টানা বর্ষণে পাহাড় ধস: ঝুঁকিতে থাকা ১’শত পরিবারের পাশে ইপসা
থাকা চট্টগ্রাম মহানগর ও বাঁশখালীর ১০০টি পরিবারকে আগাম আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল এ্যাকশন (ইপসা)। জার্মান ফেডারেল ফরেন অফিসের অর্থায়নে এবং সেভ দ্য চিলড্রেনের সহযোগিতায় বাস্তবায়িত ‘Child-Centred Anticipatory Action for Better Preparedness of Communities and Local Institutions in Northern and Coastal Areas of Bangladesh’ প্রকল্পের আওতায় এ সহায়তা দেওয়া হয়।
প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, আবহাওয়া ও দুর্যোগের পূর্বাভাস বিশ্লেষণের ভিত্তিতে ভূমিধসের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়ায় ‘নো রিগ্রেট (No Regret) পলিসি’ অনুসারে আগাম প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়। এর অংশ হিসেবে ৮ জুলাই চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকায় এবং ৯ জুলাই বাঁশখালী উপজেলার পাহাড়ধস-ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে বসবাসকারী ১০০টি পরিবারকে নগদ সহায়তা প্রদান করা হয়।
সহায়তাপ্রাপ্তদের মধ্যে ৮৪টি পরিবারকে শর্তহীন নগদ সহায়তা (Unconditional Cash Assistance) এবং ১৬ জন ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তাকে শর্তযুক্ত নগদ সহায়তা (Conditional Cash Assistance) হিসেবে জনপ্রতি ৬ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, এই সহায়তার মাধ্যমে পরিবারগুলো সম্ভাব্য দুর্যোগের আগেই নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়া, খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহ এবং জীবিকা সুরক্ষার উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারবে।পাহাড়ধসের পূর্বাভাস পাওয়ার পর প্রকল্পের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকেরা ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি বসতিতে বসবাসকারী পরিবারগুলোর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেন। পাশাপাশি সচেতনতামূলক প্রচারণা, ঝুঁকি মূল্যায়ন, নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পরামর্শ এবং স্থানীয় প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সঙ্গে সমন্বিত প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
বর্তমানে প্রকল্পটি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৭ নং পশ্চিম ষোলশহর, ৮ নং শুলকবহর, ৯ নং উত্তর পাহাড়তলী ও ১৪ নং লালখান বাজার ওয়ার্ডে বাস্তবায়িত হচ্ছে। একই সঙ্গে বাঁশখালী উপজেলার পুকুরিয়া, সাধনপুর, কালীপুর ও বৈলছড়ি ইউনিয়নেও কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
সহায়তাপ্রাপ্তদের একজন দ্বীন মোহাম্মদ বলেন, “২০২৩ সালে চট্টগ্রামের ষোলশহর এলাকায় পাহাড়ধসে আমার ছেলে আবু রায়হান নিহত হয়। সে সময় আর্থিক সংকটের কারণে পরিবার নিয়ে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে পারিনি। পাহাড়ধস কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তা আমি নিজের জীবনে অনুভব করেছি। তিনি মনে করেন আগাম এই সহায়তা ঝুঁকির সময়ে পাহাড়ে বসবাসরত মানুষদের নিরাপদ সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবে।
উল্লেখ্য প্রকল্পের আওতায় ইতোপূর্বেও (২০২৫ সালে) সংশ্লিষ্ট এলাকার বহু পরিবারকে নগদ সহায়তা, হাইজিন কিট ও কিচেন কিট প্রদান করা হয়েছে।
এইচএম/চখ