোদনের বিষয় হতে পারে না। এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে সংসদে বিস্তারিত আলোচনা, বিশেষজ্ঞদের মতামত গ্রহণ এবং সর্বোপরি জনগণের মতামতের প্রতিফলন নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ সতর্ক করে বলেন, জনগণের মতামত উপেক্ষা করে যদি দেশের কৌশলগত সম্পদ নিয়ে কোনো চুক্তি সম্পাদিত হয়, তবে দেশপ্রেমিক জনগণ তা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করবে। ইতিহাসে এ ধরনের চুক্তি একটি ‘কালো চুক্তি’ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা কোনো গণতান্ত্রিক ও জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের জন্য কাম্য হতে পারে না।