chattolarkhabor
চট্টলার খবর - খবরের সাথে সারাক্ষণ

ফটিকছড়ির নিম্নাঞ্চল এখনো পানির নিচে, কমছে পানি

১০ দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ফটিকছড়ির প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। সোমবার সকাল থেকে বৃষ্টি বন্ধ হওয়ায় বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে। তবে এখনো নিম্নাঞ্চলে বন্যার পানি রয়েছে। কিছু কিছু এলাকায় গ্রামীন সড়ক ও ফসলী জমি এখনো পানির নিচে তলিয়ে আছে। উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া হালদা ও ধুরুং নদীর পানি কিছুটা কমতে শুরু করেছে।

সোমবার সকালে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, উত্তর ফটিকছড়ির সুয়াবিল, হারুয়ালছড়ি, সুন্দরপুর, পাইন্দং, নারায়ণহাট, ভূজপুর ও দাঁতমারা ইউনিয়নের অধিকাংশ নিম্নাঞ্চল থেকে পানি কমতে শুরু করেছে। দক্ষিণ ফটিকছড়ির রোসাংগিরী, সমিতির হাট, ধর্মপুর ও জাফতনগর ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের কিছু কিছু জায়গায় এখনো বন্যার পানি রয়েছে।

বন্যাকবলিত ফটিকছড়ির মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার গুইমারা রিজিয়নের লক্ষীছড়ি জোনের উদ্যোগে এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয়ের সহযোগিতায় ২টি বিশেষ মেডিকেল ক্যাম্পেইন পরিচালিত হচ্ছে। ক্যাম্পেইনে বন্যাদুর্গত মানুষের মাঝে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেয়া হচ্ছে। তাছাড়া প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ এবং স্বাস্থ্যবিষয়ক বিভিন্ন পরামর্শ ও সচেতনতামূলক সেবা প্রদান করছে।

ফটিকছড়ি উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, জরুরি অবস্থা বিবেচনায় উপজেলার ১৯টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভায় ১টি করে মোট ২১টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছিল। সেসব আশ্রয়কেন্দ্র থেকে মানুষ বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে। এছাড়া প্রতিটি ইউনিয়নে গঠিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি কাজ করে যাচ্ছে। ফায়ার সার্ভিস ও স্বেচ্ছাসেবী দলগুলো বিভিন্ন সেবা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম জানান, বন্যা পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হচ্ছে। কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক খবরাখবর নেওয়া হচ্ছে। নদ-নদী ও অধিকাংশ এলাকায় বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে। নিম্নাঞ্চলের কিছু কিছু জায়গায় ও ফসলী জমিতে এখনো পানি রয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সহায়তায় ৫ হাজারের ও অধিক বন্যাদুর্গত পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। বন্যার পানি সম্পূর্ণ সরে গেলে বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরুপন করা সম্ভব হবে। সেনাবাহিনী কর্তৃক পরিচালিত বিশেষ মেডিকেল ক্যাম্পেইন চলমান রয়েছে। ক্যাম্পেইনে বন্যাদুর্গত মানুষের মাঝে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেয়া হচ্ছে। ত্রাণ কার্যক্রম ও চলমান রয়েছে।

 

 

মআ/চখ

এই বিভাগের আরও খবর