chattolarkhabor
চট্টলার খবর - খবরের সাথে সারাক্ষণ

৩৬ বছর পর শেষ ষোলো থেকে বিদায় ব্রাজিলের

প্রথমার্ধের পেনাল্টি মিসের খেসারত শেষ পর্যন্ত চরমভাবেই দিতে হলো পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে। নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর হাইভোল্টেজ ম্যাচে সেলেসাওদের ২-১ ব্যবধানে স্তব্ধ করে প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার ঐতিহাসিক গৌরব অর্জন করেছে নরওয়ে। 

আর্লিং হালান্ডের জোড়া গোলের বিপরীতে শেষ মুহূর্তে নেইমার একটি গোল পরিশোধ করলেও কেবল ব্রাজিলের বিদায়ের ব্যবধানই কমিয়েছে।

এর আগে গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর দুই দলই বেশ সতর্কভাবে দ্বিতীয়ার্ধের খেলা শুরু করে। ম্যাচের ৫৯তম মিনিটে ব্রাজিলের সামনে ডেডলক ভাঙার সুবর্ণ সুযোগ আসে। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের চমৎকার থ্রু-বল থেকে নরওয়ের বক্সে একেবারে একা বল পেয়ে যান সদ্য মাঠে আসা বদলি স্ট্রাইকার এনড্রিক। 

তবে তার দুর্বল শট গোলপোস্টের বাইরে দিয়ে চলে গেলে হতাশ হয় সেলেসাও শিবির। অন্যদিকে ৬২তম মিনিটে ব্রাজিলের রায়ানের দূরপাল্লার শট দারুণভাবে রুখে দিয়ে নরওয়ের ত্রাতা হয়ে দাঁড়ান গোলরক্ষক অরজান ন্যাল্যান্ড।

খেলার গতি পরিবর্তন করতে ম্যাচের ৬৭ মিনিটে গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লিকে তুলে নিয়ে মাঠে নেইমারকে নামান ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি। তবে নেইমার মাঠে নেমেও ব্রাজিলের আক্রমণে তেমন ধার বাড়াতে পারেননি।

ম্যাচের ডেডলক ভাঙে ৭৯তম মিনিটে। বদলি খেলোয়াড় শ্যেল্ডেরাপের বাঁ প্রান্ত থেকে বাড়ানো নিখুঁত ক্রসে লাফিয়ে উঠে ডিফেন্ডার গ্যাব্রিয়েলকে পরাস্ত করেন নরওয়ের অধিনায়ক আর্লিং হালান্ড। তাঁর জোরালো ও দর্শনীয় হেড ব্রাজিলের গোলরক্ষক অ্যালিসনকে ফাঁকি দিয়ে জালে জড়ালে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় নরওয়ে। এই গোলের মাধ্যমে ইউরোপীয় ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপের প্রথম চার ম্যাচের প্রতিটিতে গোল করার অনন্য কীর্তি গড়েন হালান্ড।

পিছিয়ে পড়ে ব্রাজিল যখন মরিয়া হয়ে সমতায় ফেরার চেষ্টা করছিল, ঠিক তখনই ৮৬ মিনিটে আবারও নরওয়ের গোলরক্ষক ন্যাল্যান্ডের অতিমানবীয় সেভে গোলবঞ্চিত হয় তারা। এনড্রিকের শট ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে লুপ আকারে টপ কর্নার দিয়ে জালে জড়াতে নিলে ন্যাল্যান্ড পেছনে দৌড়ে তা তালুবন্দি করেন।

নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে (৯০ মিনিট) ব্রাজিলকে ম্যাচ থেকে পুরোপুরি ছিটকে দেন হালান্ড। আবারও শ্যেল্ডেরাপের অ্যাসিস্ট থেকে বক্সের ভেতর বল পান হালান্ড। প্রথম টাচে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দারুণ এক নিচু শটে অ্যালিসনকে পরাস্ত করে নরওয়েকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন এই ম্যানচেস্টার সিটি স্ট্রাইকার। এই গোলের মাধ্যমে চলতি বিশ্বকাপে ৭ গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে কিলিয়ান এমবাপ্পে ও লিওনেল মেসির পাশে বসলেন হালান্ড।

ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে নাটকীয়তা আরও বাড়ে। পরাজয় নিশ্চিত জেনে মেজাজ হারিয়ে ওডেগার্ডকে ফাউল করে ৯৬ মিনিটে হলুদ কার্ড দেখেন নেইমার। তবে এর দুই মিনিট পরই (৯৮ মিনিট) নরওয়ের বক্সের ভেতর ক্যাসেমিরোকে কনুই দিয়ে আঘাত করেন ওস্টিগার্ড। ফলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। ম্যাচের ৯০+১০ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্যবধান ২-১ করেন নেইমার।

তবে নেইমারের এই গোল ব্রাজিলের বিদায় ঠেকাতে পারেনি। পেনাল্টির পরপরই রেফারির শেষ বাঁশিতে ঐতিহাসিক জয়ের উল্লাসে মেতে ওঠে নরওয়ে। এরই মাধ্যমে ৩৬ বছর পর নকআউট বা রাউন্ড অফ সিক্সটিন থেকে বিদায় নেয় ব্রাজিল।

আগামী ৬ জুলাই মিয়ামিতে অনুষ্ঠিতব্য কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ড অথবা মেক্সিকোর মুখোমুখি হবে তারা। আর বিদায় নিয়ে ঘরে ফিরতে হচ্ছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।

ফরিদা|চখ

এই বিভাগের আরও খবর