রথযাত্রা উৎসব ১৬ জুলাই
বর্ষার স্নিগ্ধ আবহে আবারও মুখর হয়ে উঠতে যাচ্ছে সিলেট। ‘জয় জগন্নাথ’ ধ্বনি, হরিনাম সংকীর্তন, সুসজ্জিত রথ, লাখো ভক্তের পদচারণা এবং শতাধিক আইটেম মহাপ্রসাদের সুবাসে উৎসবের নগরে পরিণত হবে সিলেট।
আগামী বৃহস্পতিবার ১৬ জুলাই থেকে ২৪ জুলাই আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন), যুগলটিলা, সিলেটের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হবে শ্রী শ্রী জগন্নাথদেবের ৯ দিনব্যাপী রথযাত্রা।
জাতীয় পর্যায়ের অতিথিদের অংশগ্রহণ, বৈচিত্র্যময় কর্মসূচি এবং বিপুল ভক্তসমাগমে সিলেটের অন্যতম বৃহৎ রথযাত্রা মহা উৎসবে পরিণত হবে, প্রত্যাশা আয়োজকদের।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেব’র রথযাত্রার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক।
একই দিন বিকেল ৩টায় যুগলটিলা মন্দির থেকে শ্রীশ্রী জগন্নাথ, বলদেব ও সুভদ্রার সুসজ্জিত রথ নগরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করবে।
পরদিন শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) হুমায়ুন কবির আহমদ।
এদিন ভজন-কীর্তন, ইসকন ইয়ুথ ফোরামের উদ্যোগে সেমিনার, সনদপত্র বিতরণ, জগন্নাথদেবের মহিমা কীর্তন এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।
মহোৎসবের সমাপনী দিন ২৪ জুলাই (শুক্রবার) উল্টো রথযাত্রায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা সরকারের শিল্প ও বাণিজ্য এবং পাট ও বস্ত্র মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
ওইদিন বিকেল ৩টায় যুগলটিলা মন্দির থেকে উল্টো রথযাত্রা শুরু হয়ে নগর প্রদক্ষিণ শেষে মন্দিরে ফিরে আসবে। এরপর সন্ধ্যায় আরতি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হবে ৯ দিনের এই মহোৎসব।
রথযাত্রার মূল কর্মসূচির আগে আগামি বুধবার (১৫ জুলাই) সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে গুন্ডিচা মন্দির মার্জন। শাস্ত্রীয় এই আয়োজনের মাধ্যমে ভক্তরা রথযাত্রার প্রস্তুতি সম্পন্ন করবেন।
১৬ জুলাই দুপুর ১২টায় মহাভোগরাগ ও ভোগারতি দর্শনের মাধ্যমে উৎসবের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি সূচিত হবে। এরপর আলোচনা সভা, মহাপ্রসাদ বিতরণ এবং বর্ণাঢ্য রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। সন্ধ্যায় গৌরসুন্দরের আরতি এবং ভক্তিবেদান্ত ক্লাসিক্যাল মিউজিক একাডেমির পরিবেশনায় ভজন সঙ্গীতানুষ্ঠান থাকবে।
১৮ থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত প্রতিদিন মহাভোগরাগ, ভোগারতি, জগন্নাথদেবের মহিমা কীর্তন, ভজন-কীর্তন, গৌর আরতি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকবে। তন্মধ্যে ১৯ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে নামহট্ট ‘বিনোদন আনন্দধারা’, ২০ জুলাই (হেরা পঞ্চমী) বিতর্ক অনুষ্ঠান, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বৈদিক নাটক, ২১ ও ২২ জুলাই বৈদিক নাটক এবং ২৩ জুলাই বিশেষ ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।
আয়োজকরা জানান, রথযাত্রা শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়; এটি সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ব, সেবা ও মানবিক মূল্যবোধের এক মহামিলন। প্রতি বছর এই উৎসবকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজারো ভক্ত ও দর্শনার্থী সিলেটে আসেন।
আশা করা হচ্ছে, এবারও কয়েক হাজার ভক্তের সমাগম হবে। ভক্তদের জন্য প্রতিদিন মহাপ্রসাদের ব্যবস্থা, সুশৃঙ্খল নিরাপত্তা, চিকিৎসা সহায়তা, স্বেচ্ছাসেবক কার্যক্রম এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
এমনটি জানিয়ে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) বাংলাদেশের সহ-সভাপতি ও ইসকন, যুগলটিলা, সিলেটের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ ভক্তি অদ্বৈত নবদ্বীপ স্বামী মহারাজ বলেন, শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা হচ্ছে ভক্তি, প্রেম ও সেবার উৎসব। রথের দড়ি টানা, হরিনাম সংকীর্তনে অংশগ্রহণ এবং মহাপ্রসাদ গ্রহণের মাধ্যমে প্রত্যেকেই ভগবানের বিশেষ কৃপা লাভের সুযোগ পান। তাই এই মহোৎসবে ভক্তদের মন্দিরে এসে জগন্নাথদেবের দর্শন ও আশীর্বাদ গ্রহণের জন্য আন্তরিক আহ্বান জানান তিনি।
এইচএম/চখ