চট্টগ্রামে পানিবন্দি সাড়ে ৪ লাখ মানুষ
টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম জেলায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। জেলা প্রশাসনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জেলার অন্তত সাড়ে চার লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবিক সংকটে পড়েছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাতকানিয়া উপজেলা, যেখানে প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এছাড়া চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, বাঁশখালী ও বোয়ালখালীর বিস্তীর্ণ এলাকাও প্লাবিত হয়েছে।
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, গত পাঁচ দিনের টানা বৃষ্টিতে গত চার দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের মুখোমুখি হয়েছে চট্টগ্রাম। পাহাড়ি ঢল ও জলাবদ্ধতার কারণে জেলার লাখো মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। তিনি বলেন, মানুষের জীবন রক্ষাই এখন প্রশাসনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এবং সবাইকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার আহ্বান জানান।
দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের অধীন সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর সাপ্তাহিক ছুটিসহ সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। জেলার প্রতিটি উপজেলা এবং জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে ২৪ ঘণ্টার কন্ট্রোল রুম চালু রেখে উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ ও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, দুর্গত মানুষের সহায়তায় ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় থেকে ২০০ মেট্রিক টন চাল ও ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে আরও ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। উপজেলা প্রশাসনের চাহিদা অনুযায়ী এসব ত্রাণ দ্রুত বিতরণ করা হচ্ছে।
উদ্ধার কার্যক্রম জোরদারে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত সাতকানিয়ার জন্য ১০টি স্পিডবোটের চাহিদা জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছে জেলা প্রশাসন। বর্তমানে নৌকার মাধ্যমে দুর্গত এলাকায় উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসন, বিভিন্ন সরকারি সংস্থা, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট, আনসার বাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ে বিশেষ উদ্ধার ও ত্রাণ দল মাঠে কাজ করছে।
এদিকে, টানা বর্ষণ অব্যাহত থাকায় নিম্নাঞ্চলে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আরও ত্রাণ ও উদ্ধার সহায়তা বাড়ানো হবে।
প্রয়োজনে এটি দৈনিক পত্রিকার লিড নিউজ বা বিশেষ রিপোর্ট আকারেও আরও বিস্তৃত করে দিতে পারি।
ফরিদা|চখ