chattolarkhabor
চট্টলার খবর - খবরের সাথে সারাক্ষণ

চট্টগ্রামে বৃষ্টিতে ধুয়ে মুছে শেষ হবে এডিস লার্ভা ?

চট্টগ্রামের টানা ভারী বৃষ্টিপাতে ডুবে গেছে চারপাশ । দক্ষিণ চট্টগ্রাম সবচেয়ে বেশি প্লাবিত হয়েছে। আবার চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে ৮০ ভাগ পানি নামতে শুরু করেছে। এতে কি মুষলধারে বৃষ্টিতে এডিসের লার্ভা ধুয়ে মুছে শেষ হয়ে যাবে ? এমন প্রশ্ন নগরীর স্থানীয় বাসিন্দাদের। 

অপরদিেক এ কারণে মশার উপদ্রব সেই সঙ্গে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরোও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। যদি তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতা বাড়তে থাকে তাহলে মশার বিস্তার ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়বে বলেও জানা গেছে।

আবহাওয়া অধিদফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সামনের মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আরও দুই দিন চট্টগ্রামে হালকা থেকে ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে।

এডিস মশা যেহেতু পরিষ্কার পানিতে বেশি জন্মায় তাই বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন স্থানে নতুন করে জমা স্বচ্ছ পানিতে এডিসের উপদ্রব বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ববিদ চন্দ্রিমা ইমতিয়া।

কেননা বৃষ্টির পানি জমা স্থানগুলো এডিস মশার লার্ভার বিস্তার ও প্রজননের সবচেয়ে অনুকূল স্থান।যেখানে ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার লার্ভা খুব বেশি মাত্রায় জন্মায়।

এডিস মশার বিস্তার করবে কি করবেনা তা নির্ভর করছে কী হারে বৃষ্টিপাত হচ্ছে তার ওপর- এমনটা চট্টগ্রােমের স্থানীয়দের অনেেক মনে করেন ,

তাদের মতে, “মুষলধারে বৃষ্টিতে লার্ভা ধুয়ে মুছে শেষ হয়ে যাবে। মশা কমবে সেইসঙ্গে ডেঙ্গুর প্রকোপও কমবে। অতিবৃষ্টির কারণে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ধীরে ধীরে হ্রাস পাবে। তবে থেমে থেমে বৃষ্টি হলে মশা বাড়বে, ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়বে।”

কীটতত্ত্ববিদ মিস ইমতিয়া (বা ড. চন্দ্রিমা ইমতিয়া) হলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন কীটতত্ত্ববিদ। তিনি মূলত এডিস মশার বিস্তার, প্রজনন এবং ডেঙ্গু রোগের ঝুঁকি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে বিশেষজ্ঞ মতামত ও সতর্কতা প্রদান করেন। কীটতত্ত্ববিদ মিস ইমতিয়া, তার এই যুক্তির সঙ্গে পুরোপুরি একমত হতে পারেননি।

তার মতে, “বৃষ্টি থেমে থেমে হচ্ছে নাকি মুষলধারে হচ্ছে, সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। কেননা বৃষ্টিতে মশার লার্ভা ধুয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা কম। বরং এতে মশার ওষুধ ধুয়ে যেতে পারে। যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে।”

এই দুই বিশেষজ্ঞই মনে করেন, মশার উপদ্রব বাড়বে নাকি কমবে সেটা পুরোটাই নির্ভর করে তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার ওপরে।

আবহাওয়া অধিদফতরের ওয়েবসাইট থেকে পাওয়া সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী চট্টগ্রাম বিভাগে ১০ জুলাই পর্যন্ত চট্টগ্রামে তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ৩০.২ ডিগ্রী সেলসিয়াস এবং বর্তমানে চট্টগ্রামে বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা সাধারণত ৮৯% থেকে ৯৫% এর মধ্যে ওঠানামা করছে। বর্ষাকাল হওয়ার কারণে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশ বেশি রয়েছে, যা ভ্যাপসা গরমের অনুভূতি তৈরি করে। আগামী দুই দিন যা অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

এমন গরম আবহাওয়ার বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকলেও মশা বাড়বে বলে জানিয়েছেন তারা।

জানা গেছে, তাপমাত্রা ২৫ থেকে ৩০ ডিগ্রী সেলসিয়াস ও বায়ুমণ্ডলের ৭০% থেকে ১০০% আর্দ্রতা হল এডিস মশা প্রজননের জন্য উপযোগী আবহাওয়া।

এ কারণে চলতি বছর বর্ষা আসার আগেই অর্থাৎ মার্চ মাস থেকে বৃষ্টি হওয়ায় মশার উপদ্রব তখন থেকেই বাড়তে শুরু করে।

বাংলাদেশের আবহাওয়া অনুযায়ী জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অর্থাৎ বর্ষার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত হল ডেঙ্গুর জীবাণুবাহী এডিস মশার প্রজনন মৌসুম।

সে হিসেবে আগস্ট মাসের পর থেকে এডিস মশার উপদ্রব কমার কথা, কেননা এই সময়ে তাপমাত্রাও কমতে থাকে। এক পর্যায়ে সেপ্টেম্বরের শেষে মশা হাইবারনেশনে চলে যায়।

সেপ্টেম্বরের পর থেকে তাপমাত্রা নামার কথা থাকলেও এখন আবহাওয়া আর আগের মতো নেই। তাপমাত্রা খুব ধীরে ধীরে নামছে।

তাই যদি এই বৃষ্টিতেও তাপমাত্রা না কমে এবং বৃষ্টি থামার পরই আমার গরম পড়ে যায়, তাহলে মশাও বাড়তে থাকবে বলে আশঙ্কা করছেন মিস ইমতিয়া।

দেশে ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ৬৬ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৭ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১৯ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ২৪ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৩৩ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১৫ জন, রাজশাহী বিভাগে ১২ জন, সিলেট বিভাগে দুইজন ও খুলনা বিভাগে ৪০ জন রয়েছেন।

একই সময়ে ১৯৯ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর এ পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ছয় হাজার ৮৭৫ জন।

 

চিকিৎসা নিতে আসা ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা একদিকে বাড়ছে অপরদিকে সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাতের কারণে তা আবার বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

চন্দ্রিমা ইমতিয়াজ জানান, এডিস মশার বংশ বৃদ্ধিতে সহায়ক আবহাওয়ার কারণে এডিস মশার প্রকোপ আবারও বেড়ে যেতে পারে।

জরুরি ভিত্তিতে মশা দমনে আগাম ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও খারাপ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।ে

এইচএম/চখ

এই বিভাগের আরও খবর