chattolarkhabor
চট্টলার খবর - খবরের সাথে সারাক্ষণ

কে হচ্ছেন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ?

চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান (প্রশাসক) পদে কে আসছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনা। সারাদেশের অধিকাংশ জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ সম্পন্ন হলেও চট্টগ্রামের বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত না হওয়ায় জল্পনা-কল্পনা আরও বেড়েছে। বিএনপি এবং দলটির সহযোগী বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের মধ্যে এ পদকে ঘিরে চলছে ব্যাপক লবিং। কেউ কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছেন, কেউ আবার ঢাকায় অবস্থান করে তদবির চালাচ্ছেন বলে রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জেলা হওয়ায় চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের নেতৃত্ব নিয়ে সরকারও অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। প্রশাসনিক দক্ষতা, রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা, আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা এবং পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি বিবেচনায় নিয়েই এবার প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হতে পারে। ফলে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সমীকরণ বদলে যাওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে।

বর্তমানে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের পদ শূন্য রয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগ সারাদেশে দুই দফায় ৫৬টি জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দিলেও চট্টগ্রামকে সেই তালিকার বাইরে রাখা হয়। এরপর থেকেই সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হয়েছে।

জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক গোলাম আকবর খোন্দকার। দলীয় সূত্র বলছে, প্রথমদিকে তাকে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হলেও তিনি ব্যক্তিগত কারণে আগ্রহ দেখাননি। এরপর বিকল্প প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় আরও রয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা এস এম ফজলুল হক, দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ মোহাম্মদ ইদ্রিস মিয়া, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আলহাজ আলী আব্বাস, যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল মোস্তফা আমিন, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্যসচিব লায়ন মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, বাঁশখালীর বিএনপি নেতা মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শেখ মোহাম্মদ মহিউদ্দিন এবং সাবেক সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট ইফতেখার মহসিন। এ ছাড়া আরও কয়েকজন প্রবীণ ও ত্যাগী নেতার নাম কেন্দ্রীয় পর্যায়ে বিবেচনায় রয়েছে বলে দলীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্ভাব্য প্রার্থীদের অনেকেই ইতোমধ্যে নিজেদের জীবনবৃত্তান্ত (বায়োডাটা) ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিবরণ কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে জমা দিয়েছেন। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এ নিয়ে ঢাকায় ব্যাপক তৎপরতা চলছে। কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগের পাশাপাশি বিভিন্ন পর্যায়ে সুপারিশও নেওয়া হচ্ছে।

বিএনপির একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এবার কেবল রাজনৈতিক পরিচয় নয়, আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা, সাংগঠনিক গ্রহণযোগ্যতা, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং জনসম্পৃক্ততাকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ফলে শেষ পর্যন্ত কে দায়িত্ব পাবেন, তা নিশ্চিত করে বলা কঠিন।

চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ জেলার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, সড়ক, কালভার্ট, শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান। নির্বাচিত পরিষদ না থাকায় প্রশাসকের হাতেই থাকবে সব প্রশাসনিক ও আর্থিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা। তাই এই পদকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক আগ্রহও অনেক বেশি।

স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞদের মতে, জেলা পরিষদে দ্রুত নেতৃত্ব না এলে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন ও বাস্তবায়নে বিলম্ব হতে পারে। বিশেষ করে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে এর প্রভাব পড়তে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অন্তর্বর্তী প্রশাসনিক কাঠামো শক্তিশালী করতে সরকার গুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে অভিজ্ঞ ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের দায়িত্ব দিতে চায়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসকদের মাধ্যমেই জেলা পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক নিয়োগ শুধু একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, এটি চট্টগ্রামে বিএনপির অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক ভারসাম্য ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশলেরও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করবে। তাই শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নানা সমীকরণ ও আলোচনা চলবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

ফরিদা|চখ

এই বিভাগের আরও খবর